রবিবার, ০১:৪৭ অপরাহ্ন, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

সারা দেশে বসছে ১০ লাখ এআই ক্যামেরা, ব্যয় ১৩০০ কোটি টাকা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত
অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সারা দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। ৬৪ জেলা, সব মহানগর ও দেশের মহাসড়কগুলোকে এ নজরদারির আওতায় আনা হবে।

এ জন্য ১০ লাখ এআই ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আগামী দুই বছরের মধ্যে ক্যামেরাগুলো স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধী শনাক্ত, যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ও সন্দেহজনক গতিবিধি রিয়েল টাইমে চিহ্নিত করতে পারে।

জনবহুল এলাকায় একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের মুখ স্ক্যান করে ডেটাবেজে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি, পরোয়ানাভুক্ত অপরাধী বা নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করার সক্ষমতাও থাকবে।
দেশ রূপান্তর এক প্রতিবেদনে জানায়, ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এআই ক্যামেরা স্থাপন করে সুফল পাওয়ায় দেশজুড়ে এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যামেরা কেনা ও কারিগরি সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের।

পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত সিসি ক্যামেরা মূলত দৃশ্য ধারণ করে। কিন্তু এআই ক্যামেরার স্বয়ংক্রিয় বিশ্লেষণ ক্ষমতা রয়েছে। কোনো দ্রুতগতির গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করে তা জাতীয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা, সন্দেহজনক জটলা, মারামারি, আগুন বা পরিত্যক্ত বস্তু শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণকক্ষে সংকেত পাঠানোর সক্ষমতা রয়েছে এসব ক্যামেরার।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও এআই ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। সিগন্যাল অমান্য, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, হেলমেট না পরা, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম বা ট্রাফিক লাইন অতিক্রমের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-মামলা তৈরি হবে। সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিকের মোবাইল ফোনে পাঠানো হবে মামলার তথ্য। ইতিমধ্যে সফটওয়্যারের সঙ্গে বিআরটিএর সার্ভার যুক্ত করা হয়েছে।

অপহৃত ব্যক্তি বা নিখোঁজ শিশুদের শনাক্ত করতেও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। কোনো অপরাধী গাড়িতে পালিয়ে গেলে নম্বর প্লেট শনাক্ত করে পরবর্তী এলাকায় তার গতিবিধি অনুসরণ করা সম্ভব হবে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ডেটাবেজের সঙ্গেও ক্যামেরা নেটওয়ার্ক যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ৯৯৯-এ কোনো অভিযোগ এলে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ক্যামেরার লাইভ দৃশ্য নিয়ন্ত্রণকক্ষে পাওয়া যাবে।

দেশের সব মহাসড়কও এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। আগস্টের শেষ দিকে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-বগুড়া, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনাসহ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ক্যামেরা বসানো হবে।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগামী বুধবার থেকে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করছে হাইওয়ে পুলিশ। ওভারস্পিড, অবৈধ পার্কিং ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা করা হবে। মামলার তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে গাড়ির মালিককে জানানো হবে। পুলিশ আশা করছে, এ উদ্যোগ সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও দুর্ঘটনা কমাতে ভূমিকা রাখবে।

পুলিশ জানিয়েছে, নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ডেটা সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে। ক্যামেরা নেটওয়ার্কের তথ্য নিরাপদ রাখতে ফায়ারওয়াল ও এনক্রিপশন ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের এআই প্রযুক্তি পরিচালনা ও তথ্য বিশ্লেষণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com