ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বরিশালের গৌরনদীতে বসবাসকারী দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গত ৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে একটি সেতুর কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সালাউদ্দিন ও আরিফ। দুর্ঘটনায় আরিফ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ‘দশমিনা এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি মোটরসাইকেলটিকে কিছুদূর পর্যন্ত টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আরিফের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত সালাউদ্দিনের বাড়ি বরিশালের হিজলা উপজেলায়। তিনি একসময় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। পরে গৌরনদীতে ব্যবসা শুরু করেন। বিয়ের পর তিনি গৌরনদীতে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। নিহত আরিফও গৌরনদীতে বসবাস করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত কাজে সালাউদ্দিন ও আরিফ একই মোটরসাইকেলে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। ভাঙ্গা হাইওয়ে এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘দশমিনা এক্সপ্রেস’ বাসের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আলামিন পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, তাঁদের বাস দুর্ঘটনাস্থলের ঠিক পেছনে ছিল। তাঁর ভাষ্য, ‘দশমিনা এক্সপ্রেস’ বাসটি দ্রুতগতিতে এসে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় রাখা হয়।
এ ঘটনায় দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বাস ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..