বৃহস্পতিবার, ০২:০৫ অপরাহ্ন, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :

স্বাধীনতার ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করেছিল জিয়াউর রহমানের ঘোষণা

অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত

স্বাধীনতাযুদ্ধের নির্দেশনার জন্য জাতি যখন উন্মুখ, সে প্রত্যাশা যখন মেটেনি জাতীয় নেতাদের সিদ্ধান্তহীনতার দোলাচলে, তখন জাতির ওই ক্রান্তিকালে আশ্বাসবাণী পাওয়া গেল চট্টগ্রামে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে অপেক্ষাকৃত তরুণ এক মেজরের কণ্ঠে স্বাধীনতাযুদ্ধের আহ্বান, যে আহ্বান জনগণের মধ্যে বিশ্বাস ও ভরসার মন্ত্রধ্বনি হয়ে বেজে ওঠে। অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জেনারেল কেএম শফিউল্লাহ, বীর-উত্তম। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি লিখেছেন ‘বাংলাদেশ অ্যাট ওয়ার’ গ্রন্থটি, যেখানে লেখক পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘২৫ মার্চ রাতে নিজের কমান্ডিং অফিসারের সঙ্গে হিসাব চুকিয়ে নিয়ে জিয়া সিদ্ধান্ত নেন, তার ব্যাটালিয়নকে শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে পুনর্গঠন করবেন, শক্তি সঞ্চয় করবেন এবং চট্টগ্রামে এক চূড়ান্ত আঘাত হানবেন। সে অনুযায়ী সব সৈন্যকে পটিয়ার অদূরে এক স্থানে জড়ো করা হয়েছিল।’ অর্থাৎ মেজর জিয়াউর রহমান সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন; বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম সমর নেতৃত্ব, যিনি ‘উই রিভল্ট’ বলে স্বাধীনতার সূচনা করেছিলেন এবং সশস্ত্র সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান ২৫ মার্চ রাতেই পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন এবং তিনি দেশপ্রেমবোধে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরবর্তী দিনগুলো জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার স্বপ্নচিন্তারই প্রতিফলন মাত্র। জিয়াউর রহমান তার পাকিস্তানি কমান্ডিং অফিসার জানজুয়া ও অন্যদের প্রথমে গ্রেপ্তার এবং পরে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের বার্তা

দিয়েছিলেন।

তিনি তার অনুগত সব সৈন্যকে ২৬ মার্চ বিকাল ৪টায় বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের শপথ পাঠ করান। ওই দিনই অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথমবারের মতো তিনি রেডিওতে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার স্বাধীনতার ঘোষণায় উদ্বেলিত জনগণ সাহসের সঙ্গে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দেশ-বিদেশের সুপরিচিত গণমাধ্যমগুলোতে ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, তৃতীয় খণ্ডে এ ঘোষণাটি বর্ণিত রয়েছে।

আমি মেজর জিয়ার স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণাটি উল্লেখ করতে চাই। ঘোষণাটি ছিল এই :

Dear fellow freedom fighters,

I, Major Ziaur Rahman, Provisional President and Commander-in-Chief of Liberation Army do hereby proclaim independence of Bangladesh and appeal for joining our liberation struggle. Bangladesh is independent. We have waged war for the libreation of Banglsdesh. Everybody is requested to participate in the liberation war with whatever we have. We will have to fight and liberate the country from the occupation of Pakistan Army.

Inshallah. Victory is ours.

অস্ত্রের সামনে জীবনবাজি রেখে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন জিয়াউর রহমান। সত্যিকার ইতিহাস আঁধারে হারিয়ে যায় না বরং সময়ের বাঁক ধরে সূর্যরশ্মির মতো আলোকিত করে জাতিকে। ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ইতিহাস বাংলাদেশকে বারবার অন্ধকার সময়ের ছায়া থেকে আলোর দিশা দান করে থাকে।

স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা একটি স্বপ্নময় এবং তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়; এই ঘোষণার মাধ্যমেই বাংলাদেশ নামক একটি ভূখণ্ডের রাজনৈতিক আকাক্সক্ষা স্পষ্ট রূপ পায়। জিয়াউর রহমানের ঘোষণাই স্বাধীনতাসংগ্রামের তূর্যধ্বনি ছিল এবং সংগ্রামের দিকনির্দেশনা তৈরি করেছিল। বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা তিনি লালন করতেন; তিনিই একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা, যার মুহূর্তের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তির আলো খুঁজে পেয়েছিল। তিনিই সর্বপ্রথম প্রতিরোধ চেতনার ভাষা নির্মাণ করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য।

একটি দমনমূলক ভিনদেশি ক্ষমতা, আপসকামী রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সামরিক আগ্রাসনের মধ্যে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন; নিশ্চিত মৃত্যুমুখে থেকেও মুক্তির বয়ান দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে সাহসিকতার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন। ফলে এই ঘোষণার ভাষা ও বয়ান একটি জরুরি পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে গড়ে উঠেছিল। এই ঘোষণায় তিনটি বিষয় কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়েছিলÑ ১. প্রতিরোধের আহ্বান; ২. জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এবং ৩. স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা ও শক্তি। রাজনৈতিক প্রজ্ঞানির্ভর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশকে একটি রাজনৈতিক দিশা তৈরি করে দিয়েছিল জিয়াউর রহমানের ঘোষণা। সে ক্ষেত্রে ঘোষণাটি একটি রাজনৈতিক বিবেচনাপ্রসূত জাতীয় মুক্তির একটি আকাক্সিক্ষত সনদ, যা স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ধরা হয়।

এ ঘোষণার আরেকটি তাৎপর্য রয়েছে এর প্রতীকী শক্তিতে। একটি যুদ্ধরত জাতির জন্য এমন ঘোষণা আশা এবং সাহসের উৎস হিসেবে কাজ করে। একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘোষণা আশাহত, দিশাহীন জনগণের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে এবং প্রতিরোধকে সংগঠিত করে। সে ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের ঘোষণা প্রতিরোধকে সংগঠিত করার ঐতিহাসিক প্রতীকী ভাষা নির্মাণ করতে পেরেছিল, যা স্বাধীনতার ধারণাকে আরও দৃঢ়ভাবে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই ঘোষণা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পদ্ধতি নির্ণয় করেছিল, যা ঐতিহাসিক সংকটময় পরিস্থিতিকে প্রতিরোধ চেতনায় অগ্রসর করেছিল। জিয়াউর রহমানের বীরত্ব, দেশপ্রেম, বলিষ্ঠতা, বাস্তব কাণ্ডজ্ঞান, দূরদর্শিতা, স্বাপ্নিক, প্রশ্নাতীত সততা, স্থৈর্য ও সহনশীলতার বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রেখেছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com