রবিবার, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
আগৈলঝাড়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষের পরিচর্যায় হিউম্যান ফর হিউম্যানিটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গৌরনদীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেশে কি আদৌ কোনো সরকার আছে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের আজ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হৃদয়-মুশফিকের ব্যাটে বাংলাদেশের ১০০ ভরাডুবির পর ট্রাম্পের নতুন চিফ অব স্টাফের দায়িত্বে মিলার জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা যুদ্ধ যখন অনিবার্য, মেজর মেজর জিয়া তখন যুদ্ধের ডাক দিলেন-জহির উদ্দিন স্বপন তৃণমূল পর্যায়ের সরকার হচ্ছেন গ্রাম পুলিশ গৌরনদীতে গ্রাম পুলিশকে উদ্দেশ্য করে……. জহির উদ্দিন স্বপন  যুগে যুগে এমপি-মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী আসবেন, শত বছরেও একজন কবি নজরুল তৈরি হবেন না…… জহির উদ্দিন স্বপন

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার বিষয়ক রেজুলেশন গৃহীত

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৯৪ বার পঠিত

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রথমবারের মতো ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি’ বিষয়ক একটি রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রেজুলেশনটি ১২-০ ভোটে অনুমোদিত হয়।

জা‌তিসং‌ঘের বাংলা‌দেশ স্থায়ী মিশন জানায়, মিয়ানমারের বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জরুরি অবস্থা, বন্দিদের মুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে রেজুল্যুশনে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হয়ে‌ছে। রেজুলেশনটি ১২-০ ভোটে অনুমোদিত হয়। ভোটাভুটি পর্বে এই প্রস্তাবনার বিপক্ষে কোনো সদস্য ভোট অথবা ভেটো দেননি। ত‌বে চীন, ভারত ও রাশিয়া ভোটদানে বিরত ছিল।

ভোটদান শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, মেক্সিকো, গ্যাবন ও নরওয়ে তাদের বক্তব্যে রেজুল্যুশনটিতে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি অন্তর্ভুক্তি করার প্রশংসা করে এবং এই সমস্যা সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের জোরালো ভূমিকার দাবি জানায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বক্তব্যে রেজুল্যুশনটি উত্থাপন করার জন্য যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ জানায়। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, এই রেজুলেশন রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানের প্রতি জাতিসঙ্ঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর অঙ্গ সংস্থার শক্তিশালী সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ। রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্কটসহ অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে গৃহীত রেজুলেশনটি রোহিঙ্গা সঙ্কটের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আরো সুসংহত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অমানবিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে ২০১৭ সালে আট লক্ষাধিক রোহিঙ্গাসহ এ পর্যন্ত ১২ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে তাদের অস্থায়ীভাবে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করেন এবং শুরু থেকেই তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে জোরালো দাবি উত্থাপন করে আসছেন।

এই রেজুলেশন অনুমোদিত হওয়ার ফলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মিত কার্যকলাপের অংশ হয়ে গেল। একইসাথে এটি রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের এ সংক্রান্ত অব্যাহত প্রচেষ্টাকে আরো শক্তিশালী ও ত্বরান্বিত করবে।

রেজুলেশনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, নিরাপত্তা ও মানবিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করা হয়। পরিষদ রোহিঙ্গা সঙ্কটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তাদের নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানায়।

মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে- বিষয়টি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হয়।

এছাড়া, এ সমস্যার সমাধানে আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ২০২১ সালে গৃহীত পাঁচ দফা ঐক্যমত্যের দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং এর বাস্তবায়নে জাতিসঙ্ঘের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হবে কিনা সে বিষয়ে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব ও মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতকে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন রেজুলেশনে বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী ও অস্থায়ী বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সাথে প্রয়োজনীয় দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যাতে রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত হয় তা নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, রেজুলেশনটির ‘পেন হোল্ডার (মূল স্পন্সর)’ নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য। বিগত তিনমাস ধরে আলোচনা শেষে এটি নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়। ভারত নিরাপত্তা পরিষদের ডিসেম্বরের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে রেজুলেশনটি গৃহীত হলো। এর ফলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টায় সফল হলো বাংলাদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com