গৌরনদীর ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা, শুদ্ধাচার ও জনবান্ধব প্রশাসনের বার্তা ছড়িয়ে বদলিজনিত কারণে বিদায় নিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টায় গৌরনদী চড়ুইভাতী রেস্তোরাঁ মিলনায়তনে গৌরনদী প্রেসক্লাবের আয়োজনে এক আবেগঘন পরিবেশে তাঁকে এই বিদায়ী সংবর্ধনা জানানো হয়।
গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান নিজেই।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জুলফিকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এম আলম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, প্রেসক্লাবের কার্যকারী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সিনিয়র সাংবাদিক এসএম মোশাররফ হোসেন, মো. মোস্তফা হাওলাদারসহ সকল সদস্যবৃন্দ। আলোচনা শেষে এক আবেগঘন মুহূর্তে ফুল দিয়ে বিদায়ী সংবর্ধনাকে স্মরণীয় করে রাখেন সহকর্মীরা।
কর্মকাল ও জনবান্ধব উদ্যোগসমূহ:
কর্মকালজুড়ে ভূমি অফিসের সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন বিদায়ী এই কর্মকর্তা। ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ ভূমি প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা গৌরনদীতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন, বাজার মনিটরিং, বাল্যবিবাহ রোধ, মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ, ভুয়া ডাক্তার ও ভুয়া দলিলের কারবারি আটক, বন্ধ হয়ে যাওয়া চলার পথ উন্মুক্তকরণ এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে তিনি সবসময় সামনের সারিতে থেকে মাঠে কাজ করেছেন। তাঁর এই দায়িত্বশীল ভূমিকার ফলে রাজস্ব আদায়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়; বিশেষ করে ভূমি উন্নয়ন কর, ভিপি লিজ মানি ও চান্দিনা ভিটি নবায়নসহ বিভিন্ন খাতের রাজস্ব কার্যক্রমে গতি আসে।
বিদায়বেলায় অনুভূতি:
উপস্থিত বক্তারা বলেন, একজন সফল এসিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় অর্জন কেবল রাজস্ব আদায় বা ম্যাজিস্ট্রেসি পরিচালনা নয়—সেবাগ্রহীতার আস্থা অর্জন করা। সেই জায়গায় শুদ্ধাচার, স্বচ্ছতা ও জনসেবার যে সংস্কৃতি তিনি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন, তা তাঁর কর্মকালকে দীর্ঘকাল স্মরণীয় করে রাখবে। গৌরনদী থেকে তাঁর এই বদলি নিছক একটি কর্মপর্বের সমাপ্তি হলেও, তিনি যে জনবান্ধব ভূমি সেবার প্রত্যাশা তৈরি করে গেছেন তা ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বিদায়বেলায় গৌরনীবাসীর একটাই প্রত্যাশা—নতুন কর্মস্থলেও মো. মেহেদী হাসানের কর্মনিষ্ঠা, সততা ও জনসেবার এই পথচলা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকুক।
এ জাতীয় আরো খবর..