সোমবার, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন-হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা ‘ক্রসফায়ারে’ একরামুল হত্যা : হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল কোনো বাধা ছাড়াই দেশত্যাগের সমঝোতায় পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন বিশ্বকাপ শেষে প্রথমবার জনসমক্ষে মেসি জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা পছন্দ-অপছন্দ ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাস রুটে আসছে বড় পরিবর্তন সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আন্দোলন সফল, এবার কি ভোটের রাজনীতিতে নামবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে জালিয়াতি উন্মোচন

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৮ বার পঠিত

বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভিযোগ এবার স্পষ্ট রূপে সামনে এসেছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ের চাহিদা নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন যাচাই চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রাথমিক তদন্তেই দেখা গেছে, বহু ক্ষেত্রে প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি বইয়ের চাহিদা দেখানো হয়েছে। একটি উপজেলায় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত চাহিদা প্রদর্শনের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এনসিটিবির একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের তুলনায় ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় এক কোটি বেশি বইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি যৌথভাবে গত ১৫ ও ১৬ এপ্রিল দেশজুড়ে ৩৪টি টিম গঠন করে মাঠপর্যায়ে যাচাই কার্যক্রম শুরু করে।

প্রাথমিকভাবে ১১০ উপজেলায় তদন্ত চালিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৪০ লাখ বইয়ের চাহিদা অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল। যাচাইয়ের পর এসব চাহিদা কমে আসে, যা সম্ভাব্য বড় ধরনের আর্থিক অপচয় রোধ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাঠপর্যায়ের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের চাহিদা আগে পাঠানো হয়েছিল ২৪ হাজার ৮৯৫টি। যাচাই শেষে তা কমে দাঁড়ায় ২০ হাজার ৬৯০টিতে। একইভাবে ইবতেদায়ি ও দাখিল স্তরেও হাজার হাজার বইয়ের গরমিল ধরা পড়ে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, কিছু উপজেলায় আগের বছরের তুলনায় চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে। কোথাও ২০২৬ সালের তুলনায় ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত বেশি বইয়ের চাহিদা দেখানো হয়েছে, আবার কোথাও প্রায় ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অসামঞ্জস্যই মূলত তদন্ত জোরদারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত চাহিদা দেখানোর পেছনে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের সঙ্গে কিছু শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে চাহিদা বাড়িয়ে দেখানো হয়। পরে বই ছাপানো ছাড়াই অর্থ আত্মসাৎ বা অতিরিক্ত বই বাজারজাত করার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিটিবির সচিব প্রফেসর মো. সাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বড় ধরনের গরমিল শনাক্ত হয়েছে। সব কেন্দ্রের তথ্য হাতে এলে প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।’ তিনি জানান, দেশের ৫৮৩টি বিতরণ কেন্দ্রকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধিত তথ্য অনলাইনে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের সুযোগ নেই। অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতদিন কাগুজে হিসাবের ওপর নির্ভর করে চাহিদা নির্ধারণ করা হলেও এবার সরেজমিন যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পাঠ্যবই বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com