মঙ্গলবার, ১০:২৪ অপরাহ্ন, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

‘ধরা পড়ে’ সাইকেল ফেরত দিলেন জামায়াত নেতা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের সাইকেল স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নাতনিকে দিয়েছেন ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর  উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম। পরে সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য (ঝিনাইদহ-৩) মতিয়ার রহমানের নির্দেশে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বাইসাইকেলটি কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফেরত দিয়েছেন ওই জামায়াত নেতা।

কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী সরকার এসব অভিযোগ নিশ্চিত করেছেন বলে বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সরকারি বরাদ্দে কেনা বাইসাইকেল, ছাগল, স্প্রে মেশিন, সেলাই মেশিন, ফুটবল ও হুইল চেয়ার জামায়াত নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এক মাদরাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দ করা বাইসাইকেল নিজে সই করে তুলে নিয়েছেন। সেই বাইসাইকেল তিনি নিজের নাতনিকে দিয়েছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামের একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু সাইমুনকে সেই সাইকেল না দিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোল পত্রে সই করে সাইকেলটি তুলে নেন। পরে সাইকেলটি নাতনির বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
এদিকে এডিপির আওতায় বরাদ্দ করা বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন ও স্প্রে মেশিন জামায়াত নেতার পাশাপাশি বিএনপির নেতারাও নিজেদের স্বজনদের মাঝে বণ্টন করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সাইকেলটি আমার এক প্রতিবেশী শিক্ষার্থীকে দিয়েছিলাম। ওই শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন না থাকায় আমি নিজেই স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেছিলাম।’
যাকে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মেজো ছেলে বেকার। আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি তার মেয়েকে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল বলেন, ‘এমন ঘটনার খবর পেয়েছি।

যদি এ ধরনের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে তা দুঃখজনক। সরকারি বরাদ্দ যদি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এভাবে ভাগাভাগি হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।’
মাওলানা তাজুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত ভাইস প্রিন্সিপাল ও সাবেক জামায়াত নেতা শের আলী।

তিনি বলেন, ‘মাওলানা তাজুল ইসলাম মোটেও কোনো দরিদ্র মানুষ নন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। শহরে তার নিজস্ব বাড়ি আছে। সন্তানরাও ভালো চাকরি করেন। দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা বাইসাইকেল কৌশলে নিজের স্বজনকে দেওয়ার ঘটনা একজন দায়িত্বশীল মানুষের পক্ষে নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’

কোটচাঁদপুর ইউএনও দীপা রানী সরকার বলেন, ‘সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে সাইকেলটি ফেরত আনা হয়েছে। এটি নতুন করে প্রকৃত উপকারভোগীর মাঝে বিতরণ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাইসাইকেল ছাড়াও সেলাই মেশিন, ছাগল, স্প্রে মেশিন বিতরণেও কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com