শনিবার, ০৪:৫২ অপরাহ্ন, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

তেল আছে শুধু সংসদে: জামায়াত আমির

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘তেল আছে শুধু সংসদে। সংসদে সরকারি দলের মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে।’

আজ শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

এদিন ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।

সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘সংসদে যখন মন্ত্রীরা, সরকারি দলের সদস্যরা কথা বলেন, তখন মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে। অথচ সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু গতকালকের ইভেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায় বাস্তবতা ভিন্ন।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমি সংসদে দাঁড়িয়েও বলেছিলাম, আমরা নবীন সদস্য হলেও রাজনীতির সুস্থ চর্চা করতে চাই। জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার হিসাব আমাদের দিতে হবে। আমি বলব না যে সব আশা বিফলে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য খুব ভালো কিছু ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমানে গোটা সমাজ চলছে গোঁজামিল আর টপ-ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সব জায়গায় শুধু হিসাব মেলানোর চেষ্টা চলছে, যেখানে ক্যাশ নেই কিন্তু খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে। এই গোঁজামিল দিয়ে দেশ চলতে পারে না। আমাদের উচিত মেরিটোক্রেটিক (মেধাভিত্তিক) সোসাইটি গড়ে তোলা, পলিটোক্রেটিক (রাজনীতিভিত্তিক) নয়।’

কৃষির বিপর্যয় মানেই দেশের বিপর্যয় এমন মন্তব্য করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এটি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। কৃষির বিপর্যয় ঘটলে গোটা জাতির বিপর্যয় ঘটবে। কোনো বিদেশি ঋণ বা সহায়তা জাতিকে সোজা হয়ে দাঁড় করাতে পারবে না যদি আমাদের কৃষি ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকরা সেচ দিতে পারছেন না, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।’

এদিন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাফার স্টক তৈরির জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারকে ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছ হতে হবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক (মজুত) গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সোলার এনার্জি বা অল্টারনেট জেনারেশনের দিকে নজর দিতে হবে।’

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি একই সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম আর গায়ের জোরের পথে হাঁটা হয়, তবে আমরা আল্লাহর দেওয়া শক্তি দিয়ে সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।’

এদিন এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এটিএম মাহবুব ই ইলাহীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com