রবিবার, ১২:১০ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

ফখরের সেঞ্চুরি ও আরাফাত ঝড়ে শ্রীলংকাকে হারিয়ে পাকিস্তানের শিরোপা জয়

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

ফাইনাল মানেই যেন ফখর জামানের জন্য আলাদা কিছু। আরেকটি ফাইনালে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করলেন পাকিস্তানের এই ওপেনার। তার অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সঙ্গে সাত নম্বরে নেমে আরাফাত মিনহাসের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলংকাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান।

৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। ফখর খেলেন ৯৯ বলে ১২৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। আরাফাত মাত্র ৩১ বলে করেন ৬১ রান। এ ছাড়া সাদ বেগের ৭৫ বলে ৭৪ রানের ইনিংসও জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। সেখান থেকে ফখর ও সাদ তৃতীয় উইকেটে ১৪৯ রানের জুটি গড়ে দলকে ঘুরে দাঁড় করান। পরে ষষ্ঠ উইকেটে আরাফাত ও হাসান নেওয়াজের ৬৫ বলে ৯৪ রানের ঝোড়ো জুটিতে জয়ের পথ সহজ হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির ব্যাট থেকেই আসে জয়সূচক রান। দিলশান মাদুশঙ্কার বল ডিপ মিডউইকেট দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি।

এর আগে শ্রীলংকার ইনিংসে শতরান করা কামিন্দু মেন্ডিসের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নিয়েছিলেন আফ্রিদি। সেই শুরু, এরপর শেষ ৯ ওভারে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ নষ্ট করে শ্রীলংকা। ৪১ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ২৫৫ রান। সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩২৫ রানে থামে তাদের ইনিংস। একসময় মনে হচ্ছিল, সাড়ে তিনশর কাছাকাছি রান করবে শ্রীলংকা।

দুই দলের শীর্ষ সারির ব্যাটসম্যানরা প্রায় সমানতালে লড়লেও কামিন্দু ও পাভান রথনায়েকের তৃতীয় উইকেট জুটি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১১৯ বলে ১৪৬ রান যোগ করেন তারা। ফখর ও সাদের জুটির সঙ্গে এই জুটির বেশ মিল ছিল।

তবে পার্থক্য গড়ে দেয় পাকিস্তানের নিচের সারির ব্যাটসম্যানরা। কামিন্দু আউট হওয়ার পর মাত্র ২৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ে শ্রীলংকার ইনিংস। বিপরীতে আরাফাত ও হাসান নেওয়াজের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

ব্যাটিংয়ের উপযোগী উইকেটে পাকিস্তানের পেসাররাও শেষ ৯ ওভারে দারুণ বোলিং করেছেন। শাহিন আফ্রিদি, হারিস রউফ ও নাসিম শাহ দুটি করে উইকেট নেন। ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলিং করেন আফ্রিদি।

তবে টস জিতে আগে বোলিং করার সুবিধাও পেয়েছে পাকিস্তান। সন্ধ্যার দিকে লাহোরের মাঠে প্রচুর শিশির জমে। এতে শ্রীলংকার বোলিং ও ফিল্ডিং বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ৬৯ রানে থাকা ফখরের একটি কঠিন ক্যাচ ২৫তম ওভারে ছাড়েন মহেশ থিকশানা। এর বাইরেও মাঠে বল আটকাতে বেশ কয়েকবার ভুল করেছে শ্রীলংকা। পাকিস্তান লক্ষ্যের কাছাকাছি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশিরের প্রভাবও বেড়েছে।

ফখর কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে খেললেও নিজের ইনিংসটি দারুণভাবে সাজিয়েছেন। ৯৯ বলে ১২৭ রান করার পথে বড় লক্ষ্য তাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় গতিতে রান তুলেছেন তিনি। শুরুতে ডিপ থার্ড অঞ্চলে মাদুশঙ্কার আঙুল ছুঁয়ে বল সীমানার বাইরে চলে যায়। সেটিই ছিল তার প্রথম বাউন্ডারি, যা আসে ছক্কা থেকে।

২৫তম ওভারে থিকশানার হাতে কঠিন ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান ফখর। পরে ৩২তম ওভারে তার আরেকটি সম্ভাব্য ক্যাচ নিতে গিয়ে সীমানার ওপর পা পড়ে যায় থিকশানার।

তবে এসব সুযোগের পাশাপাশি ফখর ব্যাট হাতে শ্রীলংকার বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন। বরাবরের মতো লেগ সাইডে ছিলেন বেশি কার্যকর। তার ১২৭ রানের মধ্যে ৭২ রানই এসেছে এই দিক দিয়ে। বিশেষ করে ফাইন লেগ থেকে মিডউইকেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে দারুণ সব শট খেলেছেন তিনি। সুইপ ও পুল শটে যেমন সাবলীল ছিলেন, তেমনি স্পিনার ও অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ পেসারদের বিপক্ষেও ছিলেন আক্রমণাত্মক।

চতুর্থ ওভারে যখন ফখর ও সাদ বেগ ক্রিজে একসঙ্গে আসেন, তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল শ্রীলংকার হাতে। নতুন বলে মাদুশঙ্কা পরপর ফিরিয়ে দেন মাজ সাদাকাত ও বাবর আজমকে। দুজনই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

ফখরের সঙ্গে বড় জুটি গড়া সাদও বর্গাকার অঞ্চলে দারুণ ব্যাটিং করেছেন। উইকেটের বাউন্স ছিল বেশ ভালো, দিনের শুরুতে শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানরাও যার সুবিধা নিয়েছিলেন।

শুরুর দিকে দ্রুত উইকেট হারানোয় ফিফটি পেতে ৫২ বল খেলেন ফখর। তবে এরপরই ব্যাটিংয়ের গতি বাড়ান তিনি। নিজের ১২তম ওয়ানডে শতরান পূর্ণ করেন ৮৪তম বলে। শেষ ৪০ বলে করেন ৭৫ রান।

৩৪তম ওভারে মাদুশঙ্কার বলে আউট হন ফখর। পাকিস্তানের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকেই ফিরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৯.৩ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন এই পেসার। ম্যাচে এটিই ছিল সেরা বোলিং।

ফখর আউট হওয়ার সময়ও পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১০৬ রান। তবে তার দ্রুতগতির ব্যাটিংয়ের কারণে শেষ ১৬.৩ ওভারে প্রয়োজনীয় রান তোলার গতি ছিল ওভারপ্রতি সাড়ে ছয় রানেরও কম।

৩৩ থেকে ৪২তম ওভার পর্যন্ত টানা ৯ ওভারে কোনো বাউন্ডারি না পেলেও ব্যাটসম্যান হাতে থাকায় ম্যাচে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান।

আরাফাত মিনহাসের ইনিংসটি ছিল দারুণ হিসাবি। প্রথম ১৪ বলে কোনো বাউন্ডারি না মেরে উইকেট ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেন তিনি। এরপর ৪২তম ওভারের পর, বিশেষ করে শিশির পড়তে শুরু করলে, পাল্টে যায় তার ব্যাটিংয়ের ধরন।

শেষ ১৭ বলে ৪৮ রান করেন আরাফাত। পুরো ইনিংসে চারটি ছক্কা ও তিনটি চার মারেন তিনি। ৪৭তম ওভারে মাদুশঙ্কার বলে লং অন দিয়ে তার মারা ছক্কাটি ছিল বিশেষভাবে দৃষ্টিনন্দন।

পরের ওভারের শুরুতে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৮ বলে ১৮ রান। আসিথা ফার্নান্দোর ওই ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে দলকে জয়ের একেবারে কাছে নিয়ে যান আরাফাত। এরপর ধীরগতির বলে ব্যাট ছুঁইয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আসিথা নিজেই দৌড়ে গিয়ে ক্যাচটি ধরেন।

তবে ততক্ষণে পাকিস্তানের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। হাতে পর্যাপ্ত বল থাকায় বাকি দুই রান তুলতে কোনো সমস্যাই হয়নি তাদের।

এর আগে কামিন্দু মেন্ডিসের প্রথম ওয়ানডে শতরান এবং পাভান রথনায়েকের আরেকটি দুর্দান্ত ইনিংসে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল শ্রীলংকা। ৪১ ওভারে তাদের রান ছিল ২৫৫। রথনায়েক ৬৫ বলে ৭৭ রান করেন।

দুজনই ভালো বাউন্স পাওয়া উইকেটে বোলারদের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। রথনায়েকের শক্তিশালী সুইপ ও দুর্দান্ত পুল শট ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে কামিন্দু সাদা বলের ক্রিকেটে প্রথমবার তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে নিজের প্রায় সব ধরনের শটের প্রদর্শনী দেখিয়েছেন।

শুরুর দিকে অবশ্য ধীরগতিতে খেলেছেন কামিন্দু। সপ্তম ওভারে মিনহাসের বলে দারুণ একটি রিভার্স সুইপ খেলেন তিনি। নবম ওভার শেষে তার রান ছিল ২৯ বলে ১৮। এরপর মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি বাড়ান এই ব্যাটসম্যান।

প্রথমে আভিষ্কা ফার্নান্দোর সঙ্গে ১০৪ বলে ৮৭ রানের জুটি গড়েন কামিন্দু। পরে ২২তম ওভারে রথনায়েকে যোগ দেন তার সঙ্গে। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে ১৪৬ রান যোগ করেন।

কিন্তু শেষ ৯ ওভারে ঘুরে দাঁড়ান পাকিস্তানের পেসাররা। ধসে পড়ে শ্রীলঙ্কার মধ্যক্রম। শেষ ১১ বল খেলতে হয় লেজের দিকের ব্যাটসম্যানদের।

সুইপ খেলতে গিয়ে বল মিস করলে কামিন্দুকে এলবিডব্লিউ করেন আফ্রিদি। ৪৪তম ওভারে আফ্রিদির বলে লং অনে ক্যাচ দেন দাসুন শানাকা। এরপরই শ্রীলংকার ইনিংসে ধস আরও তীব্র হয়।

পরের ওভারে হারিস রউফের বলে সীমানার কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রথনায়েকে। চার ইনিংস পর এবারই প্রথম শতরানের নিচে আউট হলেন তিনি। পুরো সিরিজে ১২২.৭০ স্ট্রাইক রেটে ৪২৭ রান করে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হয়েছেন এই ব্যাটসম্যান।

এরপর নাসিম শাহ ও রউফ আরও কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলংকার শেষ দিকের ব্যাটিং তছনছ করে দেন। শেষ ৯ ওভারে পাকিস্তানের এই পেসারদের সম্মিলিত দাপটই ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com