সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষে তেহরান দাবি করেছে, ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং বিদেশে জব্দ থাকা তাদের কিছু সম্পদও মুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে থাকা কিছু ইরানি সম্পদ ছাড় করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
আরাগচি আরও বলেন, ইরানের জন্য একটি ‘বৃহৎ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা’ চালু করা হয়েছে। তবে তিনি জব্দ সম্পদের পরিমাণ, অবস্থান কিংবা পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি ইরানি প্রতিনিধি দলের অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ হোসেইন গোরবানজাদেহর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানি তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার একটি খসড়া চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চ
আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় গঠিত লেবানন ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ বা সংঘাত নিরসন ব্যবস্থাই হবে নতুন সমঝোতার ‘প্রথম বাস্তব পরীক্ষা’।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মতে, এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে সহায়তা করা এবং সংঘাত প্রশমনে একটি কার্যকর যোগাযোগ কাঠামো তৈরি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, জব্দ সম্পদ মুক্তি এবং লেবানন সংকট নিরসনে অগ্রগতি বাস্তবায়িত হলে তা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে