বৃহস্পতিবার, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :

জামায়াত-আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেছেন, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনীতি, আন্দোলনের নেতৃত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত তৈরি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে এক দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন উমামা ফাতেমা।

স্ট্যাটাসের শুরুতেই জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। উমামা লেখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা অনেক মানুষ উড়ে এসে নেতা হয়েছেন। সালাউদ্দীন আম্মারকে তাদের অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।’

জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও তোলেন উমামা। তিনি লেখেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সব ছাত্র সংগঠনকে মাইনাস করে শিবির ও ছাত্রশক্তির কোরামের (গুপ্তশিবির) লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। উমামার ভাষ্য, এর ফলেই ৫ আগস্টের পর ৫ আগস্টের পরে যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।

জামায়াত-আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা

জুলাই আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্র নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন উমামা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যারা জুলাইয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ভাই-ব্রাদার কোরাম ও শিবিরের হাতে বন্দি করেছে, তোদের ওপর আল্লাহর গজব পড়ুক। একই সঙ্গে তাদের ‘মোনাফেকের দল’ বলেও মন্তব্য করেন উমামা।

রাজনৈতিক দলগুলোর মূল্যায়ন নিয়েও স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেন উমামা। তিনি বলেন, বিএনপির খারাপ, ওর খারাপ চোখে দেখা যায়। দেশকে নিয়ে আন্দোলনের পর যারা ছেলেখেলা করছে, তারা সব দখল করতে চাইছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে স্ট্যাটাসের বড় একটি অংশজুড়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন উমামা। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টগুলোকে তিনি মোটেও নিরীহভাবে দেখেন না। তার মতে, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ফেসবুকের ম্যানিপুলেশনই যথেষ্ট হতে পারে।

উমামার অভিযোগ, পর্দার আড়ালে থাকা বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপ সময় সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাইয়ের নামে ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট বা কৃত্রিম জনসম্মতি তৈরি করে।

তরুণদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উমামা। তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে হিরো হিসেবে ম্যানুফ্যাচারড ফিগার আছে অনেক, যারা তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করতে কাজ করছে। আমি মায়ানমারের দিকে তাকালে ভয় পাই। রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য ফেসবুক অত্যন্ত এফিশিয়েন্ট টুল ছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি তৈরির পেছনে মধ্যবিত্তের দীর্ঘদিনের ‘I hate politics’ বা রাজনীতিবিমুখ মানসিকতার কথাও উল্লেখ করেন উমামা।

তিনি বলেন, এগুলা সম্ভব হইছে আমাদের মধ্যবিত্তের-I hate politics থেকে জুলাইয়ে হঠাৎ চোখ ফুটার কারণে, আর সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানিপুলেট করে আজকে একে তো কালকে ওকে হিরো বানানোর কারণে।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেন উমামা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জার্নি এতদিন ৫০ বছরের হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এখন জামায়াতের কারণে ইতিহাসকে ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে শুরু করতে হয়।

দেশের রাজনীতি ‘একদল মোনাফেকের হাতে পড়ছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেন উমামা ফাতেমা।

তিনি বলেন, ‘জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই।’ জামায়াতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে উমামা বলেন, দলটি তাদের ‘গণহত্যার কালিমা’ ঢাকতে দেশকে যে কোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজি আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com