বুধবার, ১১:৩১ অপরাহ্ন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
গৌরনদীর ডাকাতি মামলায় ‘সর্দার’সহ দুই আসামি গ্রেপ্তার গৌরনদীতে ১০২ ইয়াবাসহ মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার গৌরনদীতে ইয়াবাসহ মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও জালিয়াতি রোধ সহজ হবে: আইনমন্ত্রী নতুন দায়িত্ব পেলেন হুইপ দুলু পে-স্কেলের পরও দুর্নীতি হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে নামবে জনগণ-ভোলায় সারজিস আলম রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিম কোর্ট ভবন নির্মাণে ভুয়া বিলে ৬.৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ স্থানীয় নির্বাচনে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবো না: সিইসি চট্টগ্রামে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত

দ্বিতীয় বিয়ে করলেই মোহরানা তাৎক্ষণিক পরিশোধের নির্দেশ

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০৬ বার পঠিত

প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলে বিলম্বিত মোহরানা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে বলে ঐতিহাসিক এক রায় দিয়েছে পাকিস্তানের লাহোর হাইকোর্ট (এলএইচসি)। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যথাযথ অনুমতি ছাড়া পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে মোহরানার পুরো টাকা পরিশোধ করা আইনত বাধ্যতামূলক।

মেহনাজ সেলিম নামক এক নারী তার স্বামী কাশিফ ইকবালের বিরুদ্ধে মোহরানা হিসেবে ১০ লাখ রুপি, মাসিক ভরণপোষণ এবং যৌতুকের মালামাল আদায়ের দাবিতে মামলা করেছিলেন। শিয়ালকোটের একটি পারিবারিক আদালত মেহনাজের পক্ষে রায় দিয়ে ১০ লাখ রুপি মোহরানা এবং মাসিক ১৫ হাজার রুপি ভরণপোষণ প্রদানের নির্দেশ দেয়। তবে স্বামী কাশিফ ইকবাল এর বিরুদ্ধে আপিল করলে জেলা জজ আদালত মোহরানা ও ভরণপোষণের আদেশ বাতিল করে দেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি লাহোর হাইকোর্টে গড়ায়।

মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি আবিদ হোসেন চাট্টা জানান, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বিলম্বিত মোহরানা বিবাহ বিচ্ছেদের সময় পরিশোধযোগ্য। কিন্তু ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ৬(৫) ধারা অনুযায়ী একটি বিশেষ ব্যতিক্রম রয়েছে। যদি কোনো স্বামী তার বর্তমান স্ত্রী বা সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে তাকে অবিলম্বে মোহরানার সম্পূর্ণ টাকা (তাৎক্ষণিক বা বিলম্বিত যাই হোক না কেন) বর্তমান স্ত্রীকে পরিশোধ করতে হবে।

আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখেন যে, কাশিফ ইকবাল প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই একাধিক বিয়ে করেছেন এবং এই অপরাধে তিনি ইতোমধ্যে দণ্ডিত হয়েছেন। বিচারপতি চাট্টা আরও উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের নভেম্বরে সম্পন্ন হওয়া এই বিয়েটি এখনো আইনত টিকে আছে। স্বামী মৌখিক তালাকের দাবি করলেও এর সপক্ষে কোনো ‘ডিভোর্স ইফেক্টিভনেস সার্টিফিকেট’ দেখাতে পারেননি। ২০২৬ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি নজির (আমব্রিন আকরাম বনাম আসাউল্লাহ খান) টেনে আদালত বলেন, স্ত্রীর ভরণপোষণ পাওয়া একটি নিঃশর্ত এবং আইনগত অধিকার।

রায়ে আদালত নির্দেশ দেন যে, মেহনাজ সেলিমকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া প্রতি মাসে ১৫ হাজার রুপি ভরণপোষণ দিতে হবে, যা প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া যৌতুকের মালামাল সংক্রান্ত পারিবারিক আদালতের আগের সিদ্ধান্তও বহাল রাখা হয়েছে। সামাজিক অনুমানের ভিত্তিতে যৌতুকের পরিমাণ কমানোর কোনো সুযোগ নেই বলে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেন। এই রায়ের ফলে মেহনাজ সেলিম ১০ লাখ রুপি মোহরানা এবং তার পাওনা ভরণপোষণ ফিরে পাওয়ার আইনি ভিত্তি পেলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com