আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের ভোটের মাঠ। ভোটের লড়াইয়ে আছেন বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট আট প্রার্থী। তবে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মূল লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ জনপদটিতে এখন দুর্গ গড়তে চায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থানের কারণেই উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এ জনপদে অন্য দলের প্রার্থীদের জয়লাভ সহজ ছিল না। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সেখানকার ভোট নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ।
পীরগঞ্জ আসনে এক সময় জাতীয় পার্টির ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। ১৯৮৬ সালের লাঙল প্রতীকে মো. আব্দুল জলিল বিজয়ী হন। পরে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এরশাদ নিজেই এই এরশাদ আসন ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনসহ পরপর দুইবার লাঙল প্রতীকে নুর মোহাম্মদ মণ্ডল বিজয় লাভ করেন। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগ মহাজোট গঠন করে শেখ হাসিনা এই আসনে নির্বাচন করে জয়ী হন। পরে তিনি আসন ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বিজয়ী হন। এরপর ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। তিনি পরে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে বিজয়ী হন। কিন্তু দেশের নতুন রাজনৈতিক পটভূমিতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং ভোটের প্রচার চালাচ্ছে জাতীয় পার্টি।
এদিকে আটঘাট বেঁধে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে আছে বিএনপি। ইউনিয়ন পর্যায়ের শক্তি বাড়াতে নিয়মিত সময় দিচ্ছেন জেলা ও উপজেলার নেতারা। সব বাধা উপেক্ষা করে জাপার ঘাঁটিকে নিজেদের দুর্গে পরিণত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে বিএনপির প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা। রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের প্রচারণা চোখে পড়ার মতো। দিনরাত প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দুবার পীরগঞ্জের আবু সাঈদের বাড়িতে এসেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ অবস্থায় দলটির প্রার্থীর প্রচার জানান দিচ্ছে যে জাতীয় পার্টির দুর্গ পীরগঞ্জ আসন দখলে কাজ করছে তারা। এ আসন থেকে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিনের এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে।
পীরগঞ্জের কয়লা ও লৌহখনি উত্তোলন, জ্বালানি সংকট নিরসন, পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা ও বেকারত্ব দূরীকরণে কাজ করবেন মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, ‘দীর্ঘদিনের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে মানুষ ইনসাফ কায়েম করতে চায়। পীরগঞ্জের যে পরিবর্তন এসেছে তাতে আমাদের বিজয় ইনশাআল্লাহ সুনিশ্চিত।’ জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নূর আলম মিয়া যাদু বলেন, ‘পীরগঞ্জের মানুষ লাঙলে ভোট দিতে অভ্যস্ত। সুষ্ঠু ভোট হলে আমি জয়ী হব। জনগণের ভোটেই পীরগঞ্জে জাতীয় পার্টির দুর্গ পুনরুদ্ধার হবে।’
পীরগঞ্জের উন্নয়ন ও যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ নানামুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু জাফর মো. জাহিদ বলেন, ‘আমাকে এ এলাকার মানুষ ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে ভোট দেবে। আমার গায়ে কোনো কলঙ্কের ছাপ নেই। তাই জয়ের ব্যাপারে আমি অনেক আশাবাদী।’
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩,৫৫,৭৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৭৬, ১০২ জন, নারী ভোটার ১,৭৯, ৬২৯ জন এবং হিজড়া ভোটার চারজন। এ আসনে মোট ১১৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে।