বুধবার, ০৬:১৫ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

জিয়াউলের অভিযানের ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহে ব্যর্থ তদন্ত কর্মকর্তা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে র‌্যাবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অভিযানে ১০৩ জনকে হত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে তিনটি পৃথক মামলায়। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের এসব মামলায় বিভিন্ন অভিযানে জিয়াউলের সংশ্লিষ্টতার ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, র‍্যাব-৮-এর আর্কাইভ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল নথি এবং জিয়াউল আহসান ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের চলাচল সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে জেরার সময় এসব কথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা এ মামলায় জিয়াউল আহসান একমাত্র আসামি। পঞ্চম দিনের মতো তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী সাহিদুর রহমান।

নিরাপত্তার স্বার্থে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। মামলায় প্রসিকিউশনের ১৫তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

জেরায় আইনজীবী সাহিদুর রহমান বিভিন্ন অভিযানের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়ে জানতে চান। জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তার বর্ণিত যেসব অভিযানে নির্বাহী তদন্ত হয়েছিল, সেগুলোর প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছেন। তবে ওই প্রতিবেদনগুলোতে জিয়াউল আহসানের নাম নেই। তার ভাষ্য, এসব প্রতিবেদন ছিল ‘ফরমায়েশি’।

অভিযানের প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হতো কি না, আইনজীবীর এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো, সেগুলোর প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। আর যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো না, সেগুলোর প্রতিবেদন পাঠানো হতো না।

তদন্তকালে র‍্যাব-৮-এর কার্যালয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, অভিযানের পক্ষে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল প্রমাণপত্র এবং জিয়াউল আহসান ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের চলাচল-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন।

তবে এসব তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি। এ ছাড়া তার বর্ণিত অভিযানে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের নাম এবং অভিযানে সম্পৃক্ত র‍্যাব সদস্যদের নাম সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও গিয়েছিলেন। তবে এ জন্য কোনো চাহিদাপত্র দেননি।

তদন্ত কর্মকর্তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী সাহিদুর রহমান দাবি করেন, রফিকুল ইসলাম কখনো র‍্যাব-৮ বা র‍্যাব সদর দপ্তরে যাননি। তবে আইনজীবীর এ দাবি নাকচ করে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এটি সত্য নয়।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। জবানবন্দিতে তিনি তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে কোথায় গেছেন, কী কী তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং সেসবের সঙ্গে মামলার অভিযোগের সম্পর্ক কী, তা তুলে ধরেন।

তিন মামলায় ১০৩ জনকে হত্যার অভিযোগ

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগেও একই সময়ে ৫০ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগ অনুযায়ী, বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।

এসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই দিন ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com