বরিশালের গৌরনদীতে পাচারের সময় ভ্যানভর্তি ১৫ বস্তা সার আটক করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সার ডিলার সিরাজ হাওলাদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জব্দ করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সারবোঝাই একটি ভ্যান ওই এলাকায় যাওয়ার সময় তাঁদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা ভ্যানটি থামিয়ে সারগুলো দেখতে পান। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহিমকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো পরিদর্শন করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভ্যানচালক রাশেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সকালে টরকী বন্দরে মাছ নিয়ে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে বার্থী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বার্থী ইউনিয়নের সার ডিলার সিরাজ হাওলাদার তাঁকে সারগুলো খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ভূরঘাটা এলাকার সার বিক্রেতা কমলের দোকানে পৌঁছে দিতে বলেন।
পরে ভ্যান থেকে ১৫ বস্তা সার জব্দ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ডিলার সিরাজ হাওলাদার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক সিরাজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মাধ্যমে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, নিম্নমানের কীটনাশক ও বীজ এবং অবৈধ ভারতীয় ওষুধ সরবরাহের কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কৃষকদের দাবি, কৃষি উপকরণ বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিলারদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে যোগ্য ও সৎ ব্যবসায়ীদের ডিলার নিয়োগের দাবি জানান তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, কৃষি উপকরণ ও সার ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়-ব্যয়ের উৎস এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে কি না। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, জব্দ করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও মো. ইব্রাহিম। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী শেখসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গৌরনদী মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
কৃষকদের ভাষ্য, কৃষি মৌসুমে সরকারি বরাদ্দের সার যাতে নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। সার পাচার, মজুতদারি বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের।
এ জাতীয় আরো খবর..