নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক বাছাইয়ে উতরে গেছে বাংলাদেশ সল্যুশন পার্টি। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। দলের সভাপতি শামছুল হকের দাবি, ২৪ জেলায় তাদের কমিটি ও কার্যালয় আছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের ১৭টি জেলাও। শর্ত মেনে ১০০ উপজেলার ২০০ জন করে সমর্থকের সই ইসিতে জমাও দিয়েছে তারা। যদিও গাজীপুর ছাড়া অন্য কোনো জেলার দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা দিতে পারেননি সভাপতি শামছুল হক।
এই বাংলাদেশ সল্যুশন পার্টিসহ নিবন্ধনপ্রত্যাশী ২২টি দল ইসির প্রাথমিক যাচাইয়ে টিকেছে। এখন মাঠপর্যায়ে তদন্ত শেষে নিবন্ধনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অন্তত ১০টি দলের জেলা বা উপজেলায় কার্যালয় নেই। কার্যকরী কমিটির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি এসব দলের নেতারা।
নিবন্ধনের প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ অন্তত ১৫টি দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে সমকাল। এ সময় সবাই ইসির চিঠি পাওয়ার পর ঘাটতি পূরণ করার কথা জানান। নিবন্ধন পাওয়ার প্রত্যাশাও করেন তারা। পরে ইসিতে এসব দলের জমা দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ৪০টি জেলা-উপজেলা কার্যালয় নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়। গত ১২ আগস্ট থেকে দুই সপ্তাহজুড়ে ঠিকানা অনুযায়ী গিয়ে কোথাও কার্যালয়ের অস্তিত্ব মেলেনি। আবার কিছু স্থানে এক কক্ষের ছোট্ট কার্যালয়ের খোঁজ মিললেও তা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। বাসাবাড়িতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দলীয় কার্যালয় হিসেবে পরিচয়ও দেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারী ১৪৩ রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ ২২টি দলের ব্যাপারে মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই করছে ইসি। বাকি ১২১টি দল ইসির শর্ত পূরণ করতে না পারায় ছিটকে পড়ে।
নিবন্ধনের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে আগেই সাত সদস্যের কমিটি করেছিল ইসি। ৩১ আগষ্টের মধ্যে মাঠপর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সংশ্লিষ্ট জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ ২২টি দল হলো– ফরোয়ার্ড পার্টি, আমজনতার দল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি (বিজিপি), বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), মৌলিক বাংলা, বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় জনতা পার্টি, জনতার দল, জনতা পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-সিপিবি (এম), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-শাজাহান সিরাজ), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস), বাংলাদেশ সল্যুশন পার্টি এবং নতুন বাংলাদেশ পার্টি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নিবন্ধন পেতে রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, অন্তত এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর অফিস, অন্তত ১০০ উপজেলা বা মেট্রোপলিটন (মহানগর) থানায় কার্যালয় এবং প্রতিটি কার্যালয়ে ন্যূনতম ২০০ ভোটার তালিকাভুক্ত থাকতে হয়। এ ছাড়া কোনো দলের কেউ অতীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে বা আগের কোনো নির্বাচনে পাঁচ শতাংশ ভোট পেলেও নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়। এসব শর্তের সঙ্গে আরও কিছু নিয়মকানুন মেনে আবেদন করতে হয়েছিল দলগুলোকে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো দল নিজ প্রতীকে ভোটে প্রার্থী দিতে পারে না।
এনসিপির আবেদনে ৩০ জেলা কার্যালয়
গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের আবেদনে ৩০টি জেলা ও ১৩০টি উপজেলা কমিটি থাকার তথ্য দেয়। তবে প্রথম দফার বাছাইয়ে দলটির ২৫ উপজেলায় ২০০ সমর্থকের (ভোটার) সই না থাকাসহ ছয়টি ত্রুটি খুঁজে পেয়েছিল ইসি। পরে ইসির চিঠির জবাবে এসব ত্রুটি পূরণ করে কাগজপত্র আবার জমা দেয় দলটি।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সমকালকে বলেন, ইসি যেসব ত্রুটির কথা জানিয়েছিল, সেগুলো সংশোধন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া হয়েছিল। আশা করছি, নিবন্ধন পাব।
ইসিতে দেওয়া আবেদনে এনসিপির রাজশাহী মহানগর কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে গণকপাড়া, সাহেববাজার, রাজশাহী দেওয়া আছে। গত দুই সপ্তাহে কয়েকদফায় সেই ঠিকানায় গিয়ে এককক্ষের কার্যালয়টি বন্ধ পাওয়া যায়। এনসিপি’র মহানগর শাখার প্রধান সমন্বয়কারী মোবাশ্বের রাজ অবশ্য সমকালকে বলেন, ‘অফিস দিনে প্রয়োজন ছাড়া খোলা হয় না। তবে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর খোলা হয়। রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রতিদিন ২০ জন থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী অফিসে থাকেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখন থানা কমিটিগুলো গুছিয়ে নিচ্ছি। নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতিও আছে।’
এনসিপির চট্টগ্রামের সংগঠকের দায়িত্ব পালন করা আরাফাত আহমেদ রনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগরে তাদের দলের ৩২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও এখনও কোনো কার্যালয় নেওয়া হয়নি। আপাতত কোনো রেস্তোরাঁ বা সুবিধাজনক স্থানে দলীয় সভা করছেন তারা।
নতুন নিবন্ধনের আবেদনকারী দলগুলোর মধ্যে ফরিদপুর শহরে শুধু এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয় রয়েছে। ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট ১ নম্বর সড়কের একটি বাসার নিচতলায় এই অফিস ভাড়া নেওয়ার চুক্তিপত্রও করা হয়েছে। দলটির জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী নীলিমা দোলা ১৫ আগস্ট সকালে সমকালকে বলেন, ‘এই অফিসটাতেই নেতাকর্মীরা বসছেন, সাংগঠনিক কাজ করছেন।’
তবে গোয়ালচামট ১ নম্বর সড়কের ওই ঠিকানায় গিয়ে এনসিপির কোনো কার্যালয় বা সাইনবোর্ড না পাওয়ায় যোগাযোগ করা হয় জেলা এনসিপির সদস্য বায়েজিদ শহীদের সঙ্গে। তিনি জানান, শহরের টেপাখোলা এলাকায় দলের নতুন একটি অফিস নেওয়া হয়েছে। সাইনবোর্ডটি খুলে সেখানে নিয়ে সম্প্রতি স্থাপন করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া এনসিপির জেলা কমিটির আরেক সদস্য মো. শেখ বাচ্চুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টেপাখোলা সোনালী ব্যাংকের পাশের একতলার টিনশেড একটি অফিস নেওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্ট সেখানে গিয়ে দেখা যায়, অফিসটি নতুন করে রং করা হচ্ছে।
অন্যান্য দলের কী অবস্থা!
প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকে যাওয়া বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা সমকালকে জানান, ২৩ জেলা কমিটি ও কার্যালয় এবং ১০৬ উপজেলার ২০০ জন করে সমর্থকের সইসহ চুক্তিপত্র ইসিতে জমা দিয়েছেন তারা। এখন রাজনৈতিক কোনো বাধা না থাকলে অবশ্যই নিবন্ধন পাবে– এমন আশা দলটির।
দলটির দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট দুপুরে চট্টগ্রাম কোতোয়ালির বিআরটিসি টার্মিনাল মার্কেটে গিয়ে দ্বিতীয় তলার ৩০ নম্বর কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় দলটির অফিস পাওয়া যায়। এক দোকানি নাম প্রকাশ না করে বলেন, মাঝেমধ্যে কক্ষটি খোলা হয়।
গত ১৮ আগস্ট সকালে বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা জানতে ফোন করা হয় বাংলাদেশ সল্যুশন পার্টির সভাপতি শামছুল হককে। তিনি বলেন, ‘আসলে গাজীপুরের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়া অন্য কোনো জেলা-উপজেলার অফিসের ঠিকানা আমার জানা নেই। স্থানীয় নেতাকর্মীরাই এই ঠিকানা দিয়েছেন। ইসির মাঠ পর্যায়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত জানার পর এখন আমি বিভিন্ন জেলা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী নিয়ে জেলা নির্বাচন অফিসারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছি। তাদের কাছে জেলা-উপজেলা কার্যালয়গুলোর ঠিকানা পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।’
এখন পর্যন্ত কোন কোন জেলা সফর করেছেন– জানতে চাইলে সুল্যশন পার্টির সভাপতি বলেন, ‘এর আগে গাজীপুরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে সব উপজেলা কার্যালয়ের ঠিকানা দিয়ে এসেছি। আর আজ (১৮ আগস্ট) সকালে কুমিল্লা যাচ্ছি। সেখানে যাওয়ার পর বলতে পারব, আসলে কুমিল্লার ঠিক কোথায় দলের কার্যালয় করা হয়েছে।’ এরপর কয়েক দফা ফোন করলেও সাড়া মেলেনি তার।
ইসিতে জমা দেওয়া নিবন্ধনের কাগজপত্রে মৌলিক বাংলা নামে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফুয়াদ সাকীর নাম ও মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। গত ১৩ আগস্ট সেই নম্বরে ফোন করা হলে সাদেক আহমেদ সজীব নামের একজন ফোন ধরে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ফুয়াদ সাকীকে গত জুনে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তারা দলের ২২ জেলা ও ১০০ উপজেলার কমিটি ও দপ্তরের তথ্য ইসিতে জমা দিয়েছেন।
ইসিতে দেওয়া নথিতে মৌলিক বাংলার চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের ঠিকানা লেখা– ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের বিপরীত পাশের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ভবনের তৃতীয় তলা’। গত ১৩ আগস্ট দুপুরে মহানগর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে সেই স্থানে গিয়ে জানা যায়, মৌলিক বাংলা নামের কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় সেখানে নেই। চারতলা ইউসিবি ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলায় ওরাকল কোচিং সেন্টারের কার্যালয়। দ্বিতীয় তলায় ইউসিবি ব্যাংকের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপশাখার কার্যালয়। এ ছাড়া ভবনটির চতুর্থ তলায় ‘আমরা শিখবো’ কোচিং সেন্টার কার্যালয় এবং নিচতলায় পিউরিয়া সুইটস নামে মিষ্টির দোকান। পরে ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত মৌলিক বাংলার সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ সজীবকে ফোন করা হলেও তিনি আর ধরেননি।
বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদের (বিবিএমপি) সভাপতি আতিকুর রহমান রাজা জানান, ২০১১ সালের ২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেকার সমাজের মুক্তিসহ সামাজিক কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন। গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংগঠনটিকে রাজনৈতিক দলে রূপ দিতে এবারই প্রথম নিবন্ধনের জন্য ইসিতে আবেদন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের সব শর্ত পূরণ করে দেশের ১০৬ উপজেলা কমিটি, ৩৪ জেলা কমিটি এবং ২৩ হাজার ভোটারের তথ্য, সইসহ নথি ইসিতে জমা দিয়েছি। আশা করছি, ইসির নিবন্ধন পাবো।
জেলা-উপজেলা কার্যালয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আতিকুর রহমান রাজা দলের গাইবান্ধা, ময়মনসিংহ, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের ঠিকানা দেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি উপজেলা কার্যালয়ের ঠিকানাও দেন তিনি। এসব কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও কর্মকাণ্ডের ছবি পাঠান।
তবে দলীয় প্রধানের পাঠানো ছবির ঠিকানা অনুযায়ী যাচাই করে দেখা গেছে- সেগুলো কারও বাসাবাড়িতে স্থাপিত হয়েছে। ১৫ আগস্ট দুপুরে আতিকুর রহমান রাজা বলেন, ‘অবশ্যই কারও না কারও বাসা তো হবে। তবে আমরা চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ভাড়া নিয়ে তার কপি ইসিতে জমা দিয়েছি।’
২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরোয়ার্ড পার্টি নিবন্ধনের জন্য তিন দফা আবেদনের পর এবার প্রাথমিক যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। দলটির মহাসচিব মাহবুবুল আলম চৌধুরী বলেন, ২২ জেলায় দপ্তরসহ কমিটি এবং ১০০ উপজেলার ২০০ জন করে সমর্থকের সই জমা দিয়েছেন তারা। ইসির চিঠির জবাবে আরপিও অনুযায়ী সংশোধিত গঠনতন্ত্রও জমা দিয়েছেন। ফলে এবার দল নিবন্ধন পাবে– এমন প্রত্যাশা তাঁর। অবশ্য ২২ জেলার কয়েকটি কার্যালয়ের ঠিকানা চাওয়া হলে তিনি জানান, কাগজপত্র দেখে বলতে হবে। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির (বিজিপি) চেয়ারম্যান এস এম শাহাদাতের দাবি, তারা ২৫ জেলায় কার্যকর অফিস ও কমিটি এবং ১২৫ উপজেলায় ২০০ জন করে সমর্থকের সই জমা দিয়েছেন। জেলা-উপজেলা দপ্তরের দলিল জমা দেওয়া ছাড়াও প্রয়োজনীয় সব শর্তই পূরণ করেছেন তারা। তবে চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ দলীয় কার্যালয়গুলোর ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
৫ শতাংশ ভোটপ্রাপ্তির যোগ্যতায় টিকেছে যারা
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি দল নিবন্ধনের আবেদনে আগের কোনো নির্বাচনে ৫ শতাংশ ভোট পাওয়ার শর্ত পূরণ করার কথা জানিয়েছে। দলটির মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম জানান, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাদের দল ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এই যোগ্যতা পূরণের পর তাদের জেলা-উপজেলা কমিটি বা কার্যালয় থাকার তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৬ সালের ওই নির্বাচনে নেজামে ইসলাম পার্টি নামের দল অংশ নিয়ে ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। দলটি আগে থেকেই ইসির নিবন্ধন পেয়েছে। পরে এই দল ভেঙে ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি’ নামে আরেকটি দল গড়ে উঠেছে, তারাই এখন নতুন করে নিবন্ধন চাইছে।
বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস) নামে দলটির নিবন্ধন আবেদন নিয়ে আগে থেকেই সমালোচনা ছিল। নিবন্ধনের আবেদনে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. হাসান চৌধুরী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে ১৩১/১/এ, ধানমন্ডির ক্রিসেন্ট রোডের তৃতীয় তলায় তাঁর ছেলে রাহাত চৌধুরীর বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেন। এই বাসার ড্রয়িংরুম ঘিরে চলে দলের কাযক্রম। এমনকি ছেলে রাহাত চৌধুরীকে দলের সাধারণ সম্পাদকও করেছেন হাসান চৌধুরী।
এই বাংলাদেশ বেকার সমাজও ইসির প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকে গেছে ৫ শতাংশ ভোটপ্রাপ্তির যোগ্যতায়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসান চৌধুরী সমকালকে বলেন, আমার দল ৪০ বছর ধরে দেশের বেকার সমাজের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে কাজ করছে। আমি ও আমার দলের একাধিক প্রার্থী ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুনের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এসব নির্বাচনে আমার দলের ভোটপ্রাপ্তির হার ৫ থেকে ৯ শতাংশ। এই যোগ্যতা পূরণের কারণে আবেদন টিকে গেছে। বাকি যাচাই-বাছাই শেষেও দল নিবন্ধন পাবে বলে তাঁর প্রত্যাশা। দলের কতটি জেলা-উপজেলা কমিটি বা কার্যালয় রয়েছে– জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে এখন আর কেউ রাজনৈতিক দলকে অফিস ভাড়া দিতে চায় না। তার পরও প্রয়োজনীয় সংখ্যক অফিস আমাদের রয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সমকালকে বলেন, প্রাথমিক যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়া দলগুলোর তথ্য মাঠ পর্যায়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই হবে। এরপর যারা যোগ্য, তারাই শুধু নিবন্ধন পাবে।