প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে ভ্যাপসা আবহাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গতকাল দেশের ৪৫ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। দিনের বেলায় রাস্তাঘাট, বাজার, গণপরিবহন ও কর্মস্থলে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষেরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রার চেয়েও বেশি ভোগান্তি তৈরি করছে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ। ফলে অনেক এলাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলেও অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি মনে হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছেÑ রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। তবে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে।
আর গতকাল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই ছাতা, টুপি কিংবা পানির বোতল সঙ্গে রাখছেন। দুপুরের দিকে সড়কে মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কমে গেছে। গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমতে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে পারে।