বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবকে ঘিরে উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে আগৈলঝাড়া পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. বশির আহমেদ পান্না, আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুদ খানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আগৈলঝাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী দীনেশ চন্দ্র হালদার।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতা, ন্যায়, সত্য ও শান্তির বার্তা বহন করে। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। একই সঙ্গে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবে এটাই দেশের ঐতিহ্য। ধর্মীয় উৎসবগুলো পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করে।
আনন্দ শোভাযাত্রায় শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন প্রতীক ও ধর্মীয় উপকরণ নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা উৎসবে যোগ দেন। এ সময় পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শোভাযাত্রাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আগৈলঝাড়ার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপেও বিশেষ প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশ নেন।
এ জাতীয় আরো খবর..