আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ২ নম্বর বার্থী ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য তারিকুল ইসলাম কাফি। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে নিজের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে স্থানীয় তরুণদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে তাঁর সমর্থকেরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তারিকুল ইসলাম কাফি। বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা দাবি করেন। এসব কর্মকাণ্ডে তিনি একাধিকবার হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের পৃথক নথি বা সরকারি বক্তব্য পাওয়া গেলে তা আরও যাচাইযোগ্য হবে।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে কাফির বিষয়ে। স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন বলে তাঁর সমর্থকেরা জানান। তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। বার্থী ইউনিয়নের ধানডোবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন তিনি। বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতার কথাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে।
করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার দাবি করেছেন কাফি। তাঁর সমর্থকেরা বলেন, সংকটের সময় খাদ্যসহায়তা, সামাজিক সহযোগিতা ও স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগে তিনি যুক্ত ছিলেন। তবে এসব কর্মকাণ্ডের পরিমাণ ও ব্যাপ্তি নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্মসূচি বা নথিভুক্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা সহজ ও জবাবদিহিমূলক করার কথা বলছেন তারিকুল ইসলাম কাফি। তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা চালু করা। একই সঙ্গে ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের কথাও তিনি বলছেন।
তারিকুল ইসলাম কাফি বলেন, “বার্থী ইউনিয়নের মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলোকে সামনে রেখে একটি বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে চাই। ইউনিয়ন পরিষদের সেবা যাতে সাধারণ মানুষ সহজে পায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নাগরিক সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন তরুণ ও ভোটারের ভাষ্য, ইউনিয়নে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁদের আগ্রহ রয়েছে। তাঁদের মতে, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে যিনি এলাকার সমস্যা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা এবং জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারবেন, তাঁকেই তাঁরা গুরুত্ব দেবেন।
তবে বার্থী ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠে এখনো চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হয়নি। সম্ভাব্য অন্যান্য প্রার্থীদের তৎপরতা, দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী তফসিল এবং প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক মনোনয়নসহ নানা বিষয় সামনে আসার পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রকৃতি আরও পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাঁদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড, উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবতা এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা সামনে রেখে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন তারিকুল ইসলাম কাফি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রচারণা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বার্থী ইউনিয়নের ভোটাররা কোন ধরনের নেতৃত্ব ও উন্নয়ন পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেন, সেটিই নির্ধারণ করবে নির্বাচনী ফলাফল।
এ জাতীয় আরো খবর..