মঙ্গলবার, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষিমন্ত্রী, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা’

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
  • ১৬ বার পঠিত

পাহাড়ি উজানের ঢল ও মৌসুমী ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের বিভিন্ন হাওর অঞ্চলে চলতি প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার বিঘা জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে উপজেলার প্রায় আড়াই হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে একজন কৃষক তলিয়ে যাওয়া জমি দেখে জমির পাশেই মারা যায়। এতে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

আজ শনিবার (৯ মে) দিনব্যাপী কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলার মেদির হাওড় ঘুরে দেখেন।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্দশার খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা প্রদান করেন। অনেক কৃষক তাদের বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে জানান।

পরে মন্ত্রী অতিবৃষ্টিতে পাকা ধান তলিয়ে যেতে দেখে মৃত্যু হওয়া গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের কৃষক আহাদ আলীর পরিবারের খোঁজ খবর নেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আর্থিক অনুদানের ২ লাখ টাকার চেক তার স্ত্রী ও সন্তানদের হাতে তুলে দেন।

পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের হাতে চেক ও ত্রাণ বিতরণ করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে তাদের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি কৃষকের পুত, আমি বুঝি কৃষকের মনের কষ্টের কথা। দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষক। আমি নিজেও একজন কৃষক। আমার ধানটা এরকম পচলে আমিও বুঝতাম কত কষ্ট। ধানগুলো এই পর্যায় নিয়ে আসতে কৃষকের বহুত কষ্ট হয়েছে। এই সরকারের মূলনীতি হল, মূল সিদ্ধান্ত হল কৃষকদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। বর্তমান নিয়মে ধান বিক্রি না করে প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং করে প্রতি কৃষক ধান দিবে সরকারকে। ৯০ দিনের মধ্যে ধান ঘরে তুলতে পারবে এমন ধান উদ্ভাবনের কথা জানান তিনি। বিশেষ করে হাওরে চাষ করা যায় এমন ধানের জাত দ্রুত সময়ের মধ্যে আনা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে দু’জন করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।

পরিদর্শন শেষে বিকাল চারটার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এক জনসভা নিহত কৃষক ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ টাকা ও চেক হস্তান্তর করেন।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসাইনের সঞ্চালনায় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদস সদস্য এম এ হান্নান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল রহিম, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান, নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনা নাছরিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দীন তুহিনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা কৃষি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নাসিরনগর হাওরে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। পানির নিচে পাকা ও আধাপাকা ৩০৫ হেক্টর ধানি জমি তলিয়ে গেছে। আর ৩২০ হেক্টর জমির ধান কেটে আনায় বৃষ্টির কারণে পচে নষ্ট হয়েছে। যার মোট ক্ষতি প্রায় ১৩ কোটি টাকা। উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজকে ২৫০ কৃষকদের মাঝে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত দুই হাজার কৃষকের মাঝে সরকারি সহায়তা হিসেবে ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com