রবিবার, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
গৌরনদীতে সাংবাদিকদের জন্য এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন  প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ, দাবি নাহিদ ইসলামের গুণীজনদের জীবদ্দশায় সম্মান জানালে সমাজসেবায় উৎসাহ বাড়বে : মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী ‘আদ্-দ্বীন কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কারও মধ‍্যে পরিবর্তনের ছাপ নেই : মঞ্জু অলিগার্কদের ধ্বংস করা বিএনপি সরকারের অন্যতম লক্ষ্য : মির্জা ফখরুল আসন্ন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইসরায়েল ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ ‘নেইমার সার্কাস’ পেছনে ফেলে মরক্কোকে হারাতে কতোটা প্রস্তুত ব্রাজিল? ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

হরমুজ নিয়ে কঠোর ইরান: উত্তেজনায় নতুন মাত্রা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৪ বার পঠিত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি আবারও বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত এই জলপথে সাম্প্রতিক গুলি ছোড়ার ঘটনা, ইরানের কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ- মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। পারমাণবিক ইস্যু, নৌ-অবরোধ ও পাল্টাপাল্টি হুশিয়ারির মধ্যে এই সংকট এখন আর শুধু আঞ্চলিক নয়; বরং তা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, সামরিক উপস্থিতি ও পারমাণবিক ইস্যুতে বাড়তে থাকা চাপের মুখে তেহরান ধারাবাহিকভাবে কড়া বার্তা দিচ্ছে।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলি ছোড়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, দুটি গানবোট থেকে কোনো সতর্কতা ছাড়াই গুলি চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব গানবোট ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যদিও এ ঘটনায় জাহাজ বা নাবিকদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবারও তাদের কঠোর তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে। ইরানের সামরিক কমান্ড

‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ বলেছে, ইরানি জাহাজ চলাচলে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা হবে না। সেক্ষেত্রে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।

পারমাণবিক ইস্যুতেও অনড় অবস্থান নিয়েছে তেহরান। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর কোনো প্রস্তাবই তারা গ্রহণ করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষায়, এটি তাদের ‘কৌশলগত রেড লাইন’। তাদের মতে, ইউরেনিয়াম ইরানের সার্বভৌম সম্পদের অংশ- কোনো অবস্থাতেই তা হস্তান্তর করা হবে না।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে জোরপূর্বক ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ নিয়ন্ত্রণে নেবে। তবে এ বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনাও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় এখনও সম্মত হয়নি ইরান। তাদের অভিযোগ, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনায় ওয়াশিংটন অতিরিক্ত শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। ফলে দীর্ঘ ও ফলহীন আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না তেহরান।

তবে কূটনৈতিক সূত্র বলছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নতুন করে আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খোঁজা হতে পারে। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে মিশর ও পাকিস্তান জোরালোভাবে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।

এদিকে, ইরানের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান সেই প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, আলোচনার জন্য তারা আর কোনো ছাড় দেবে না। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তেহরানকে প্রস্তাবগুলো দিয়েছেন।

ইরান তাদের অবস্থানে কঠোর থাকবে বলে জানিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ইরানের আলোচনাকারী দল নমনীয়তা দেখাবে না এবং ইরানের স্বার্থরক্ষায় সব শক্তি দিয়ে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও বাড়ছে। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড লোহিত সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও যুদ্ধজাহাজ অঞ্চলটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, সেখানে অবস্থানরত সেনাদের জন্য হুমকি তৈরি করায় সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে উত্তেজনা বাড়ায় জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো না গেলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com