শনিবার, ১২:২৬ অপরাহ্ন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

পূজায় যেমন হবে নারীর সাজ

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

বছর ঘুরে আবারও এলো দুর্গাপূজার ঢাকের আমেজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব। দুর্গা মা আসছেন বলে আয়োজনের রেশ শুরু হয়েছে বহুদিন আগে থেকেই। কারণ কোনো কিছুরই কমতি রাখা

যাবে না। লিখেছেন— সাদিয়া সিদ্দিকা

দুর্গাপূজা মানেই বাঙালির শুধু মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন নয়। পূজা মানে ঢাকের বাদ্যি, প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডা আর সকাল-দুপুর-বিকেল-রাতের সাজের মহোৎসব। পূজার আনন্দের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে সাজগোজ। নতুন পোশাক, মানানসই গয়না, চোখে কাজল, ঠোঁটে পছন্দের রং আর চুলে একটু যত্ন—সব মিলিয়ে পূজার সাজ হয়ে ওঠে নিজেকে নতুন করে সবার সামনে তুলে ধরার এক আয়োজন। সারা বছর কাজের ব্যস্ততা, পড়াশোনা কিংবা সংসারের দায়িত্বে নিজের জন্য সময় বের করা কঠিন হলেও দুর্গাপূজার কয়েকটি দিন যেন সেই সুযোগই এনে দেয়। সময়ের পরিবর্তনে পূজার সাজেও এসেছে বেশ কিছু ভিন্নতা। আর তাই তো পূজার এই সময়টাতে চলে সাজ আর আগাম প্রস্তুতির নানা আয়োজন।

তবে পূজার সাজ মানেই যে প্রতিদিন ভারী মেকআপ, জমকালো পোশাক কিংবা অনেক গয়না পরতে হবে, তা নয়। পূজার সময় নারীর সাজে থাকতে পারে আলাদা পরিকল্পনা। অষ্টমীর অঞ্জলি থেকে শুরু করে সন্ধ্যার আরতি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা রাতের মণ্ডপ ভ্রমণ সব ক্ষেত্রেই পোশাক ও সাজের সমন্বয় থাকলে উৎসবের আনন্দ আরও বেড়ে যায়।

পূজার সাজের আগে প্রস্তুতি

পূজার সাজকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে এবং দীর্ঘ সময় সতেজ থাকতে প্রয়োজন কিছু আগাম প্রস্তুতি। বিশেষ করে পূজার দিনগুলোতে এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো, ভিড়ের মধ্যে সময় কাটানো কিংবা দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার কারণে ত্বক ও চুলের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই উৎসবের আগেই ত্বক ও চুলের যত্নে কিছুটা সময় দেওয়া জরুরি। পূজার কয়েক দিন আগে থেকেই নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করা, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস রাখা ভালো।

চুলের যত্নেও আগাম প্রস্তুতি প্রয়োজন। পূজার ঠিক আগে নতুন কোনো হেয়ার কালার বা রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট না করে পরিচিত পরিচর্যার মধ্যেই থাকা ভালো। চুল ধোয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। চুলে অতিরিক্ত হিট ব্যবহার করলে হিট প্রোটেক্ট্যান্ট লাগানো উচিত।

সকালের সাজে থাকুক স্নিগ্ধতার ছোঁয়া

পূজার সকাল অন্য সময়ের সকালের মতো নয়। চারদিকে উৎসবের আমেজ, নতুন পোশাকের গন্ধ, মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের শব্দ আর অঞ্জলি দেওয়ার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে সকাল থেকেই শুরু হয় ব্যস্ততা। আর এ সময়ের সাজে সবচেয়ে ভালো মানায় স্নিগ্ধ, স্বাভাবিক ও পরিপাটি লুক।

সকালের সাজের জন্য শাড়ি বাঙালি নারীর চিরকালীন পছন্দ। সাদা-লাল, অফহোয়াইট, হালকা হলুদ, পিচ, আকাশি কিংবা প্যাস্টেল রঙের শাড়িতে ফুটে ওঠে পূজার ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য। যারা একটু আধুনিক ধাঁচের পোশাক পছন্দ করেন, তারা বেছে নিতে পারেন সুতির শাড়ি, হালকা তাঁতের শাড়ি কিংবা নরম কাপড়ের সালোয়ার-কামিজ। আরামদায়ক পোশাকের সঙ্গে ছোট্ট ঝুমকা, মুক্তার দুল কিংবা সূক্ষ্ম নকশার চুড়ি সাজে এনে দিতে পারে পরিমিত আভিজাত্য।

যেমন হবে সকালের সাজ

সকালের মেকআপে ভারী ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে হালকা বেস, সামান্য ব্লাশ, চোখে কাজল ও মাসকারা এবং ঠোঁটে গোলাপি বা পিচ রঙের লিপস্টিক বেছে নেওয়া যায়। যারা মেকআপ খুব একটা পছন্দ করেন না, তাদের জন্য ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন, ঠোঁটে লিপবাম এবং সুন্দর করে আঁচড়ানো চুলই যথেষ্ট। কপালে ছোট্ট লাল টিপ কিংবা পোশাকের সঙ্গে মানানসই টিপ পুরো সাজে এনে দেবে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া।

চুল খোলা রাখলে সকালের সাজে আসে স্বাভাবিক সৌন্দর্য। আবার নিচু করে বাঁধা খোঁপা, বেণি কিংবা অল্প কিছু ফুলের ব্যবহারেও তৈরি করা যায় ঐতিহ্যবাহী লুক। বিশেষ করে শিউলি, গাঁদা কিংবা সাদা ফুলের মালা পূজার সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করে। তবে অঞ্জলি দিতে বা দীর্ঘ সময় মণ্ডপে থাকতে হলে এমন সাজই বেছে নেওয়া ভালো, যা সহজে সামলে রাখা যায়।

দুপুরের সাজে পূজার আমেজ

পূজার দুপুর মানেই অঞ্জলি শেষে প্রসাদ গ্রহণ, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা কিংবা পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া। এই সময়ের সাজে যেমন উৎসবের রং থাকবে, তেমনি থাকতে হবে আরামের বিষয়টিও। কারণ বাংলাদেশের আবহাওয়ায় গরম, আর্দ্রতা ও ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে ভারী পোশাক ও মেকআপ অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

দুপুরের জন্য সুতি, লিনেন কিংবা হালকা তাঁতের শাড়ি বেছে নেওয়া যেতে পারে। শাড়ি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে কুর্তি, পালাজো, সালোয়ার-কামিজ কিংবা ফিউশন পোশাকও বেছে নেওয়া যেতে পারে। দুপুরের সাজে গয়না নির্বাচনের ক্ষেত্রেও পরিমিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। পোশাক যদি ভারী নকশার হয়, তাহলে ছোট বা মাঝারি আকারের দুলই যথেষ্ট। অন্যদিকে একরঙা পোশাকের সঙ্গে অক্সিডাইজড গয়না, কাঠের গয়না কিংবা রুপালি নকশার হার ব্যবহার করা যেতে পারে। মেকআপের ক্ষেত্রে দুপুরের আলোয় ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখাই ভালো। হালকা বেস, অল্প ব্লাশ, কাজল এবং ন্যুড, কোরাল কিংবা গোলাপি লিপস্টিক দিনের সাজকে করে তুলতে পারে প্রাণবন্ত। তবে গরমে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ঠিক রাখতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করা জরুরি। সঙ্গে ছোট্ট ব্যাগে টিস্যু, লিপস্টিক, চিরুনি ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত জিনিস রাখলে বাইরে থাকাকালে সাজ ঠিক রাখা সহজ হয়।

বিকেলের সাজে থাকুক ঐতিহ্যের ছোঁয়া

বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পূজার পরিবেশও। মণ্ডপে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়, আলোকসজ্জায় ধীরে ধীরে রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ। এই সময় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, ছবি তোলা কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা থাকে অনেকের। তাই বিকেলের সাজে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে আধুনিক অনুষঙ্গের মেলবন্ধন বেশ মানানসই।

এ সময় শাড়ির সঙ্গে স্লিভলেস বা থ্রি-কোয়ার্টার ব্লাউজ, কুর্তির সঙ্গে পালাজো কিংবা লং ড্রেসের সঙ্গে মানানসই গয়না—এ ধরনের সমন্বয়ে তৈরি হতে পারে আকর্ষণীয় লুক। যাদের শাড়ি ছাড়া পূজার সাজ হয়ই না, তারা বেছে নিতে পারেন ব্লকপ্রিন্ট, জামদানি নকশা, তাঁত কিংবা হালকা এমব্রয়ডারির শাড়ি। আর তরুণীদের মধ্যে ফিউশন পোশাকের প্রতি আগ্রহ থাকলে লং কুর্তির সঙ্গে ওয়াইড-লেগ প্যান্ট কিংবা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকও হতে পারে ভালো বিকল্প।

বিকেলের সাজে চোখের মেকআপে সামান্য বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া যায়। কাজলের সঙ্গে আইশ্যাডোর হালকা ব্যবহার, চোখের কোণে সামান্য হাইলাইটার কিংবা সুন্দর করে আঁকা আইলাইনার চেহারায় আনতে পারে নতুন মাত্রা। ঠোঁটে পোশাকের সঙ্গে মানানসই গোলাপি, বেরি কিংবা লালচে রং ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চোখ ও ঠোঁট—দুই জায়গাতেই অতিরিক্ত গাঢ় রং ব্যবহার না করে যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দিলে সাজে ভারসাম্য বজায় থাকে।

চুলের সাজেও থাকতে পারে বৈচিত্র্য। খোলা চুলে হালকা ওয়েভ, হাফ-আপ হেয়ারস্টাইল, পরিপাটি পনিটেল কিংবা ফুল দিয়ে সাজানো খোঁপা—সবই মানানসই। সবচেয়ে বড় কথা, যে সাজে নিজেকে স্বচ্ছন্দ ও আত্মবিশ্বাসী মনে হয়, সেটিই বেছে নেওয়া উচিত।

রাতের সাজ হোক জমকালো

দুর্গাপূজার রাত যেন সাজের সবচেয়ে রঙিন সময়। মণ্ডপের আলো, ঢাকের শব্দ, ধুনুচি নাচ, আরতি আর মানুষের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে রাতের পূজায় থাকে অন্য রকম আবহ। এই সময়ের সাজে একটু বেশি রং, একটু বেশি ঝলমল কিংবা একটু জমকালো গয়না ব্যবহার করতেই পারেন।

রাতের সাজের জন্য লাল, কালো, মেরুন, রয়্যাল ব্লু, পান্না সবুজ কিংবা সোনালি আভাযুক্ত পোশাক বেশ মানানসই। জমকালো শাড়ি, সিকুইন কাজের ব্লাউজ, এমব্রয়ডারি করা সালোয়ার-কামিজ কিংবা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন গাউন—পছন্দের ধরন অনুযায়ী বেছে নেওয়া যায় যে কোনোটি। শাড়ির সঙ্গে কনট্রাস্ট ব্লাউজ পরলে সাজে আসে চমৎকার ভিন্নতা। আবার একরঙা পোশাকের সঙ্গে ভারী গয়না ব্যবহার করলেও তৈরি হয় আকর্ষণীয় লুক।

রাতের মেকআপে চোখের সাজে স্মোকি আই, শিমার আইশ্যাডো কিংবা উইংড আইলাইনার ব্যবহার করা যেতে পারে। ঠোঁটে গাঢ় লাল, ওয়াইন, মভ কিংবা বেরি রং মানানসই। তবে মেকআপের ক্ষেত্রে ত্বকের স্বাভাবিক রং ও ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শুধু ট্রেন্ড অনুসরণ করতে গিয়ে নিজের সঙ্গে মানানসই নয়, এমন কিছু বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

গয়নার ক্ষেত্রে অক্সিডাইজড জুয়েলারি, ঝুমকা, চোকার, লম্বা হার কিংবা স্টেটমেন্ট কানের দুলের মধ্যে যে কোনো একটি হতে পারে সাজের প্রধান আকর্ষণ। একসঙ্গে অনেক ভারী গয়না পরার বদলে একটি বা দুটি অনুষঙ্গকে প্রাধান্য দিলে সাজে আসে পরিমিত সৌন্দর্য। হাতে চুড়ি, আঙুলে আংটি আর ছোট্ট একটি ক্লাচ ব্যাগ পুরো সাজকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলতে পারে। রাতে হালকা ঘ্রাণের পারফিউমও বেছে নেওয়া যায়।

অষ্টমী, নবমী ও দশমীর সাজে বেছে নিন আলাদা সাজ

দুর্গাপূজার প্রতিটি দিনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আলাদা আবেগ ও ঐতিহ্য। অষ্টমীর অঞ্জলিতে সাদা-লাল শাড়ির আবেদন আজও অমলিন। লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, লাল টিপ, হাতে শাঁখা-পলা কিংবা লাল-সাদা চুড়ি এবং হালকা মেকআপে ফুটে ওঠে চিরচেনা বাঙালি সৌন্দর্য।

নবমীর সাজে একটু বেশি জমকালো হওয়ার সুযোগ রয়েছে। উজ্জ্বল রঙের শাড়ি, নকশাদার পোশাক, মানানসই গয়না ও পরিপাটি মেকআপে তৈরি হতে পারে উৎসবমুখর উপস্থিতি। এদিন অনেকেই বন্ধুদের সঙ্গে মণ্ডপে ঘোরা কিংবা পরিবারের সঙ্গে বাইরে খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তাই সাজের পাশাপাশি পোশাকের আরাম ও ব্যবহারিক দিকটিও মাথায় রাখা জরুরি।

দশমীর সাজে লাল-সাদা রঙের বিশেষ আবেদন রয়েছে। সিঁদুরখেলা, প্রতিমা বিসর্জন কিংবা বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের মুহূর্তে ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ও সাধারণ গয়না দারুণ মানায়। তবে যারা শাড়ির বদলে অন্য পোশাক পছন্দ করেন, তারাও লাল-সাদা রঙের কুর্তি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা ফিউশন পোশাকে উৎসবের আবহ ধরে রাখতে পারেন। সাজের সৌন্দর্য পোশাকের ধরনে নয়, বরং নিজের পছন্দকে কতটা সুন্দরভাবে তুলে ধরা যাচ্ছে, তার ওপরই বেশি নির্ভর করে।

নিজের পছন্দই হোক সাজের মূল আয়োজন

ফ্যাশনের ট্রেন্ড প্রতিনিয়ত বদলায়। কখনো মিনিমাল মেকআপ, কখনো গাঢ় ঠোঁটের রং, কখনো ঐতিহ্যবাহী গয়না, আবার কখনো ফিউশন পোশাক হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের সাজের ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া স্বাভাবিক। তবে অন্যের সাজ অনুকরণ করার চেয়ে নিজের চেহারা, স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই পোশাক বেছে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

একটি সাধারণ সুতি শাড়িও সুন্দর করে পরলে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। আবার দামি পোশাক কিংবা ভারী গয়না থাকলেই যে সাজ অসাধারণ হবে, এমন কোনো কথা নেই। পরিচ্ছন্নতা, রঙের সমন্বয়, মানানসই অনুষঙ্গ এবং আত্মবিশ্বাস—এই কয়েকটি বিষয়ই সাজকে করে তোলে পরিপূর্ণ।

পূজার কেনাকাটায় বাজেটের বিষয়টিও মাথায় রাখা প্রয়োজন। আগের পোশাকের সঙ্গে নতুন ব্লাউজ, গয়না কিংবা ব্যাগ মিলিয়ে নিলে কম খরচেও তৈরি করা যায় নতুন লুক। একই শাড়ি এক দিন ভারী গয়নায়, অন্য দিন হালকা গয়নায় সাজিয়ে পরলে বৈচিত্র্যও আসে। উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় খরচের চাপ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, দুর্গাপূজার সাজের আসল সৌন্দর্য শুধু আয়নায় নিজেকে সুন্দর দেখার মধ্যে নয়। পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা, মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো কিংবা প্রিয় মুহূর্তগুলো স্মৃতিতে ধরে রাখার মধ্যেও রয়েছে এই সাজের আনন্দ। সকাল থেকে রাত—প্রতিটি সময়ের জন্য সাজ আলাদা হতে পারে, কিন্তু প্রতিটি সাজেই থাকুক নিজের মতো করে বাঁচার স্বাচ্ছন্দ্য।

দুর্গাপূজা কয়েক দিনের উৎসব হলেও এর রেশ থেকে যায় অনেক দিন। নতুন পোশাকের ভাঁজে, কপালের টিপে, শাড়ির আঁচলে কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে তোলা ছবিতে জমে থাকে অসংখ্য স্মৃতি। তাই এবারের পূজায় সাজ হোক কখনো স্নিগ্ধ, কখনো রঙিন, কখনো জমকালো!

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com