বুধবার, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের অর্থ রাখতে এফসি হিসাব খোলার সুযোগ গৌরনদীতে খাসজমিতে দোকান বরাদ্দ, ভিক্ষার থালা ছেড়ে আত্মমর্যাদার পথে দুই হতদরিদ্র মানুষ ভিক্ষার থালা থেকে দোকানের চাবি—গৌরনদীতে দুই পরিবারের জীবনে নতুন অধ্যায় গৌরনদীর পুত্রবধূ ঝুমুরের মৃত্যু, স্বামীর মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ বার্থীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান মিন্টুর নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা দুই কোটি শিশু টিকা পেয়েছে, আরও পাবে ৩৫ লাখ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী টাকার বিনিময়ে কলরেকর্ড বিক্রি, চার পুলিশ গ্রেপ্তার বিশ্ববাজারে ফের বাড়ছে তেলের দাম বিদায়টা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কষ্টের দিন: মেসি এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টে বিদায়ী ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন মেসি

ভিক্ষার থালা থেকে দোকানের চাবি—গৌরনদীতে দুই পরিবারের জীবনে নতুন অধ্যায়

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত
একসময় জীবিকার তাগিদে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো। হাতে থাকত ভিক্ষার থালা, চোখে থাকত অসহায়ত্ব। সেই জীবন থেকে এবার বেরিয়ে আসার সুযোগ পেলেন বরিশালের গৌরনদীর দুই দরিদ্র মানুষ। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে এবার তাঁরা দাঁড়াবেন ব্যবসার পেছনে—নিজেদের শ্রম আর সামর্থ্য দিয়ে গড়বেন নতুন জীবন।
সরকারি খাসজমির চান্দিনা ভিটিতে নির্মিত দুটি দোকানঘর তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হলো সেই নতুন যাত্রা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গৌরনদী উপজেলার ঐতিহাসিক পিঙ্গলাকাঠী বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে দোকানঘর দুটি হস্তান্তর করা হয়। দোকান পাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন পিঙ্গলাকাঠী এলাকার মোঃ মনির সরদার ও কুতুপুর এলাকার মোঃ মজিবর সরদার।
স্থানীয়ভাবে দরিদ্র ও অসহায় হিসেবে চিহ্নিত মনির ও মজিবরকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন গৌরনদী উপজেলা ভূমি প্রশাসন। স্থানীয় মানুষের মতামত ও সামাজিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচন করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দোকানের চাবি হাতে পাওয়ার মুহূর্তটি ছিল তাঁদের জন্য আবেগঘন। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা পেরিয়ে এবার নিজের শ্রমে উপার্জনের সুযোগ পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে দেখা গেছে স্বস্তি ও আশার প্রতিচ্ছবি।
এই উদ্যোগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোঃ ইব্রাহিম। আর পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসান।
মেহেদী হাসান বলেন, সমাজ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি কমাতে শুধু আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়; অসহায় মানুষকে কর্মের সুযোগ করে দিতে হবে। সরকারি সম্পত্তি জনস্বার্থে ব্যবহার করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে স্বাবলম্বী করার এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, “অসহায় মানুষকে শুধু সহায়তা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। সরকারি সম্পত্তি জনকল্যাণে ব্যবহার করা গেলে একজন মানুষের জীবন যেমন বদলায়, তেমনি সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।”
দোকানঘর হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন নলচিড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ জামাল ফকির, সামাজিক ব্যক্তিত্ব মোঃ ফুয়াত হোসেন এ্যনি, পিঙ্গলাকাঠী বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি কেবল দুটি দোকানঘর বরাদ্দের ঘটনা নয়; বরং অসহায় দুই মানুষকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে কর্মমুখী জীবনে ফিরিয়ে আনার একটি মানবিক উদ্যোগ। সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং দরিদ্র মানুষের পুনর্বাসন—দুই দিক থেকেই এ উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভিক্ষার থালা থেকে দোকানের চাবি—মনির ও মজিবরের হাতে তাই শুধু একটি দোকানের দায়িত্ব নয়, তুলে দেওয়া হলো আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার নতুন সুযোগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com