মঙ্গলবার, ০১:২৯ অপরাহ্ন, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

বিশ্বজুড়ে ধেয়ে আসছে ঘোর মহাবিপর্যয়

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত

আমাদের মাথার ওপর ডেমোক্লেসের তরবারি ঝুলছে। ‘একদিনের রাজা’ ডেমোক্লেস সম্পর্কে অনেকেরই জানা থাকার কথা। গ্রিক পুরাণের এক চরিত্র। সিসিলি দ্বীপের রাজা ডিওনিসিয়াস তাকে একদিনের জন্য মসনদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেদিন সিংহাসনে বসেই চারপাশে সুস্বাদু খাবার, দাসদাসী, সুর ও জাঁকজমকের ছড়াছড়ি দেখে বেজায় খুশি হয়েছিলেন এই সভাসদ। তিনি যখন এই বিলাসী জীবন উপভোগ করতে শুরু করেছেন, ঠিক তখনই তার চোখ গেল উপরের দিকে। তিনি ভয়ে শিউরে উঠলেন। দেখলেন, ঠিক তার মাথার উপরে ছাদ থেকে একটি ভীষণ ধারালো তরবারি নিচের দিকে মুখ করে ঝুলছে। সেও আবার বাঁধা রয়েছে ঘোড়ার লেজের মাত্র একটি সরু চুল দিয়ে! যে কোনো মুহূর্তে চুলটি ছিঁড়ে তরবারিটি তার মাথার ওপর পড়তে পারে। ভয়ে ডেমোক্লেসের হাত-পা জমে গেল। তার আর কোনো খাবার বা ঐশ্বর্য ভালো লাগল না। তিনি রাজার কাছে গিয়ে মিনতি করে বললেন, ‘আমাকে ক্ষমা করুন, আমার এই রাজত্ব আর সুখের কোনো দরকার নেই। আমাকে বাঁচতে দিন।’

ঠিক তেমনি, এই মুহূর্তে সুতোর ওপর ঝুলছে এক ধারালো খড়্গ, যার ঠিক নিচেই বসে আছে আধুনিক মানবসভ্যতা। ডেমোক্লেসের তরবারির মতোই আজ গোটা বিশ্বের মাথার ওপর দুলছে এক মহাবিপর্যয়ের খাঁড়া। আর তা ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও বেআইনি সামরিক আগ্রাসনের কারণে। এই আগ্রাসনের আঁচ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের শুষ্ক মরুভূমিতেই সীমাবদ্ধ নেই। এই যুদ্ধ এমন এক ভয়ংকর ধারাবাহিক বিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, যা আধুনিক বিশ্বব্যবস্থাকে খাদের একেবারে কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালির মতো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে এক অকল্পনীয় ধস নেমেছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই যুদ্ধ যদি আজ, এই মুহূর্তেই থেমে যায়, তার পরও বিশ্ব অর্থনীতিকে যে ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে তা অপূরণীয়। আর যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়? তবে পরিস্থিতি ১৯?৭০-এর দশকের সেই ভয়ংকর মহামন্দাকেও ছাড়িয়ে যাবে।

বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণে ফুটে উঠছে এই বহুমুখী মহাবিপর্যয়ের রোমহর্ষক চিত্র। আল জাজিরা, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, এনবিসি নিউজ ও সিএনএনের মতো গণমাধ্যম এবং গবেষকদের বাতায়ন দ্য কনভারসেশনের বেশ কয়েকটি প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে ইরান যুদ্ধের অনিবার্য প্রভাব এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

সব সংকটের মূলে তেল সংকট : যুদ্ধে সামরিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও কৌশলগত একটি অস্ত্র ইরানকে এখনও এগিয়ে রেখেছে। বিশ্ব অর্থনীতির শিরা-উপশিরায় রক্ত সরবরাহকারী এক বিশাল ধমনী হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের ২৭ শতাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশ ও বৈশ্বিক সারের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিমেষেই প্রায় এক-পঞ্চমাংশ উধাও হয়ে গেছে।

তবে জ্বালানির এই সংকট এখন আর শুধু পাম্পের তেলের মধ্যেই আটকে নেই, এটি মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে পড়েছে দৈনন্দিন ব্যবহার্য সব পণ্যের সংকটে। পেট্রোলিয়ামের উপজাত ন্যাপথার অভাবে প্লাস্টিক, রাবার ও পলিয়েস্টার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এশিয়ায় প্লাস্টিক রেজিনের দাম ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে রেকর্ড ছুঁয়েছে। এর প্রভাব এতটাই গভীরে যে, জাপানে কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক টিউবের অভাব দেখা দিয়েছে, মালয়েশিয়ায় চিকিৎসায় ব্যবহৃত রাবার গ্লাভস তৈরি হুমকির মুখে পড়েছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দেজান শিরা অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের বিজনেস ইন্টেলিজেন্সের অন্যতম প্রধান কর্মকর্তা ড্যান মার্টিন পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, ‘এই সংকট খুব, খুবই দ্রুত সবকিছুর ওপর গিয়ে পড়ছে : বিয়ার, নুডলস, চিপস, খেলনা, এমনকি প্রসাধনসামগ্রীর ওপরও। তেল ও জাহাজ চলাচলের এই বিঘ্ন খুব দ্রুত পেট্রোকেমিক্যাল ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে আঘাত হানছে।’ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে বলেছে, ‘যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে নানাভাবে রূপ দিতে পারে, তবে এর প্রতিটি পথই শেষ পর্যন্ত উচ্চমূল্য এবং মন্থর প্রবৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে।’

অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি : জ্বালানির এই প্রবল ঘাটতি বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অতল গহ্বরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) জ্যেষ্ঠ ফেলো ব্র্যাড সেটসার সতর্ক করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল বাজার থেকে হারিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৭০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে (যুদ্ধ শুরুর আগে যা ছিল ৭০ ডলার)।’

তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে এক ভয়ংকর মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে। সিএফআরের আরেক ফেলো রজার ফার্গুসন জুনিয়র মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতি ১৯?৭০-এর দশকের মতো ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবিরতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির যুগে ফিরে যাওয়ার চরম ঝুঁঁকিতে রয়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কারখানার চাকা ধীর হয়ে আসছে, যা উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে তলানিতে নামিয়ে আনবে।

খাদ্যনিরাপত্তা, সার ও দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি : পেটে ক্ষুধা থাকলে কোনো ভূরাজনীতিই কাজে আসে না। যুদ্ধের সবচেয়ে নীরব কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তায়। সিএফআরে জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল ওয়ের্জ বলেছেন, ‘এই সংঘাতের কারণে যে খাদ্যসংকট তৈরি হচ্ছে, তা বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হবে। মধ্যপ্রাচ্য শুধু জ্বালানি নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ কৃষিসারেরও মূল সরবরাহকারী।’

ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরআই) গবেষক জোসেফ গ্লোবার জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশ্বজুড়ে ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ও ফসফেট সারের বড় জোগানদাতা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যে ইউরিয়া সারের দাম ১৯ শতাংশ বেড়ে গেছে।

উত্তর আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলের ওপর এর প্রভাব নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক হাফেদ আল গাওয়েল বলছেন, সারের অভাব ও দাম বৃদ্ধির কারণে সাহেল অঞ্চলে আগামী মৌসুমে কৃষিজ উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। একদিকে জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদন কমায় খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মিশর ও তিউনিসিয়ার মতো দেশে সাধারণ মানুষের মুখের রুটি কেড়ে নিয়ে সামাজিক অস্থিরতা ও দাঙ্গার ঝুঁকি তৈরি করছে।

উন্নয়নশীল বিশ্বের দুর্দশা ও প্রবাসী আয়ে ধস : ধনীদের এই দম্ভের খেলায় বরাবরের মতোই সবচেয়ে বেশি পিষ্ট হচ্ছে গরিবরা। এই যুদ্ধের সরাসরি ও সবচেয়ে করুণ ভুক্তভোগী এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলো। ইয়েল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক আহমেদ মুশফিক মোবারকের মতে, এই দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর জ্বালানি ও প্রবাসী আয় উভয় দিক থেকেই প্রবলভাবে নির্ভরশীল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে প্রশ্নোত্তরভিত্তিক এক লেখায় তিনি বলেছেন, ‘আমার নিজ দেশ বাংলাদেশ তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের ২৫ শতাংশ কাতার থেকে আমদানি করে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এই আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে সরকারকে বাধ্য হয়ে ব্যাপক লোডশেডিংয়ে যেতে হবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।’

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, আফ্রিকা ও এশিয়ায় কৃষিজ উৎপাদন কমে গেলে দরিদ্রতম অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া নেপাল বা ফিলিপাইনের মতো দেশের জিডিপির ২৫ শতাংশের বেশি আসে প্রবাসী আয় থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ধসে পড়লে এই অভিবাসী শ্রমিকরা বেকার হবেন। চরম হতাশার সুরে মোবারক বলেন, ‘এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যারা কোল্যাটারাল ড্যামেজ বা বিনা দোষে মারা যাচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই এই অভিবাসী শ্রমিক।’

স্বাস্থ্য খাতের বিপর্যয় ও ওষুধের হাহাকার : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধ ও আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবায় এক অভূতপূর্ব সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্থার মহাপরিচালক ড. তেদরোস আধানোম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, এই সংঘাত ১৬টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে অন্তত ১৩টি হামলার ঘটনা আমরা যাচাই করেছি। শুধু তেহরান থেকেই প্রায় এক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।’

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক ড. হানান বালখি বলেছেন, দুবাইয়ে অবস্থিত গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি লজিস্টিকস হাবের কার্যক্রম নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর ফলে ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম আটকে আছে। ২৫টি দেশ থেকে আসা ৫০টির বেশি জরুরি ওষুধের ফরমায়েশ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে গাজার জন্য ৬ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ এবং পোলিও ল্যাবরেটরির সরঞ্জামও রয়েছে।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে আঘাত : একুশ শতকের স্নায়ুকেন্দ্র হলো ডেটা বা তথ্য। যুদ্ধের এই দাবানল থেকে রেহাই পায়নি ভবিষ্যতের প্রযুক্তি খাতও। সিএফআরের ফেলো ক্রিস ম্যাকগুয়ার জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে আমিরাতে ব্যাংকিং খাতসহ ডিজিটাল সেবায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটে। তিনি বলেন, ‘এই হামলাগুলো প্রমাণ করে, বিশ্বের সবচেয়ে দামি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো এমন একটি অস্থিতিশীল অঞ্চলে স্থাপন করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। যত দিন এই সংঘাত থাকবে, তত দিন এআই ডেটা সেন্টারগুলো ধ্বংসের ঝুঁকিতে থাকবে।’ এটি বৈশ্বিক এআই সাপ্লাই চেইনের ওপর এক মারাত্মক আঘাত।

ভূরাজনীতি, এশিয়া ও ভবিষ্যতের হিসাবনিকাশ : সব মিলিয়ে বিশ্ব এক নতুন মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে। যুদ্ধের ভূরাজনৈতিক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক মহাপরিচালক মোহাম্মদ রেজা বাহরামির মতে, এই যুদ্ধ ইরান নিজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ পশ্চিমা বলয়ের মধ্যে ফাটল তৈরি করছে। একই সঙ্গে চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো অ-পশ্চিমা পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।’

অধ্যাপক মুশফিক মোবারকও তার লেখায় একই সুরে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প হিসেবে চীনের দিকে ঝুঁকবে। ব্যবসায়ের জন্য চীনকে তারা আরও নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে করতে শুরু করবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ বিঘ্নিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com