রাজধানীর রামপুরায় জুলাই-আগস্টে ২৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার শুনানি আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে হাইকোর্টের প্রবেশপথসহ ট্রাইব্যুনালের মূল ফটকে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি। সুপ্রিম কোর্ট এলাকা জুড়ে টহল দিচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও।
র্যাব-৩ এর ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিন জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আজ দুই সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এজন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে আমাদের দুটি টিম দায়িত্ব পালন করছে। আমরা বরাবরের মতোই সতর্ক অবস্থায় রয়েছি এবং পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকব।’
শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেলের মাধ্যমে। এই মামলায় পলাতক দুই আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
গত ৫ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিন ধার্য করা হয় আজকের জন্য। ২৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেল আদেশ দেন। অপর সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলায় ৪ আসামির মধ্যে দুজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। রেদোয়ানুল ইসলাম এবং বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলমকে গত ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পলাতক দুই আসামি হলেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। তাদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জুলাই-আগস্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রামপুরা এলাকায় ২৮ জন নিহত এবং আরও অনেকেই আহত হন। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রামপুরায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলাম সরাসরি গুলি ছুড়েন এবং অন্যরা হত্যাযজ্ঞে নেতৃত্ব দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চারজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আলাদা ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়।