বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করা মেধাবী ছাত্রী ও গৃহবধূ ঝুমুর খানম সেতুর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও এলাকাবাসী।
বুধবার সকালে ঢাকায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। অরাজনৈতিক সংগঠন ঢাকাস্থ প্রজন্ম আগৈলঝাড়ার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ, নিহত ঝুমুরের স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতুর বিয়ের পর থেকেই তার কুয়েতপ্রবাসী স্বামী শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিন এবং শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন কারণে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। একপর্যায়ে ঝুমুরকে তার একমাত্র কন্যাসন্তানসহ স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
নিহত ঝুমুর বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। সামাজিকভাবে পাশের গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী মহল্লার মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নিহতের বাবা আব্দুল করিম খানের বরাত দিয়ে বক্তারা বলেন, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচ শতাধিক বরযাত্রী আপ্যায়ন না করা এবং ঝুমুর দেখতে সুন্দরী নন—এমন নানা অজুহাতে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিকভাবে চাপ ও নির্যাতন করে আসছিলেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে ঝুমুরের স্বামী শাহারিয়া ভিডিও কলের মাধ্যমে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে বিষপান করে মারা যেতে বলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। স্বামীর এ ধরনের মানসিক নির্যাতনে ভেঙে পড়ে ঝুমুর পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বিষপান করেন বলে দাবি স্বজনদের।
বিষপানের পর মুমূর্ষু অবস্থায় ঝুমুরকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ওই রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ৫ অক্টোবর সোমবার বেলা ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঝুমুরের মৃত্যুর পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করা হয়েছে। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। পরে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে জানাজা শেষে ঝুমুর খানম সেতুকে তার বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..