মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশের ৪৮১ জন‘ভুয়া মুক্তিদোদ্ধা’ অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ না করেই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে এসব ব্যক্তিকে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাদের নাম গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে।
আহমেদ আযম খান বলেন, অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং অভিযোগ পাওয়া গেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত উপকমিটি তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে। তদন্তে কেউ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন বলে প্রমাণিত হলে তার গেজেট বাতিল করে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। মন্ত্রণালয় সেই সুপারিশ অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধাসংক্রান্ত মোট ৮৪২টি অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য জামুকায় পাঠানো হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১০৩টি সভার মাধ্যমে ৬ হাজার ৪৭৬ জনের নাম এসব তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে।
অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি (এমআইএস)-এ সংরক্ষিত সমন্বিত ডেটাবেজ অনুযায়ী বর্তমানে দেশে স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭।
তিনি আরও জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বর্তমানে মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বছরে দুটি উৎসব ভাতা হিসেবে প্রতিটি ১০ হাজার টাকা, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ২ হাজার টাকা এবং বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। এসব ভাতার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও কল্যাণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।
তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে বর্তমানে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও সংসদে জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। তিনি বলেন, তালিকা পরিশুদ্ধকরণ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।