বিদ্যুৎ উৎপাদন, সাশ্রয়ী ব্যবহার, নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বরিশালের গৌরনদীতে উদ্বুদ্ধকরণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গৌরনদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব ও আলোচনা করেন গৌরনদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. এ. হালিম খান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহির, সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক উত্তম দাস, সাংবাদিক মনীষ বিশ্বাস, মোশারফ হোসেন, লিটন খান, পলাশ তালুকদার, সুমন হাওলাদার, এ এম মামুন, রাশেদ আহমেদ, সোহেল আহমেদ, নিলয়সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।
সভায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সম্ভাবনা ও সুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহক নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারেন। এতে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি গ্রাহকের ব্যয় সাশ্রয় এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। একই সঙ্গে নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী গ্রাহক নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উৎপাদিত বিদ্যুৎ আগে নিজের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করে অতিরিক্ত অংশ গ্রিডে সরবরাহ করতে পারেন।
সভায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়, নিরাপদ ব্যবহার, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঠিক পরিচালনা এবং নেট মিটারিংয়ের সুবিধা সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রসার ঘটলে অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বাড়ানো সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ব্যয় কমানোর বিষয় নয়; এটি জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গেও সম্পৃক্ত। তাই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে একদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটবে। ফলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।