শনিবার, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চ পরিদর্শনে ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূত জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ধানের শীষই একমাত্র ভরসা-জহির উদ্দিন স্বপন  গৌরনদীতে সেনা তল্লাশিতে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তির কাছ থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার মেয়েদের পাশে বসে সেলফি তোলে মুরুব্বি মানুষটা: চরমোনাই পীর শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহত, ইউএনও-ওসি প্রত্যাহার ক্ষমতায় গেলে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা তারেক রহমানের মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের আদর্শ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তার উত্তরাধীকার হিসাবে কাজ করতে চাই -জহির উদ্দিন স্বপন রুমিনের ফারহানার প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় বিএনপির ৭১ সদস্যের কমিটি স্থগিত গণসম্মতি ও গণভোট পালং শাক খাওয়ার ৫ উপকারিতা

জাপার ঘাঁটিতে দুর্গ গড়তে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের ভোটের মাঠ। ভোটের লড়াইয়ে আছেন বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট আট প্রার্থী। তবে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মূল লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ জনপদটিতে এখন দুর্গ গড়তে চায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থানের কারণেই উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এ জনপদে অন্য দলের প্রার্থীদের জয়লাভ সহজ ছিল না। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সেখানকার ভোট নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ।

পীরগঞ্জ আসনে এক সময় জাতীয় পার্টির ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। ১৯৮৬ সালের লাঙল প্রতীকে মো. আব্দুল জলিল বিজয়ী হন। পরে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এরশাদ নিজেই এই এরশাদ আসন ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনসহ পরপর দুইবার লাঙল প্রতীকে নুর মোহাম্মদ মণ্ডল বিজয় লাভ করেন। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগ মহাজোট গঠন করে শেখ হাসিনা এই আসনে নির্বাচন করে জয়ী হন। পরে তিনি আসন ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বিজয়ী হন। এরপর ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। তিনি পরে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে বিজয়ী হন। কিন্তু দেশের নতুন রাজনৈতিক পটভূমিতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং ভোটের প্রচার চালাচ্ছে জাতীয় পার্টি।

আসনটিতে ভোটের লড়াইয়ে আছেন জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা কর্মপরিষদ সদস্য সহকারী অধ্যাপক মওলানা মো. নুরুল আমিন, রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মওলানা সুলতান মাহমুদ, জাতীয় পার্টি সমর্থিত মো. নুর আলম মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান, মো. সাদেকুল ইসলাম, প্রবাসী আবু জাফর মো. জাহিদ এবং তাকিয়া জাহান চৌধুরী।
ইসলামী আন্দোলনের সুলতান মাহমুদ গত পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। তার পক্ষে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন দলের নেতাকর্মীরা। সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আমি আশাবাদী। আমি জয়ী হব। আমাদের মধ্যে ঐক্য আছে। আমরা প্রতিটি ইউনিয়নের ভোটারদের কাছে যাচ্ছি হাতপাখার জন্য ভোট প্রার্থনা করছি।’

এদিকে আটঘাট বেঁধে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে আছে বিএনপি। ইউনিয়ন পর্যায়ের শক্তি বাড়াতে নিয়মিত সময় দিচ্ছেন জেলা ও উপজেলার নেতারা। সব বাধা উপেক্ষা করে জাপার ঘাঁটিকে নিজেদের দুর্গে পরিণত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে বিএনপির প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা। রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের প্রচারণা চোখে পড়ার মতো। দিনরাত প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশের পরিকল্পনায় পীরগঞ্জবাসী উজ্জীবিত। ধানের শীষের প্রতি গণজোয়ার উঠেছে। আমি আশাবাদী, পীরগঞ্জের মানুষ এবার ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবেন।’

অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দুবার পীরগঞ্জের আবু সাঈদের বাড়িতে এসেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ অবস্থায় দলটির প্রার্থীর প্রচার জানান দিচ্ছে যে জাতীয় পার্টির দুর্গ পীরগঞ্জ আসন দখলে কাজ করছে তারা। এ আসন থেকে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিনের এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে।

পীরগঞ্জের কয়লা ও লৌহখনি উত্তোলন, জ্বালানি সংকট নিরসন, পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা ও বেকারত্ব দূরীকরণে কাজ করবেন মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, ‘দীর্ঘদিনের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে মানুষ ইনসাফ কায়েম করতে চায়। পীরগঞ্জের যে পরিবর্তন এসেছে তাতে আমাদের বিজয় ইনশাআল্লাহ সুনিশ্চিত।’ জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নূর আলম মিয়া যাদু বলেন, ‘পীরগঞ্জের মানুষ লাঙলে ভোট দিতে অভ্যস্ত। সুষ্ঠু ভোট হলে আমি জয়ী হব। জনগণের ভোটেই পীরগঞ্জে জাতীয় পার্টির দুর্গ পুনরুদ্ধার হবে।’

পীরগঞ্জের উন্নয়ন ও যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ নানামুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু জাফর মো. জাহিদ বলেন, ‘আমাকে এ এলাকার মানুষ ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে ভোট দেবে। আমার গায়ে কোনো কলঙ্কের ছাপ নেই। তাই জয়ের ব্যাপারে আমি অনেক আশাবাদী।’

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩,৫৫,৭৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৭৬, ১০২ জন, নারী ভোটার ১,৭৯, ৬২৯ জন এবং হিজড়া ভোটার চারজন। এ আসনে মোট ১১৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com