“ভাত খাইতে পারি নাহ, ইস্কুলে যামু কেমনে। এই একটা লাইনেই যেন ফুটে উঠেছে এক নিষ্পাপ শিশুর জীবনের করুণ গল্প। জিহাদ, বয়স মাত্র আট বছর। যেখানে তার হাতে থাকার কথা বই-খাতা, সেখানে আজ সে বিক্রি করছে সবজি। তারাকুপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা এই শিশুটির স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে আজ সে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী।
বাবার অসুস্থতা ও সংসারের ভার: জিহাদের বাবা জসিম চাপরাশি, পেশায় কাঁচামালের ব্যবসায়ী ছিলেন। কটকস্হল বাসস্ট্যান্ডে তার ছোট্ট একটি দোকান ছিল। গত কয়েক মাস আগে ধরা পড়ে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। বর্তমানে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার অসুস্থতার পর সংসারের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। পরিবারের পাঁচজন সদস্যের ভরনপোষণের দায়িত্ব ছিল জসিম চাপরাশির ওপর। এখন সেই দায়িত্ব এসে পড়েছে আট বছরের শিশু জিহাদের কাঁধে।
শিশুবয়সেই সংসারের বোঝা: জিহাদের বয়স যেখানে খেলার কথা, সেখানে সে আজ ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবজি বিক্রি করে। তারাকুপি গ্রামের তার বাড়ি থেকে কটকস্হল বাসস্ট্যান্ডে যেতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। সকাল ৭টায় বেরিয়ে রাত ৯টায় ঘরে ফিরে। তার এই উপার্জনে চলছে পরিবারের ভরনপোষণ আর বাবার চিকিৎসার খরচ। জিহাদ বলেন, “বাবার চিকিৎসা আর ঘরের খরচের জন্য পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছি। এখন সারাদিন সবজি বিক্রি করি। কোনো কোনো দিন বিক্রি হয় ভালো, আবার কোনো দিন বিক্রি হয় না। যা পাই, তাই দিয়ে সংসারের খরচ চালাই।”
স্বপ্ন আজও বেঁচে আছে: জিহাদের পড়াশোনা করার খুব ইচ্ছা। সে জানায়, “পড়তে খুব মন চায়, কিন্তু বাবার জন্য পড়াশোনা করতে পারছি না। বাবার চিকিৎসা হলে আর সংসারের অবস্থা ভালো হলে আবার পড়াশোনা শুরু করব।” জিহাদের মা বলেন, “আমাদের অভাবের সংসার। ওর বাবা অসুস্থ হওয়ার পর আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। জিহাদ সারাদিন খেটে সংসারের খরচ চালাচ্ছে।”
সহযোগিতার আহ্বান: জিহাদের মতো অনেক শিশুই আজ অভাবের কারণে পড়াশোনা বন্ধ করে সংসারের হাল ধরছে। এই শিশুদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। জসিম চাপরাশির চিকিৎসার জন্য সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার। আপনার একটু সামান্য সহযোগিতা এক নিষ্পাপ শিশুর স্বপ্ন বাঁচাতে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর..