রবিবার, ০৮:১৭ অপরাহ্ন, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

নুর পর্যবেক্ষণে, কেন্দ্রীয়সহ জাপার ৬ কার্যালয়ে হামলা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬ বার পঠিত

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এক দল বিক্ষোভকারী এ হামলা চালায়। ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। জলকামান দিয়ে নেভানো হয় আগুন।
এর আগে শুক্রবার রাতে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণঅধিকারের সভাপতি নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি।

এ হামলার রেশ না কাটতেই গতকাল ফের হামলা-ভাঙচুর ঘটেছে। এ ছাড়া রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, টাঙ্গাইল, গাইবান্ধা, খুলনাসহ আরও কয়েকটি জেলায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এ ছাড়া নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দুপুর ১টার দিকে তিনি নুরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শিগগির বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হবে। প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধি ও তদন্তের সময় উল্লেখ থাকবে। এ ছাড়া নুরকে লাঠিপেটার ঘটনায় পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

রেহাই পাবে না কেউ: সরকার
নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, এ ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। দ্রুততার সঙ্গে বিচার সম্পন্ন করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার এ হামলাকে ব্যক্তি নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনার ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য করছে। অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের জনগণকে আশ্বস্ত করছে, এই নৃশংস ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে সম্পন্ন করা হবে। প্রভাব বা পদমর্যাদা যা-ই হোক না কেন, জড়িত কোনো ব্যক্তি জবাবদিহি থেকে রেহাই পাবে না। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে বিচার করা হবে।

তাৎক্ষণিকভাবে নুর ও তাঁর দলের অন্য আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এটি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজনে তাদের রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানো হবে।

বিবৃতিতে নুরের রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা হিসেবে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর সেই ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।

ফের হামলা-ভাঙচুর
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভাঙচুর, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে এক দল ব্যক্তি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিজয়নগরে কার্যালয় প্রথমে ভাঙচুর চালায়। এরপর নিচতলার একটি কক্ষের শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে আগুন দেয়। সরেজমিন দেখা গেছে, নিচতলার কক্ষের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লিফলেট থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ভেতরে অন্ধকার। বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ। কার্যালয়ের সামনে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের নামফলক ভাঙচুর করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সদস্যরা জানান, জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের উল্টো দিকে বিজয়নগরে গণপরিষদ অধিকারের কার্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল বিকাল ৪টা থেকে। সেখানে সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন, কাকরাইল ঘুরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে এলে পুলিশের বাধায় ফিরে যায়। তবে এর কয়েক মিনিটের মধ্যে তারা ঘুরে এসে প্রথম দফায় হামলা চালায়। মিছিল নিয়ে তারা বাইরে থেকে কার্যালয় ভাঙচুর করে। সে সময় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর ঘণ্টাখানেক পর দ্বিতীয় দফায় কার্যালয়ের উল্টো দিকের গলি থেকে এসে এক দল ব্যক্তি আবার হামলা চালায়। তারা আগুন দেয়। উপস্থিত পুলিশ তাদের হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের হটিয়ে দিয়ে জলকামান দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সরেজমিন দেখা গেছে, জাতীয় পার্টির কার্যালয় এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। গণঅধিকার পরিষদ এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে চলে গেছেন। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা অফিসটির সামনে অবস্থান করছিলেন।

রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম সমকালকে বলেন, গণঅধিকার পরিষদের একটা কর্মসূচি ছিল। পরে ওরা আগুন দিয়েছিল। সেখানে আমাদের একটা জলকামান ছিল। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে জলকামান ব্যবহার করে আগুন নিভিয়েছি। ছত্রভঙ্গ করতে কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।

জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং জাতীয় পার্টিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। গতকাল বিকেলে বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসব দাবি জানান সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। নুরের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তাদের যথাযথ বিচার দাবি করেন।

রাশেদ আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন বানচালের সুযোগ নেই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চক্রান্ত করার সুযোগ নেই। আরেকটি এক-এগারো সৃষ্টি করারও সুযোগ নেই।

সমাবেশে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, নুর-রাশেদের ওপর যা হয়েছে, এর প্রতিবাদ করার কিছু নেই। এখন প্রতিরোধ করতে হবে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, এ ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও এক কালো থাবা। করের টাকায় যারা পরিচালিত হয়, তাদের কিছু কুশীলব এখনও দিল্লির কথায় নাচানাচি করছে।

ভিপি নুরের ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম নুর বলেন, ‘এটি হামলা না, হত্যাচেষ্টা?’ দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

হামলায় জড়িত পুলিশ ও সেনাসদস্যদের বিচার দাবি 
নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ ও সেনাসদস্যদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

তাদের অন্য দাবিগুলো হলো– নুরসহ আহত সব নেতাকর্মীর তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি স্তরে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা; জাতীয় পার্টির সব কার্যক্রম অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা; ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা।

মেডিকেল বোর্ড গঠন
নুরুল হক নুরের চিকিৎসায় উচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। গতকাল সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, নুরুল হকের মাথায় আঘাত রয়েছে। তাঁর নাকের হাড় ভেঙে গেছে। এ কারণে শুক্রবার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল। আগেই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। জ্ঞান ফিরেছে। তবে ৪৮ ঘণ্টার আগে নুরুল হক আশঙ্কামুক্ত, সেটি বলা সম্ভব নয়। তাঁকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দেখতে গেলেন নেতারা
নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। দুপুরে তাঁকে দেখতে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে প্রত্যেকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। গায়ের জোরে তার মুখ বন্ধ করা যাবে না।

এ ছাড়া বেলা ১১টার দিকে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দেখতে যান। তিনি নুরের সর্বশেষ চিকিৎসা সম্পর্কে অবহিত হন। দুপুরের দিকে নুরকে দেখতে যান বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিকদার হারুন মাহমুদ ও কেন্দ্রীয় সংগঠক বাবর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। নুরকে দেখতে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

জেলায় জেলায় বিক্ষোভ, ভাঙচুর
নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। দুপুর ১টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর ও বাইরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর ও ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে গণঅধিকার পরিষদের মিছিল থেকে নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে এ ভাঙচুর চালান।

রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গাইবান্ধায় গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল হয়েছে খুলনা, বগুড়া, কিশোরগঞ্জ, রাজবাড়ী, চুয়াডাঙ্গা, দিনাজপুর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও পিরোজপুরের ভান্ডারিয়াসহ আরও কয়েকটি এলাকায়।

এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি সংগঠন। বিকেল ৪টার পর উত্তরায় জি এম কাদেরের বাসার সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। পরে জি এম কাদেরের কুশপুতুল পোড়ানো হয়।

গণঅধিকার পরিষদের দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। দুপুরে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজেদুর রহমান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জুনাইদ আল হাবিব।

ভাইরাল কনস্টেবল মিজানুর
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ দলটির নেতাকর্মীদের লাঠিপেটার ঘটনায় ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাওয়া লাল টি-শার্ট পরা ব্যক্তির পরিচয় জানা গেছে। তিনি রাজধানীর পল্টন থানার কনস্টেবল মিজানুর রহমান। তিনি ওই থানার ওসির গাড়িচালক। তবে পুলিশের দায়িত্বশীলরা দাবি করছেন, তারা এখনও ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে পারেননি।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ফেসবুকে পোস্টে লেখেন, ‘লাল টি-শার্ট পরিহিত ব্যক্তি যাকে পেটাচ্ছেন, তিনি নুরুল হক নুর নন, তিনি ছাত্রনেতা সম্রাট।’ রাশেদ ওই পুলিশ সদস্যের পরিচয়ও উল্লেখ করেন।

পল্টন থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তার সরকারি নম্বরে কল করে জানতে চাওয়া হয়, কনস্টেবল মিজানুর রহমান থানায় আছেন কিনা? না সূচক উত্তর পেয়ে আবার জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি ওসির গাড়িচালক কিনা? কর্মকর্তা জানান, মিজানুর ওসির গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। এরপর তাঁর মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কনস্টেবল মিজানুর রহমানকেই ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে নেতাকর্মীদের পেটাতে দেখা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সমকালকে বলেন, ভিডিওতে দেখা ওই ব্যক্তি পুলিশ সদস্য কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জাপার বিবৃতি 
গতকাল রাতে জাপার বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় লাইব্রেরির বই, গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ও আসবাব পুড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ, জলকামান এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে সন্ত্রাসীদের হটিয়ে দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। শুক্রবার কয়েক দফা সন্ত্রাসী হামলা এবং মশাল মিছিল নিয়ে আগুন দিতে চেয়েছিল তারা। জাতীয় পার্টি নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিরোধে গতকাল তারা আগুন দিতে পারেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com