নেশার টাকা না দেওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মাকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাবাকে পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের একমাত্র ছেলে হামিদ আকনের বিরুদ্ধে। ছেলের নির্যাতনের ভয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সালতা গ্রামের আনোয়ার আকন ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বেগম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামিদ আকন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার জন্য টাকা না পেলে তিনি প্রায়ই বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করেন। সম্প্রতি খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কনক ফার্মেসির সামনে আনোয়ার আকনকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি। এতে তাঁর কোমরের হাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গৌরনদীর আশোকাঠি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আনোয়ার আকনের দাবি, সম্প্রতি তাঁর ছেলে নেশা করার জন্য তাঁর কাছে টাকা চান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নেশা করতে নিষেধ করলে হামিদ তাঁকে হুমকি দেন। আনোয়ার বলেন, “বেশি কথা বললে আমার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে।”
আনোয়ারের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, “ছেলেকে নেশা করতে নিষেধ করায় সে আমাকে বারবার মারধর করে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বাড়িতে থাকতেও ভয় লাগে। আমরা আইনের সহায়তা চাই।”
এদিকে, কনক ফার্মেসির সামনে আনোয়ার আকনকে মারধরের ঘটনায় শাহজাহান আকন, নবী হোসেন ও তাঁর ছেলে হামিদ আকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে পরিবারটি। স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক কনক দত্ত বলেন, তাঁর দোকানের সামনেই ওই বৃদ্ধকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “আমার সামনেই আনোয়ার আকনকে তাঁর ছেলে মারধর করেছে। পরে আমরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই।”
তবে বাবা-মাকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হামিদ আকন। তাঁর দাবি, তিনি বাবা-মাকে মারধর করেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার আকন আগে রেলওয়ে পুলিশের চাকরি করতেন। চাকরি শেষে তিনি এলাকায় বসবাস করছেন এবং বর্তমানে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর একাধিক বিয়ে এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে ছেলে হামিদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। এ ছাড়া আর্থিক সংকটের কারণে আনোয়ারের সম্পত্তি বিক্রি নিয়েও বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলে জানা গেছে। হামিদ আকন এর আগে খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
তবে এসব পারিবারিক বিরোধের বিষয় এবং মারধরের অভিযোগের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও আইনগত তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দম্পতি গৌরনদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিখ হাসান রাসেল বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক সহিংসতা বাড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের কথাও বলছেন তাঁরা।
এ জাতীয় আরো খবর..