বিবেকের কাঠগড়ায় মানবতার আহাজারি
বিবেকের কাঠগড়ায় আজ কালো মেঘের ভেলা,
মানবতার বুকজুড়ে জমেছে দীর্ঘশ্বাসের নৈঃশব্দ্য।
চারদিকে সভ্যতার আলোকসজ্জা, অথচ মানুষের অন্তরে
অন্ধকারের পলেস্তারা ক্রমেই পুরু হচ্ছে।
ক্ষুধার্ত শিশুর চোখে যে অশ্রু জমে থাকে,
তা কোনো নদীর জল নয়—
সে অশ্রু আমাদের বিবেকের পরাজয়ের দলিল।
মায়ের শূন্য আঁচল যখন সন্তানের ক্ষুধার কাছে পরাজিত হয়,
তখন আকাশের সমস্ত নক্ষত্রও যেন লজ্জায় মুখ ঢাকে।
যে হাতে স্নেহের স্পর্শ থাকার কথা,
সেই হাতেই যখন নেমে আসে নিষ্ঠুরতার প্রহর,
যে মুখে মানবতার বাণী শোভা পাওয়ার কথা,
সেই মুখেই যখন স্বার্থের বিষাক্ত উচ্চারণ—
তখন মানুষ শুধু নামেই মানুষ থাকে,
ভেতরে ভেতরে তার মানবিক সত্তা নির্বাসিত হয়।
অন্যায়ের সামনে নীরবতা কখনো নির্দোষ নয়;
নীরব দর্শকের চোখেও জমে থাকে অপরাধের ছায়া।
কারও অধিকার লুণ্ঠিত হলে,
কারও কান্না দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হলে,
আর আমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নিই—
তবে সেই দেয়ালও একদিন আমাদের বিবেকের কাঠগড়া হয়ে দাঁড়াবে।
এসো, মুখোশ খুলে একবার নিজেদের দেখি—
আমাদের ভেতরে এখনো কি মানুষটি বেঁচে আছে?
যে অন্যের ক্ষুধায় কেঁদে উঠবে,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে,
অসহায়ের কাঁধে রাখবে সান্ত্বনার হাত?
মানবতার আহাজারি আজ আকাশ ছুঁয়েছে;
কিন্তু আমরা কি এখনো বধির?
কত কান্না শুনলে আমাদের বিবেক জেগে উঠবে?
কত শিশুর চোখ শুকিয়ে গেলে বুঝব—
আমাদের সভ্যতার ভিতটাই পচে গেছে?
মনে রেখো—
অন্যায়ের সামনে নত হওয়া মাথা একদিন
নিজের ছায়ার কাছেও লজ্জিত হবে।
যে হাত আজ অসহায়ের কান্না উপেক্ষা করছে,
কাল সেই হাতই হয়তো করুণার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরবে।
আর সেদিন কোনো দরজা খুলবে না—
কারণ মানবতার শেষ প্রদীপটিও
আমরাই একদিন নিজেদের হাতে নিভিয়ে দিয়েছিলাম।
বিচার একদিন হবেই—
কাঠগড়ায় শুধু অপরাধী নয়,
নীরব দর্শকরাও দাঁড়াবে।
সেদিন বিবেক কোনো অজুহাত শুনবে না;
শুধু একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেবে—
“মানুষ হওয়ার সুযোগ পেয়েও,
তুমি কেন মানুষ হলে না?”