মঙ্গলবার, ০৭:১৬ অপরাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
গুলি করে মানুষ মেরে মেরে কিন্তু  জনগণের ক্ষোভ দমন করা যায় না: তথ্যমন্ত্রী স্বপন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে হরমুজ পাড়ি দিল ইরানি জাহাজ কলেজছাত্র হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮ বিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী ইতালির সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন করে বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হবে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন নকল ও প্রশ্নফাঁস হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কলেজছাত্র হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

ময়মনসিংহের তারাকান্দার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজছাত্র ইকবাল হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় দুই নারীকে ৭ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহের জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন দণ্ডপ্রাপ্তদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়ারা হলেন- একই গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী (৬২), তার ভাই মোহাম্মদ আলী (৫২), মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু (৫১) ও শামছুল হক (৪৪), মো. গোলাম হোসেনের ছেলে আসিফ রানা নাঈম (২৪), হাজী আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. আব্দুল হেলিম (৫১), মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু (১৯)। এ ছাড়া মোছা. খালেদা আক্তার ও মোছা. রেহেনা খাতুনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদÐ ও ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, শাহীনুর আলম ওরফে ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে তারাকান্দা উপজেলার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের সাজ্জাদ মিয়ার চায়ের দোকানে যান।

এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেন না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পাওয়া যাওয়ায় ইকবালের বাবা আব্দুর রউফ তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের ৫ দিন পর তারাকান্দা থানার পলাশকান্দা গ্রামের বাঁশঝাড়ের নিচে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে গলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী।

পরে ৫ জুন ২০২১ তারিখে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এরপর ২০২১ সালের ৬ জুন শাহীনুর আলম ওরফে ইকবালের ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে সন্দেহভাজন একই গ্রামের গোলাম হোসেনের পুত্র আসিফ রানা নাঈম ওরফে রানাসহ সঙ্গীয়দের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। সেলিম মিয়া মামলায় উল্লেখ করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের গোলাম হোসেনের পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এরই জেরে এ হত্যাকাণ্ড।

এরপর পুলিশ তদন্ত শেষে হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান করেন এবং দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই নারীকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালে ৩১ মে রাতে জমি নিয়ে পুর্ব বিরোধের জেরে ময়মনসিংহের তারাকান্দার মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রউফের ছেলে শাহীনুর আলম ইকবালকে (১৯) হত্যা করে পরিত্যাক্ত সেপটিক ট্যাঙ্কে পুঁতে রাখে। সন্দেহ দূর করার জন্য তার ওপর মরা শিয়াল ও গোবর ফেলে গাছ লাগিয়ে যায়।

নিখোঁজ ইকবালকে খোঁজাখুজির পর পাওয়া না গেলে বড় ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। ঘটনার ৫ দিন পর দুর্গন্ধে সন্দেহ হলে অভিযুক্তদের বাড়ির পাশে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে ইকবালের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com