টানা ১৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার পৈতৃক ভিটা বগুড়ায় ফিরছেন তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের রাজনীতির অন্যতম দুর্গখ্যাত বগুড়ায় নির্বাচনী জনসভায় আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। আজ বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে হবে এই জনসভা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবারই প্রথম বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। তবে রাজনীতির সমীকরণে এ সফর যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি আবেগের দিক থেকে। জেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, ঘরের ছেলে তারেক রহমান ফিরছেন প্রায় দুই দশক পর। আর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে বগুড়া শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিরাজ করছে উৎসবমুখর এক আবহ।
লন্ডনে প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন শেষে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের এটিই প্রথম বগুড়া সফর। বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, এটি শুধু একটি সাংগঠনিক সফর নয়, বরং বগুড়া বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গতকাল বুধবার বিকেলে জনসভাস্থল আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ পরিদর্শন করেন জেলা বিএনপি এবং এর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
পরিদর্শন শেষে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বগুড়ার মাটি ও মানুষের নেতা তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে পুরো জেলা এখন উৎসবমুখর। আমরা মাঠের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি। জনসভা জনসমুদ্রে রূপান্তর করতে সব ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান আকাশপথে আজ বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী পৌঁছে, সেখানে একটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন। এরপর সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হয়ে পথে আরও একাধিক সভায় অংশ নিয়ে বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত সমাবেশে ভাষণ দেবেন।
এরই মধ্যে তার নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-৬-এর আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে মঞ্চ প্রস্তুত ও ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। গতকাল সকালেই প্রচারের মাইকগুলো মাঠে আনা হয়। তারেক রহমানের আগমনের খবরে পিতৃভূমি জেলার গাবতলী উপজেলা ও সদরের প্রতিটি গ্রাম-মহল্লায় বইছে আনন্দের জোয়ার। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে তোরণ নির্মাণ এবং ফেস্টুন-ব্যানারে ছেয়ে গেছে রাজপথ। নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জনসভা সফল করতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেছে জেলা বিএনপি।
মাঠের আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক সুমন বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মাঠের কাজ শেষ হবে। সকালে (গতকাল) মাঠের ধুলাবালু দমাতে পানি দেওয়া হয়েছে।’
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘আমরা আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ পরিদর্শন করেছি। আশা করছি, জনসভায় কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। জনসভা শেষে তারেক রহমান বগুড়াতেই রাতযাপন করে পরদিন সকালে নিজের নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শেষে গাবতলী উপজেলার পৈতৃক ভিটা বাগবাড়ি গ্রামে যাবেন। সেখানে দলের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও গণসংযোগে অংশ নেবেন। তারপর ফের বগুড়া শহরে ফিরে রাতযাপন করবেন।’
জেলা বিএনপির নেতারা জানান, সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর বগুড়ায় এসেছিলেন তারেক রহমান। তাকে একনজর দেখার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দলীয় নেতাকর্মীসহ বগুড়াবাসী বিএনপি চেয়ারম্যানকে বরণে মুখিয়ে আছেন।