বরিশালের গৌরনদীতে গভীর রাতে প্রবাসী কেরামত মাঝির গোয়ালঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি গাভীন গরু, দুটি ছাগল ও আটটি বেলজিয়ান হাঁস পুড়ে মারা গেছে। এ সময় গোয়ালঘর ও পাশের লাকড়ি রাখার স্টোরও পুড়ে যায়। এতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে এ ঘটনায় কোনো মানুষ হতাহত হয়নি। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কটকস্থল এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে কেরামত মাঝির গোয়ালঘরে আগুন জ্বলতে দেখে তাঁর ভাইয়ের ছেলে অপু বিষয়টি দেখতে পান। পরে তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে রাত ১২টা ২৭ মিনিটে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভানোর কাজ করেন। তবে এর আগেই গোয়ালঘরে থাকা গাভীন গরু, দুটি ছাগল ও আটটি বেলজিয়ান হাঁস পুড়ে মারা যায়। ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, আগুনের ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কেরামত মাঝির পরিবারের অভিযোগ, শত্রুতার জেরে গোয়ালঘরে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এর আগেও কেরামত মাঝির ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তবে অগ্নিকাণ্ডটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। অগ্নিকাণ্ডে গৃহপালিত প্রাণী ও গোয়ালঘর হারিয়ে কেরামত মাঝির পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় এলাকায়ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..