শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের মৌসুম। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হবে বিভিন্ন গবেষণা খাতে অবদাঙ্কারী বিশ্বজয়ীদের।
এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে পুরস্কারের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিয়ে গবেষণা। এই গবেষণাই ওজেমপিক ও মাউঞ্জারোর মতো বহুল ব্যবহৃত ওজন কমানোর ওষুধ তৈরির পথ তৈরি করেছে।
সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর ৬টি বিভাগে ৫ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে এ বছরের বিজয়ীদের নাম জানানো হবে।
বার্তাসংস্থা এএফপির সঙ্গে কথা বলা নোবেল পুরস্কার পর্যবেক্ষকদের মতে, ওজন ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গবেষণা এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পাওয়ার অন্যতম সম্ভাব্য ক্ষেত্র।
খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত ‘গ্লুকাগন-লাইক পেপটাইড-১’ বা জিএলপি-১ মস্তিষ্ককে শরীরের পরিতৃপ্তির সংকেত দেয়। ওজেমপিকের মতো ওষুধ এই হরমোনের কার্যক্রম অনুকরণ করে ক্ষুধা কমাতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার অন্তঃস্রাববিদ ড্যানিয়েল ড্রাকার, ডেনমার্কের চিকিৎসক ইয়েন্স জুল হলস্ট এবং সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় জন্ম নেওয়া মার্কিন রসায়নবিদ স্বেতলানা মোইসভ। ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণে লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোন এবং মানবদেহের অণুজীবসমষ্টি বা মাইক্রোবায়োম নিয়েও গবেষণা নোবেল কমিটির বিবেচনায় থাকতে পারে।
রয়েছে বিকল্প সম্ভাবনাও
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল অন্য কোনো ক্ষেত্রেও যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে ত্বকের পুনর্গঠন ও ক্ষত সারানোর প্রক্রিয়া নিয়ে স্টেম সেল গবেষণা। এ ক্ষেত্রে মার্কিন কোষবিজ্ঞানী এলেইন ফুকস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফিওনা ওয়াটের নাম আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া ‘অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি’ নামের নতুন ইমেজিং প্রযুক্তিও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে শরীরের টিস্যুর উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবি তৈরি করে এই প্রযুক্তি। বিশেষ করে চোখের রেটিনা ও অপটিক নার্ভের রোগ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে এটি ব্যবহার করা হয়।
রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় ‘অ্যাডহিশন রিসেপ্টর’ নিয়ে গবেষণার জন্য মার্কিন ইমিউনোলজিস্ট টিমোথি স্প্রিংগারের নামও আলোচনায় রয়েছে। এসব রিসেপ্টর রোগ প্রতিরোধী কোষকে রক্তনালির সঙ্গে যুক্ত হতে, টিস্যুতে প্রবেশ করতে এবং সংক্রমণের স্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে। প্রদাহ ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা গবেষণাতেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
স্তন ক্যানসার এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সহায়ক ডিএনএ সিকোয়েন্সিং গবেষণাও এবার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে পারে।
আগামী ১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মৌসুম।