ইরান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ইউরোপের গ্রীষ্মকালীন ছুটির ভ্রমণচিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ মানুষ দীর্ঘ দূরত্বের বা মধ্যপ্রাচ্য হয়ে অন্যান্য দেশের যাত্রা বাদ দিয়ে ঘরের কাছে বা নিরাপদ ইউরোপীয় গন্তব্যে ছুটি কাটাচ্ছেন।
গ্রীষ্মের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে নাদিয়া ওয়ালিদ জানান, স্বামী ও তিন মেয়েকে নিয়ে লন্ডন থেকে বালির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। দুবায়ে বিরতি নিয়ে পরে সেখান থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
তিনি আরও জানান, ‘এমনিতেই একাধিক ফ্লাইট এবং ট্রানজিটসহ পরিবারের সাথে ছুটি কাটানোটা বেশ মানসিক চাপের, আর এর ওপর ইরানের পরিস্থিতির কারণে (এমিরেটস) এয়ারলাইন্স শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটের সময়সূচিতে বারবার পরিবর্তন এনেছে।’
উড়াল দেওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগে নাদিয়া ওয়ালিদের ফেরার ফ্লাইটের সময়সূচি বদলে যায়। দুবাইতে ৩ ঘণ্টার ট্রানজিটের সময় বাড়িয়ে ১৮ ঘণ্টা করা হয়েছিল।
নাদিয়া ওয়ালিদ আরও জানান, ‘এরপর দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে ফোনে চেষ্টার ফলে আমরা পাকিস্তান থেকে ফেরার আগের কোনো ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হই। যা ট্রানজিটের সময় কিছুটা কমিয়ে এনেছে।’
কিন্তু পরদিনই পরিবারের এক সদস্যের সময়সূচি আবারও বদলে যায়-তাঁর ফেরার ফ্লাইট পিছিয়ে এক মাস পরে নেওয়া হয়।
‘ছুটিতে থাকার সময়েও ইমেইলে আমাদের ফ্লাইটের বিবরণে ১ ঘণ্টা পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে, যার ফলে ট্যাক্সি ও পিকআপের সময়সূচি বারবার পুনর্নির্ধারণ করতে হয়েছিল, তিনি যোগ করেন।
তাঁর এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মূলত একটি বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার ছোট্ট উদাহরণ মাত্র।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে এয়ারলাইন্সগুলো সুবিশাল আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলোকে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পথে চলতে হচ্ছে, যা পরিবার, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং নবদম্পতিদের ছুটির পরিকল্পনা ওলটপালট করে দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ট্রাভেল এজেন্সি ‘ট্রেইলফাইন্ডার্সে’ এই আঘাত এক সাথে ব্যাপকভাবে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ট্রেইলফাইন্ডার্সকে হাজার হাজার বুকিং বাতিল বা নতুন করে নির্ধারণ করতে হয়েছে বলে জানান এজেন্সির নিকি ডেভিস।
তিনি দুবাই, কাতার ও আবুধাবির মতো জায়গাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেন, যা নিজেদের মতো পর্যটন কেন্দ্র তো বটেই, পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার দিকে যাওয়া ভ্রমণকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট।
একবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর যখন ওই অঞ্চলে ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করে। যার ফলে সেই পরামর্শ উপেক্ষা করা কঠিন ছিল। কেননা এতে বিমা সুবিধা বাতিল হয়ে যেত। তখন বিপুল সংখ্যক গ্রাহক তাঁদের ভ্রমণ স্থগিত করলেন।
পরবর্তীতে সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে। ডেভিস জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে পুনরায় ভ্রমণ করার একটি ‘অসাধারণ সুপ্ত চাহিদা’ আবার তৈরি হয়েছে। তবে এই বিশৃঙ্খলার ফলে মানুষের ভ্রমণ গন্তব্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ইউরোপ এবার অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ এটি বাড়ির কাছেই, আর এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যগুলো হলো ইতালি, স্পেন, গ্রিস ও নরওয়ে।’