রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ ওরফে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং এলাকা থেকে জিন্নাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম ইউনিটের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
এদিন তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহআলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতোয়ার রহমান কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ফয়সাল হোসেন রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এখন পর্যন্ত এই মামলায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে গত ২৬ সেপ্টেম্বর শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, শাহ আলম, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম, সোহেল ও শাকিলকে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর মিলন ও মিন্টুকে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সহিদুল ইসলামকে, গত ১ অক্টোবর সাইফুল ইসলাম ও আলমকে এবং গত ২ অক্টোবর নুর আলমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত ১২টার দিকে শাহ আলী থানা এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করেন। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখেন। পরে হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।
এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের একটি সেমিপাকা ঘর, পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমিপাকা ঘর এবং ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের সেমিপাকা ঘর ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি এসব ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়।
সবশেষে আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন তারা। ভাঙচুরের পর তারা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যান। এ সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং সেখানে সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যান।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় মামলা করেন। এতে মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।