রবিবার, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

বৈঠার ছন্দে মুখর সন্ধ্যা নদী, নৌকাবাইচ দেখতে লাখো মানুষের ঢল

পলাশ তালুকদার, গৌরনদী
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

ঢোলের বাদ্য, বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল বরিশালের উজিরপুরের সন্ধ্যা নদী। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই তীর, সেতু ও আশপাশের এলাকায় সমবেত হন লাখো মানুষ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।
বিকেল ৩টায় উপজেলার শিকারপুর শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন সন্ধ্যা নদী থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কয়েক ধাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে চূড়ান্ত পর্বে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘সন্ধ্যা নদী’ দল। দ্বিতীয় হয় ‘বিষখালী নদী’ দল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ‘সুগন্ধা নদী’ দল। বিজয়ীদের যথাক্রমে ৩০ হাজার, ২০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।
নৌকাবাইচ উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মেজর এম এ জলিল সেতু সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। সেতু ও নদীর দুই তীরে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় জমে। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ প্রতিযোগিতা উপভোগ করায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে এবং যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
বিপুল জনসমাগম ঘিরে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। নদীতে পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী দল দায়িত্ব পালন করে। প্রস্তুত রাখা হয় মেডিকেল টিম ও একাধিক অ্যাম্বুলেন্স। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। সভাপতিত্ব করেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার এ. জেড. এম. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক আসমা ফেরদৌসী এবং উন্নয়ন সংস্থা আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল।
আয়োজকদের মতে, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নৌকাবাইচের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ। ২০২৫ সালের ধারাবাহিকতায় এবার দ্বিতীয়বারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, নদী ও বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এখনো গভীর ও প্রাণবন্ত। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com