মঙ্গলবার, ০২:০৫ অপরাহ্ন, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

পহেলা বৈশাখ: বাঙালির ঐক্য, সংস্কৃতি ও নবজাগরণের প্রতীক

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত

পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন, বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। এটি শুধু একটি উৎসব নয়, বরং বাঙালির ঐক্য, সংস্কৃতি ও নবজাগরণের প্রতীক। এই দিনটি আমাদের অতীতকে স্মরণ করিয়ে দেয়, বর্তমানকে উদ্‌যাপন করতে শেখায় এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন স্বপ্ন দেখায়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা এবং বিশ্বজুড়ে বসবাসরত বাঙালিরা উৎসবমুখর পরিবেশে এ দিনটি উদ্‌যাপন করেন।

বাংলা নববর্ষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রকৃতি, কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রার গভীর সম্পর্ক। বাংলা সনের সূচনা হয় সূর্যোদয়ের মাধ্যমে, যা এটিকে অন্যান্য সন থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্য প্রদান করে। ভোরের প্রথম আলোয় নতুন বছরকে বরণ করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব।

এর ইতিহাস মোগল আমলের সঙ্গে সম্পর্কিত। সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে ‘ফসলি সন’ প্রবর্তন করেন, যা পরবর্তীতে বাংলা সন হিসেবে পরিচিতি পায়। আমীর ফতেহউল্লাহ সিরাজীর উদ্যোগে তৈরি এই পঞ্জিকা ১৫৮৪ সালে চালু হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের মাধ্যমে বর্তমান বাংলা পঞ্জিকার রূপ নির্ধারিত হয়।

একসময় পহেলা বৈশাখ ছিল কৃষকদের খাজনা পরিশোধের দিন। জমিদারদের ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠান সামাজিক প্রথা হিসেবে পালিত হলেও তা ছিল দায়মুক্তির প্রতীক। সময়ের পরিবর্তনে এটি আজ আনন্দ ও উৎসবের রূপ নিয়েছে।

বর্তমানে পহেলা বৈশাখ মানেই রঙিন আয়োজন। ভোরে উদীয়মান সূর্যকে স্বাগত জানাতে মানুষ সমবেত হয়, শিল্পীদের পরিবেশনায় মুখরিত হয় পরিবেশ। লাল-সাদা পোশাক, ফুলের সাজ এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা-ইলিশ উৎসবকে করে তোলে আরও বর্ণিল।

এই উৎসবের আরেকটি দিক হলো এর সর্বজনীনতা। সমাজের সব স্তরের মানুষ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীও নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে এতে অংশ নেয়। পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজস্ব ঐতিহ্যে নববর্ষ উদ্‌যাপন করে।

তবে সময়ের সঙ্গে অনেক গ্রামীণ ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে। তবুও কিছু আঞ্চলিক উৎসব এখনো টিকে আছে। একই সঙ্গে ইলিশের চাহিদা বাড়ায় জাটকা নিধনের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬’ পালন করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এছাড়া, প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় সরকার ‘কৃষক কার্ড’ চালু করছে, যার মাধ্যমে তারা আর্থিকসহ নানা সুবিধা পাবেন।

নতুন বছরের প্রারম্ভে প্রত্যাশা—দেশ ও জাতির কল্যাণ, দেশপ্রেমের জাগরণ এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াক—এই হোক নববর্ষের অঙ্গীকার।

শুভ নববর্ষ!

লেখক : সিনিয়র তথ্য অফিসার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com