রবিবার, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
গুম বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর: প্রধানমন্ত্রী গৌরনদীতে ক্যাথলিক চার্চ মার্কেটের শুভ উদ্বোধন  বন্যায় ভেসে আসা ব্যাংকের ভল্ট ভাঙার অভিযোগ, নেপালে গ্রেপ্তার ২৯ চরমোনাই পীরের ১০ অভিযোগ চার খুনের আসামির পক্ষে লড়বেন না রংপুরের আইনজীবীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘হাসনাতদের ভেন্যুতে’ ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের ৭৪ সদস্যকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাদের সমর্থন দেবে বিএনপি, জানালেন প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর শঙ্কা : বিশ্বব্যাংক লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জবিছাত্র জোবায়েদ হত্যা মামলায় দুই সাক্ষীর জবানবন্দি

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮৫ বার পঠিত

‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় দুই জন সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ‎ বুধবার (১৯ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দীন তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

সাক্ষীরা জোবায়েদের ভার্সিটির ছোট ভাই সৈকত হোসেন এবং বর্ষার মামা, সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহিদুর রহমান।

‎মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ হোসেন সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।

‎জবানবন্দিতে সৈকত বলেন, ‘আমি জগন্নাথ ইউনিভার্সিটির ২১-২২ সেশনের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী। জোবায়েদ ভার্সিটির বড় ভাই। আমি জোবায়েদ ভাইয়ের ক্লোজ ছোট ভাই হওয়াতে বর্ষা আমার নাম্বার জোবায়েদ ভাই থেকে নেয়। মাঝে মাঝে হোয়াটসঅ্যাপ হাই, হ্যালো কথাবার্তা হতো। ২/৩ মাস আগে বর্ষা আমাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। তখন থেকে বর্ষার সাথে আমার আর যোগাযোগ হয়নি। জোবায়েদ ভাই প্রায় এক বছর যাবৎ বর্ষাকে বাসায় টিউশন পড়াত।’

‎তিনি বলেন, ‘ভার্সিটি এলাকায় থাকাকালে গত ১৯ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটের দিকে বর্ষা তাকে ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ দেয়, ‘‘ভাইয়া কই তুমি?’’। আমি জানাই ক্যাম্পাসে। বর্ষা বলে, ‘‘স্যারের আম্মুর নাম্বার আছে ‘’ তখন জানতে চাই, ‘‘কেন কী হয়ছে?’’ বর্ষা বলে, ‘‘লাগবে। ’’ ভাইয়ের কিছু হয়ছে কি না জানতে চাই। তখন বর্ষা জানায়, ‘‘ভাইরে (জোবায়দে) কে জানি মাইর‌্যা ফেলছে।’’ আমি বলি, ‘মাইর‌্যা ফেলছে বলতে?’’ বর্ষা জানায়, ‘‘খুন করে ফেলছে।’’ তখন বলি, ‘আল্লাহ কি বল এসব।’ তারপর  বর্ষাকে কল দেয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু তার সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। এরপর বিষয় বড় ভাইদের জানাই।’ ‎

‎ডা. ওয়াহিদুর রহমান জবানবন্দিতে বলেন, ‘গত ১৯ অক্টোবর সাপ্তাহিক নৈশ্যকালীন ডিউটি থাকায় বাসায় অবস্থান করছিলাম এবং ড্রইং রুমে বসে টিভি দেখছিলাম। হঠাৎ আমার স্ত্রীকে দ্বিতীয় তলার চাচাতো ভাই ফোন করে জানায়, সিঁড়িতে কোনো একজন লোক পড়ে আছে। আমরা তখন সাথে সাথে দরজা খুলে দেখি সিঁড়ির মাঝামাঝি একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।’

তিনি বলেন, তাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে বাড়ির লোকজন জড় হয়ে যায় এবং সেখানে শনাক্ত হয় যে, তার ভাগ্নি বর্ষার প্রাইভেট টিউটর জুবায়েরের মরদেহ।  তাৎক্ষণিক ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে অবহিত করেন ডা. ওয়াহিদুর।

বর্ষার মামা বলেন, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন তার ভাগ্নি বর্ষার সাথে মাহির নামক এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং জোবায়েদ মাস্টারের সাথেও বর্ষার প্রেম ছিল। এই দ্বন্দ্বের কারণে মাহির রহমান, জোবায়েদ মাস্টারকে হত্যা করে ঘটনার দিন দৌড়ে পালিয়ে যায়।

‎মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মো. জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। প্রতিদিনের মতো গত ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানাধীন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিং রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়ানোর জন্য যান। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রী জোবায়েদ হোসেনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে জানায়, ‘‘জোবায়েদ স্যার, খুন হয়ে গেছে, কে বা কারা জোবায়েদ স্যারকে খুন করে ফেলছে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. কামরুল হাসান ৭টার দিকে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্যটি জানান। এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল রৌশান ভিলায় পৌঁছান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় সিঁড়ি এবং দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। ওই ভবনের তৃতীয় তলার রুমের পূর্ব পার্শ্বে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় দেখতে পান।

‎ঘটনার দুইদিন পর ২১ অক্টোবর জোনায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন বংশাল থানায় মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে জোনায়েদকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার ডান পাশে আঘাত করে হত্যা করেছে।

‎মামলায় বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান, মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান ২১ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com