শনিবার, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চ পরিদর্শনে ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূত জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ধানের শীষই একমাত্র ভরসা-জহির উদ্দিন স্বপন  গৌরনদীতে সেনা তল্লাশিতে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তির কাছ থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার মেয়েদের পাশে বসে সেলফি তোলে মুরুব্বি মানুষটা: চরমোনাই পীর শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহত, ইউএনও-ওসি প্রত্যাহার ক্ষমতায় গেলে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা তারেক রহমানের মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের আদর্শ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তার উত্তরাধীকার হিসাবে কাজ করতে চাই -জহির উদ্দিন স্বপন রুমিনের ফারহানার প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় বিএনপির ৭১ সদস্যের কমিটি স্থগিত গণসম্মতি ও গণভোট পালং শাক খাওয়ার ৫ উপকারিতা

৭৮ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী, নড়েচড়ে বসছে জামায়াত

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৮টি আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত, সাবেক এবং নেতাদের পরিবারের সদস্যরা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। জামায়াত জোটের প্রার্থীরা একে সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বিপরীতে জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী আছে একটি আসনে।

জামায়াত জোট একে সুযোগ হিসেবে দেখলেও বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী অনেকেই নিজ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে এসেছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিএনপি জোটের শরিক দলের প্রার্থীরাও ঝুঁকিতে পড়েছেন। কারণ সেসব আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে ২৯২ আসনে এবং জোটের শরিকদের ছেড়েছে ৮টি আসন। ২৯২ জনের মধ্যে আবার বিভিন্ন দল থেকে আসা নেতাদের ৬ জনকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছে দলটি।
প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর ৮২ আসনে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল এমন ৯৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী, নাটোর-১ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী এবং শেরপুর-৩ ও কুমিল্লা-৯ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী ধানের শীষের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান। আর রংপুর-৩ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন। এ অবস্থায় ৭৮ আসনে এখনও সক্রিয় বিএনপির ৯২ জন বিদ্রাহী। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ায় ৯৮ জনেরই নাম ও প্রতীক ব্যালটে থাকবে।

বিএনপি জোটের এই পরিসংখ্যান মাথায় রেখে নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এতে তাদের বাড়তি সুবিধা হবে– এ কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না দলটি। তবে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা সমকালকে বলেছেন, নির্বাচনের হিসাব পাল্টে দিতে পারে বিএনপির বিদ্রাহী প্রার্থীরা। বিশেষ করে ঢাকা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৯৪ আসনে জামায়াত জোটের অবস্থান দুর্বল ছিল। এই দুই বিভাগে পাঁচ-ছয়টির বেশি আসন জয়ের আসন আশা ছিল না। এ দুই বিভাগের ৩৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এ সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং নির্বাচন পরিচালন কমিটির সদস্য সচিব আবদুল হালিম সমকালকে বলেন, দেশের যে কোনো যোগ্য নাগরিক নির্বাচন করতে পারেন। কাউকে বিএনপির বিদ্রোহী নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই গণ্য করছে জামায়াত জোট। তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় কিছু জায়গায় জামায়াতের সুবিধা হতে পারে। তবে তাদের ভরসায় নয়, জামায়াত নিজের শক্তি এবং জনগণের ভরসায় নির্বাচন করছে।

বিদ্রোহীদের পক্ষেও বিএনপির নেতাকর্মীরা 
দলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সারাদেশে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় অনেক আসনে নব্য, বিগত দিনের সুবিধাভোগী, আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় ছাড়াও প্রবাসের অনেককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ত্যাগী, যোগ্য আর জনপ্রিয় নেতাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এতে মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ক্ষুব্ধ ও জনপ্রিয় নেতারাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে মাঠে নেমেছেন। দল থেকে কঠোর হুঁশিয়ারিতেও তারা মাঠ ছাড়েননি। পরে দল থেকে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বহিষ্কারেও তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

এর মধ্যে আবার অনেকে নিজ জনপ্রিয়তায় এবং দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এসব এলাকায় জামায়াত জোট, জাতীয় পার্টি ও বাম জোটের প্রার্থীও রয়েছেন। ফলে ঘরে-বাইরে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে যাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা।

এসব বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সমকালকে বলেন, ভোটের মাঠে বিএনপি সবচেয়ে যোগ্য নেতাদের হাতেই ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়েছে। নির্বাচনে হার-জিত থাকবে। সেখানে জনপ্রিয় নেতারা এগিয়ে থাকবেন–এটাই স্বাভাবিক।

মধ্যাঞ্চলে জামায়াত জোটের সুযোগ 
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় দলীয় ইতিহাসে এবারই প্রথম জামায়াত ভোটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগ নিয়ে গঠিত দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষ জোর দিচ্ছে জামায়াত। এই অঞ্চলের ১০৮টি আসনে ১০১টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে জামায়াত। এই অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক আসন জেতার আশা করা জামায়াতের সুবিধা করেছেন বিএনপির বিদ্রোহীরা। রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনে ৪, ঢাকার ৩৯ আসনে ৮ এবং খুলনার ৩৬ আসনের ১১টিসহ অন্তত ২৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

ময়মনসিংহ, ঢাকা এবং বরিশাল বিভাগ নিয়ে গঠিত দেশের মধ্যাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি আসন ১১৫টি। এ অঞ্চলে জামায়াত দুর্বল। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এ অঞ্চলে ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের জোট এ অঞ্চলে ১১৩টি আসন পেয়েছিল। ভোটের হিসাবে তার পরেই রয়েছে বিএনপি। আর ১৯৯১ সালে রাজবাড়ী-২ আসন বাদে ঢাকা ও ময়মনসিংহে কখনও কোনো আসনে জিততে পারেনি জামায়াত।

আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে মধ্যাঞ্চলে জামায়াতকে সুবিধা করে দিতে পারেন ৩৮ আসনে বিএনপির সক্রিয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বরিশালের ২১ আসনে ৩টিতে, ময়মনসিংহের ৩৮ আসনের ১৮টিতে এবং ঢাকায় ৫৬ আসনে ১৭টিতে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। বিদ্রোহীর ছড়াছড়ি মধ্যাঞ্চলে জামায়াতকে সুবিধা দিতে পারে।
মধ্যাঞ্চলের চেয়ে ভালো হলেও সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ নিয়ে গঠিত দেশের পূর্বাঞ্চলেও জামায়াত বিএনপির তুলনায় দুর্বল। এই অঞ্চলের ৭৭ আসনে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ১৮ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। সিলেটের ১৯ আসনে ৬ এবং চট্টগ্রামের ৫৭ আসনে ১২টিতে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

৪৯ আসনে জামায়াতের সুবিধা
এবারের নির্বাচনে জামায়াত ২২৪ আসনে লড়াই করছে। বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত জোট। চরমোনাই পীরের সম্মানে সেখানে প্রার্থী দেওয়া হয়নি বলে দলটি জানায়। বাকি ৭৫ আসনের মধ্যে এনসিপিকে ৩০, মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২৩, খেলাফত মজলিসকে ১৩, এলডিপিকে ৬, এবি পার্টি ৪, নেজামে ইসলামকে ৩, বিডিপি ২ এবং খেলাফত আন্দোলনকে ১টি আসন ছেড়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি আসন উন্মুক্ত রয়েছে; যেখানে একাধিক শরিক দলের প্রার্থী রয়েছেন। এর বাইরেও অনেক আসনে প্রার্থী রয়েছে শরিক দলগুলোর। যেমন বাংলাদেশ খেলাফত ৩৩ এবং এবি পার্টি ৩০ আসনে প্রার্থী রেখেছে।

বিএনপি-সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে এমন ৭৯ আসনের ৪৯টিতে জামায়াত সরাসরি লড়াইয়ে রয়েছে। ১৭টি আসনে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা রিকশা প্রতীকে ভোটে রয়েছেন। ৯টি আসনে জামায়াত জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক এনসিপির প্রার্থীরা শাপলাকলি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। দেয়ালঘড়ি প্রতীকে ৬টি আসনে নির্বাচন করছেন খেলাফত মজলিস, বিডিপি, এলডিপি, খেলাফত আন্দোলন ও নেজামে ইসলামের প্রার্থীরা।

বিএনপি-সংশ্লিষ্টরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এমন ৭টি আসনে জামায়াত জোটের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে জামায়াত জোটের শরিক এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফতের প্রার্থী রয়েছে। কিশোরগঞ্জ-১ এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী রয়েছে। রাজবাড়ী-২ আসনে এনসিপি এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত এবং খেলাফত আন্দোলন উভয় দলের প্রার্থী রয়েছে। ময়মনসিংহ-১০ আসনে জামায়াত এবং এলডিপির প্রার্থী রয়েছে।

জয়ের সুযোগ তৈরি করেছে বিদ্রোহী 
দিনাজপুর-২ এবং দিনাজপুর-৫ আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। জামায়াতের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি আসনেই দাঁড়িপাল্লার নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। তবে দিনাজপুর-৫ আসন এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ না থাকায়, বিএনপির জয় সহজ ছিল। কিন্তু আসনে বিদ্রোহী থাকায় ধানের শীষের ভোট ভাগ হবে; যা জামায়াত জোটের জন্য সুবিধাজনক হবে।
এছাড়া উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা-৫ আসনে জামায়াত জেলার অন্যান্য আসনের তুলনায় দুর্বল। তবে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারুক আলমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছেন দলটির জেলা শাখার বহিষ্কৃত সহসভাপতি নাহিদুজ্জামান নিশাদ। এতে সুবিধা হয়েছে জামায়াতের।

১৯৯১ সালের পর নাটোর-৩ আসনে জিততে পারেনি জামায়াত। এবার এ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা শাখার বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ। এতে সুবিধা হয়েছে জামায়াত প্রার্থী সাইদুর রহমানের।

নওগাঁ জেলায় ১৯৯১ সালের পর জিততে পারেনি জামায়াত। এবার জেলার তিনটি আসনে বিএনপির শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি ছালেক চৌধুরী এবং নওগাঁ-৬ আসনে বিদ্রোহী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। এতে জামায়াতের সুবিধা হবে।

পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তালেব মণ্ডল। বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। দুই পক্ষের নির্বাচনে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে এই নির্বাচন ত্রিমুখী হয়েছে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায়। বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে সহজ আশা করছে জামায়াত।
বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরায় জামায়াতের অবস্থা শক্তিশালী। এই তিন জেলার ১৪টি আসনের ৭টিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে; যা জামায়াতের জন্য নির্বাচনকে সহজ করে দিয়েছে।

মধ্যাঞ্চলে হঠাৎ সুযোগ 
ময়মনসিংহ বিভাগে কখনও আসন জিততে পারেনি জামায়াত। এই বিভাগের শেরপুর-১ এবং ময়মনসিংহ-৬ আসনে জামায়াতের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তবে দুটি আসনেই এবার বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। শেরপুর-১ বিএনপির ডা. সানসিলা জেব্রিন প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী দলের জেলা শাখার বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এতে জামায়াত প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলামের সুবিধা হয়েছে।

তবে ময়মনসিংহ-৬ আসনে জামায়াত নিজেই চাপে পড়েছে দলীয় বিদ্রোহীর কারণে। এই আসনে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির জসিমউদ্দিন আহমেদ বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। তবে চাপ কমেছে বিএনপির সাবেক এমপি শামসুদ্দিন আহমেদের স্ত্রী এবং উপজেলা মহিলা দলের নেতা আখতার সুলতানার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায়। এতে বিএনপিরও ভোট ভাগ হবে।
ময়মনসিংহ-৭, মানিকগঞ্জ-১ ঢাকা-৭, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াত প্রার্থীরা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে এসেছেন বিএনপির বিদ্রোহীদের কারণে। ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকের মুখপাত্র সানজিদা ইসলাম তুলি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন এই আসনের সাবেক এমপি ও থানা বিএনপির আহ্বায়ক পদ থেকে সদ্য বহিষ্কার হওয়া এস এ সাজু। ধানের শীষের ভোট ভাগ হওয়ায় এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে এসেছেন জামায়াতের প্রার্থী গুমের শিকার ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান।

জামায়াত শরিকদেরও সুবিধা 
সিলেট-৫ আসন জমিয়তের উবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তবে এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলের জেলা শাখার সহসভাপতি মামুনুর রশীদ। এ আসন জামায়াত ছেড়েছে খেলাফত মজলিসকে। বিএনপির ভোট ভাগে সুবিধা হয়েছে দলটির।
মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাঁচবারের মেয়র বহিষ্কৃত বিএনপির নেতা মহসিন মিয়া মধু। এ আসনে প্রার্থী এনসিপির প্রীতম দাশ।

হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা শাখার বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সুজাত মিয়া। এ আসনে জামায়াত জোটের বাংলাদেশ খেলাফত প্রার্থীর সুবিধা হয়েছে ভোট ভাগে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে এনসিপি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত, কুমিল্লা-৭ আসনে খেলাফত মজলিস, নোয়াখালী-২ এবং ৬ আসনে এনসিপি, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির প্রার্থীরা সুবিধা পাবেন এসব আসনে বিএনপির বিদ্রোহী থাকায়। নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী দুইজন। এতে নির্বাচন সহজ হয়েছে জামায়াত জোটের সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com