শনিবার, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চ পরিদর্শনে ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূত জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ধানের শীষই একমাত্র ভরসা-জহির উদ্দিন স্বপন  গৌরনদীতে সেনা তল্লাশিতে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তির কাছ থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার মেয়েদের পাশে বসে সেলফি তোলে মুরুব্বি মানুষটা: চরমোনাই পীর শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহত, ইউএনও-ওসি প্রত্যাহার ক্ষমতায় গেলে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা তারেক রহমানের মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের আদর্শ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তার উত্তরাধীকার হিসাবে কাজ করতে চাই -জহির উদ্দিন স্বপন রুমিনের ফারহানার প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় বিএনপির ৭১ সদস্যের কমিটি স্থগিত গণসম্মতি ও গণভোট পালং শাক খাওয়ার ৫ উপকারিতা

ক্ষমতায় গেলে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা তারেক রহমানের

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত

ক্ষমতায় গেলে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর আমরা কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি, নিশি-রাতের নির্বাচন দেখেছি, গায়েব নির্বাচন দেখেছি, দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তারা চলে গেছে, যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। কিন্তু আরেকটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করছে। ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে। কিভাবে এই নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, কিভাবে বাধাগ্রস্ত করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ এখানে হাজার লক্ষ মানুষ, যারা আপনারা উপস্থিত হয়েছেন আপনারাসহ আপনারা যতো মানুষের সঙ্গে থাকবেন প্রত্যেককে বলবেন যে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন যাতে কেউ বানচাল করতে না পারে সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে, সকলকে সজাগ থাকতে হবে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। কারণ এজন্য আমরা বিশ্বাস করি, শান্তি থাকলে আমি যে কথাগুলো আপনাদের সামনে বললাম, সেই কাজগুলো আমরা বাস্তবায়ন করতে চাব। আমরা ঝগড়া-ফ্যাসাদ বিবাদের মধ্যে যেতে চাই না এবং যেতে চাই না বলেই, আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে কারো কোনো সমালোচনা করছি না। বরং আমি যদি সমালোচনা করি আপনাদের কোনো লাভ হবে? আপনাদের পেট ভরবে? পেট ভরবে আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, আপনাদের কৃষি লোন ১০০০০ টাকা যে মওকুফ করব, সেটা করা সম্ভব হবে, ওটা করা সম্ভব হবে না; সেজন্যই আমি কারো সমালোচনায় যেতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোথাও যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আছে, তাদেরকে বলব সঠিক সুষ্ঠ তদন্ত করুন। সেই তদন্তে যদি বিএনপির কোনো ভূমিকা থাকে সঠিক তদন্ত করার জন্য আমরা সহযোগিতা করব, সাহায্য করব। কিন্তু অবশ্যই ঘটনার সঠিক তদন্ত হতে হবে। সঠিক তদন্ত অনুযায়ী, দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হতে হবে। যদি কোথাও কোনো কোনো বিভেদ কোনো কোনো সমস্যা হয়ে থাকে আমাদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার কথা, আমরা দেশের শান্তি চাই। মুসলমান-হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সকলকে নিয়ে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। এই দেশে ৭১ সালে যখন স্বাধীনতার যুদ্ধ হয়েছিল, তখন সবাই যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছেন, তখন আমরা কেউ দেখিনি কার কোন ধর্ম।’

তারেক রহমান বলেন, ‘রাজশাহী নিয়ে কথা বললে তখন দুটো বিষয় তাদের চোখে ভেসে ওঠে, প্রথমে রাজশাহী বললেই বুঝায় পদ্মা নদী… কিন্তু এখন দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, কোনো পানি নাই। পদ্মার সঙ্গে যে খালগুলো, সেগুলোতেও কোনো পানি নাই। এরপরে রাজশাহী বললে বুঝায়, শিক্ষানগরী। এই নগরীতে বহু শিক্ষিত উচ্চ শিক্ষিত মানুষ আছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে বহু মানুষ আজকে কর্মসংস্থানের অভাবে ঘরে বসে আছে। ঠিক এখানে আইটি পার্ক করেছে, কিন্তু কোনো কাজ হয় না। এখন এই বিষয়গুলো আমাদেরকে নজর দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নদীতে পানি দরকার, রাজশাহীসহ এই বিভাগে যে বরেন্দ্র প্রকল্প, যেটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন, এই প্রকল্প চালু করার পরেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দেশ খাদ্যের দ্বিগুণ উৎপাদন করে। এখন সেই বরেন্দ্র প্রকল্প প্রায় আজ বন্ধ বন্ধ অবস্থা। এই প্রকল্প শহীদ জিয়া যেটা রেখে গিয়েছিলেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় আরও বড় করা হয়েছিল। এবং পরবর্তীতে বিশাল একটি প্রজেক্ট শুধু যে খাল, শুধু যে রাস্তা তা না, এটাতে বর্ণনাও ছিল বনের ব্যবস্থা ছিল, ছোট ছোট ছোট বনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু বিগত ১৬ বছর আমরা দেখেছি যে, এটাতে কোনো কাজ নেই। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বরেন্দ্র প্রকল্প সবচেয়ে বড় প্রকল্প ছিল, যাদের নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় ১০০০ কোটি টাকা। কিন্তু সেই বরেন্দ্র প্রকল্পকে ধামাচাপা দিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই প্রকল্পকে চালু করতে চাই, সঠিকভাবে আমার এই এলাকার খালগুলোকে আমরা খনন করতে চাই, পদ্মা নদীকে আমরা খনন করতে চাই। আরেকটি কাজ করতে চাই, যদি আপনাদের সমর্থন থাকে; ধানের শীষ সরকার গঠন করলে ইনশাল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজে হাত দিতে চাই।’

ক্ষমতায় গেলে কৃষি পেশায় নিয়জিতদের সবরকম সহায়তা করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘রাজশাহী সহ উত্তরাঞ্চল মূলত কৃষি নির্ভর। প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষির পেশা। কৃষি পেশার সংক্রান্ত যে সকল ইন্ডাস্ট্রি করা সম্ভব সেগুলোর একটি তালিকা কম বেশি আমরা তৈরি করেছি। এবং ইনশাল্লাহ। নির্বাচনের পরে সরকার গঠনে সক্ষম হলে সরকার থেকে সব রকম সহায়তা দেওয়া হবে। যে সকল উদ্যোক্তা কৃষি সংক্রান্ত মিল ফ্যাক্টরি এই রাজশাহী সহ পুরো উত্তরাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত করবে তাদেরকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। যাতে করে তারা মিল ফ্যাক্টরি করতে পারে। কারণ তারা যদি মিল ফ্যাক্টরি করে, তাহলে এই এলাকার সন্তানরা সেটি রাজশাহী জেলা হোক, সেটি সমগ্র উত্তরাঞ্চলের মানুষ হোক, তাহলে তারা তাদের কর্মসংস্থানের সুবিধা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় ভাই বোনেরা যেহেতু রাজশাহী সহ উত্তর অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। যদিও সমগ্র বাংলাদেশেরই অধিকাংশ মানুষ কৃষি পেশার সাথে জড়িত। দেশের বৃহৎ একটি জনসংখ্যার বৃহৎ একটি অংশ কৃষি পেশার সাথে জড়িত। কাজেই কৃষক যদি আজকে ভালো থাকে। তাহলে অবশ্যই। দেশের মানুষ ভালো থাকবে। কৃষক যদি আজকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালীভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, তাহলে দেশের মানুষও সহজেই কৃষি উৎপাদিত পণ্যগুলো তারা সহজেই ব্যবহার করতে পারবে।’

কৃষি কার্ড দেওয়া প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা ঠিক ফ্যামিলি কার্ড যেরকম মায়েদের হাতে পৌঁছে দিতে চাই; তেমনি কৃষক ভাইদের জন্য আমরা একটিকৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যার মাধ্যমে তারা ব্যাংকের ঋণসহ যার মাধ্যমে তারা সরকারের পক্ষ থেকে কীটনাশক ওষুধ বীজসহ সারসহ এই সুবিধাগুলো সরাসরি আমরা কৃষক ভাইদের হাতে পৌঁছে দিতে চাই। এবং আমরা আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা হিসাব-নিকাশ করে দেখেছি, এবং তারপরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ১০০০০ টাকা পর্যন্ত যাদের কৃষি ঋণ এই মুহূর্ত পর্যন্ত আছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয়ী সরকার গঠন করলে, আমরা ১০০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন সুদসহ মওকুফ করব ইনশাআল্লাহ।’

মেগা প্রকল্প ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর ১৭ বছর এই দেশের সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার যেরকম কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, এই দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার যেমন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, ঠিক দেশের মানুষের জন্য কোনো কাজ করা হয় নাই। আমরা দেখেছি যে কিভাবে কতগুলো মেগা মেগা প্রকল্প করা হয়েছে এবং এই মেগা প্রকল্পের উদ্দেশ ছিল মেগা দুর্নীতি। কিন্তু এলাকার মানুষের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, মা বোনদের পাশে দাঁড়ানো, এইরকম কোনো কাজ এলাকার হাসপাতাল, স্কুল-কলেজগুলো ঠিক করা, শিক্ষক ঠিকমতন পাঠানো, ডাক্তার ঠিকমতন পাঠানো, এগুলো বিগত ১৬-১৭ বছর হয় নাই।’

জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট একটি পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তনটি হতে হবে জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। অর্থাৎ এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যে, এই পরিবর্তন জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন, এবং সেজন্যই আজকে আমাদের জন্য এই ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আমরা আগামী দিন দেশকে কোন দিকে পরিচালিত করব? দেশকে আমরা গণতন্ত্রের দিকে পরিচালিত করব, নাকি দেশ অন্য কোন দিকে চলে যাবে? এই বিষয়ে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গণতন্ত্রের দিকে যদি আমরা দেশকে দাবিত করি, গণতন্ত্রের দিকে যদি আমরা দেশকে পরিচালিত করি তাহলে আপনাদের সামনে আমি যে পরিকল্পনার কথাগুলো তুলে ধরলাম, আপনাদের যেই দাবিগুলো বা আপনাদের এই চাওয়াগুলোর কথা তুলে ধরলাম, মানুষের উপকার হয় এরকম কাজের কথাগুলো আমি তুলে ধরলাম, সেই কাজগুলোকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। কিন্তু আমরা যদি গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে না পারি, তাহলে মেগা প্রজেক্ট হবে। জনগণের কোনো প্রজেক্ট হবে না।’

গণতন্ত্রকে বাস্তবায়ন করতে হবে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রিয় ভাই বোনেরা জনগণের প্রজেক্টকে যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে অবশ্যই গণতন্ত্রকে বাস্তবায়ন করতে হবে। গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে হবে। কারণ গণতন্ত্রের ভিত্তি যদি মজবুত হয় তাহলেই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা মূলক শাসন দেশে আসবে। জনগণের কাছে যারা জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে, তারাই জনগণের জন্য কাজ করবে। অতীতে আমরা দেখেছি যারা ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল, জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। এবং জনগণের কাছে যেহেতু তাদের কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। সেজন্যই আমরা দেখেছি দেশে কিভাবে দুর্নীতি হয়েছে, দেশে কিভাবে অনাচার হয়েছে, দেশে কিভাবে গুম হয়েছে, দেশে কিভাবে খুন হয়েছে; দেশে কিভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ গায়েবি মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।’ ‍

সবাইকে সতর্ক করে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় ভাই বোনেরা আসুন আজকে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে আমাদেরকে অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। অবস্থার পরিবর্তনের অর্থ যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্রকে সুসংগত করা, গণতন্ত্রের ঝান্ডাকে ওপরে তুলে ধরা। কোনোভাবেই গণতন্ত্রের ঝান্ডা যাতে নেমে যেতে না পারে, এ ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com