বৃহস্পতিবার, ১২:২৪ অপরাহ্ন, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

ঈদযাত্রায় সড়কপথে তীব্র চাপ, নৌপথে অস্বস্তি

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত

ঈদ সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যুক্ত মহাসড়কগুলোয় যেন এক যুদ্ধের ছবি ফুটে ওঠে। ভোরের আলো ফোটার আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইলসহ সব প্রধান রুটে গাড়ির চাকা থেমে থেমে চলছে। ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়ে ঘরমুখো পরিবারগুলোর দুর্ভোগ নিয়মিত দৃশ্য। বিশেষ করে পোশাক কারখানায় ছুটি শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে গাড়ির চাপ তীব্র হয়ে ওঠে। যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠে রেলস্টেশনও। যাত্রীরা ভিড় ঠেলে ট্রেনে উঠতে পারলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন কখন ট্রেন ছাড়বে। এ তুলনায় গত কয়েকদিন যাত্রা নির্বিঘ্ন ছিল নৌপথে। কিন্তু গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চের ধাক্কায় দুই যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা এবং পরপর দুদিন কালবৈশাখী ঝড় ওঠায় অস্বস্তি তৈরি হয়েছে নৌপথে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রথম ঈদ। বৈশ্বিক যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকট রয়েছে। এমন অবস্থায় ঘরমুখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন কিনা, সে শঙ্কা ছিল। আরেকটি ভয় ছিল সড়কপথের যানজট। সমস্ত শঙ্কা কাটিয়ে তুলনামূলক অনেকটা স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরছেন মানুষ।

দেশের ৬৪ জেলার মানুষের একটা অংশ রাজধানী ঢাকায় থাকেন। ব্যবসা বা চাকরি, শিক্ষা কিংবা চিকিৎসা- এ রকম নানা কারণেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নাগরিকরা এ শহরে অবস্থান করেন। ঈদ সামনে রেখে তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই থাকে বাড়ি ফেরার তাড়না। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার চিরাচরিত রূপ এবারও দেখা গেছে। টিকিট সংগ্রহ থেকেই শুরু হয় বাড়ি ফেরার যুদ্ধ। এর চূড়ান্ত রূপ বাধা ডিঙিয়ে সময়মতো বাড়িতে পৌঁছানো। এমন দৃষ্টান্তও আছে আগের রাতে রওনা হয়ে ঈদের নামাজ পথে সারতে হয়েছে। এবারের চিত্র তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক।

যাদের সুযোগ ছিল তারা আগেভাগেই পরিবার-পরিজনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া এবার ছুটিও মিলেছে লম্বা। গত মঙ্গলবার থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি শুরু। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০ বা ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্?যাপিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরে আগেই পাঁচ দিনের ছুটির তারিখ নির্ধারণ করে রেখেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পূর্বঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। আর ১৭ মার্চ শবেকদরের ছুটি মিলিয়ে টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

ঈদে মানুষের ভোগান্তি কমাতে টানা সাত দিনের ছুটি নিশ্চিতে বিভিন্ন মহল থেকে ১৮ মার্চ ছুটি দেওয়ার দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৮ মার্চ ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। পরে ৮ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওই দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপনও জারি করে। এতে করে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে আগ থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে।

গতকাল সকাল থেকেই ছিল গ্রামমুখী মানুষের ভিড়। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ সর্বত্র অতিরিক্ত যাত্রী। পোশাক কারখানা ছুটির কারণে দুপুরের পর এ চাপ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। মহাসড়কে গাড়ির চাপ ছিল অনেক বেশি। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইলসহ সব মহাসড়কেই গাড়ির চাপ ছিল। ভোর থেকে ট্রেনে ছিল উপচে পড়ে ভিড়। কোথাও তিল ধারণেই ঠাঁই নেই। ঈদযাত্রার সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল গতকাল।

অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলগামী যেসব মানুষ সময় নিয়ে বাড়ি যেতে চেয়েছেন, তারা ভরসা করেছেন লঞ্চে। সেখানেও তীব্র ভিড়। বছরের অন্য সময় লঞ্চের যাত্রী অভাব থাকলেও এখন যাত্রীঠাসা। সদরঘাট থেকে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ নৌরুটগুলোয় লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম, পরিবার-পরিজন নিয়ে আসন নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ভ্রমণ করছেন অনেকে। নিরাপত্তা ও পরিবহন তদারকিতে সরকার কঠোর ব্যবস্থায় থাকায় অতিরিক্ত যাত্রী বা ভিড়ের কারণে ঝামেলা তৈরি হয়নি। তবে গতকাল সদরঘাট টার্মিনালে দুর্ঘটনাটি মানুষের মধ্যে অস্তস্তি সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা।

এবারের ঈদে যাত্রী ও পরিবহন কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ছিল- দূরপাল্লার মানুষ কীভাবে যাবে বাড়িতে কারণ জ্বালানি সংকট পাম্পে। তবে সেই শঙ্কা কেটে যায় গণপরিবহনে জ্বালানি সরবরাহে সরকারের নির্দেশনা ও কঠোর তদারকির ফলে। ট্রেন, বাস ও লঞ্চে জ্বালানি সংকটের কারণে যাত্রী পরিবহন বন্ধ ছিল- এমন খবর কোথাও মেলেনি। সড়কপথে কিছু দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। আর রেলপথে বিশেষ করে গতকাল বগুড়ার শান্তাহারে ট্রেন দুর্ঘটনার খবরটি ছিল অপ্রত্যাশিত। ঘরমুখো মানুষ দুর্ঘটনায় পড়েন ওই ট্রেনে চেপে। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলফামারী অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার শান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। ওই ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে শিডিউল বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটে।

শেষ সময়ে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভিড় সামলাতে কিছুটা বেগ পেতে হলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। নির্ধারিত সময়েই ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, টিকিট কাউন্টারের সামনে ভিড়, প্ল্যাটফর্মে পরিবার-পরিজন নিয়ে অপেক্ষা- সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর কিন্তু ব্যস্ত পরিবেশ বিরাজ করেছে। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই স্টেশনে এসে অবস্থান নিয়েছেন, যাতে কোনো ঝামেলা ছাড়া ট্রেনে উঠতে পারেন। স্টেশনে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখতে রেল কর্তৃপক্ষও সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর রয়েছে এবং যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে যাত্রীরা বলছেন ভিন্নকথা। তাদের অভিযোগ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বাসের কর্মীরা। সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল সর্বত্র অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবশ্য বাস মালিকরা বলছেন, নির্ধারিত ভাড়ার কম আদায় করা সাধারণ সময়ে। ঈদে সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায়কে অতিরিক্ত হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, পরিবহন কর্মীরা ভাড়াডাকাতি করছে। প্রতিবছরই ঈদের আগে ও পরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। এর থেকে যেন কোনো প্রতিকার নেই।

গতকাল বুধবার রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সড়কমন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, সবাই নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছে। বরং দুয়েকটি পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ২০-৩০ টাকা কম নিচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক।

মন্ত্রী জানান, যাত্রীদের সেবায় গাবতলীসহ বিভিন্ন টার্মিনালে পুলিশ কন্ট্রোল রুম, ভিজিল্যান্স টিম এবং র?্যাবের কন্ট্রোল রুম সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট টাঙানো হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে যাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ করতে পারবেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বাসগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছেড়ে যাচ্ছে এবং যাত্রীরা কোনো হয়রানির শিকার হচ্ছেন না।

ঈদযাত্রায় জ্বালানি সংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ১৫ মার্চ রাত ১১টা থেকে গণপরিবহনে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। কোথাও কোনো জ্বালানির ঘাটতি নেই। তারপরও কেউ সমস্যায় পড়লে আমাদের হেল্পলাইন ১৬১০৭ কিংবা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে জানাতে পারবেন, বলেন তিনি। এ সময় তিনি আরও জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী মঙ্গলবার যমুনা সেতুতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩২ হাজার বেশি যানবাহন চলাচল করেছে, যা ঈদযাত্রার চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

অবৈধ বাস কাউন্টার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যত্রতত্র কাউন্টার খোলার কোনো সুযোগ নেই। ঈদের পর নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়ে এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং জোরদার করা হবে। এ সময় তিনি বাস মালিকদের নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও কাউন্টার না খোলার আহ্বান জানান।

ঢাকার স্থানীয় পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল নবীনগর ও বাইপাইলে ১০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চিটাগং রোডেও কয়েকটি পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- যোগ করেন তিনি।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করছে জানিয়ে সড়কমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক টিম প্রস্তুত রেখেছি। যেকোনো অনিয়ম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। যানজট পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভোরে চন্দ্রা এলাকায় সামান্য যানজট সৃষ্টি হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে সব রুটে স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে যান চলাচল করছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বিআরটিসির গাবতলী বাস ডিপো পরিদর্শন করেন এবং ঈদ উপলক্ষে ‘বিআরটিসি ঈদ স্পেশাল সার্ভিস ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন। পরে তিনি আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজও পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতা এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা গাবতলী বাস টার্মিনাল কম ব্যবহার করেন। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে বাস ছাড়ে। এ কারণে এই টার্মিনালে চাপ কিছুটা কম থাকে। তা ছাড়া এবার ছুটি বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ রাজধানী ছাড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। ঈদ আসন্ন হলেও মূলত এসব কারণে টার্মিনালে যাত্রীর চাপ কিছুটা কম।

সড়কপথে চাপ বেশি থাকায় অনেকেই ঝামেলা এড়াতে নৌপথ বেছে নিচ্ছেন। সদরঘাট থেকে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে একের পর এক লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। লঞ্চে যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম থাকায় স্বস্তিতে যাত্রা করছেন অনেকে। পরিবার নিয়ে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অনেকেই নৌপথকে বেছে নিচ্ছেন। যদিও গতকাল লঞ্চের ধাক্কায় সদরঘাটে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, দূরপাল্লার যাত্রীরা পরিবার নিয়ে অনেক আগেই ঘাটে পৌঁছে গেছেন। কেউ টিকিট কাটছেন, কেউ মালপত্র গুছিয়ে লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যাত্রীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা আসন নিশ্চিত করতে ভিড় জমিয়েছেন। পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুরের মতো স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরাও নির্ধারিত লঞ্চ ধরে রওনা দিচ্ছেন।

যাত্রীরা জানিয়েছেন, অন্য সময়ের মতো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রবণতা এবার তেমন নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নেওয়া হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, ১০০টির ও বেশি লঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে ঘাটে যেগুলো পর্যায়ক্রমে ছেড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন গন্তব্যে। ভাড়া নেওয়া হচ্ছে সরকারি নির্ধারিত চেয়ে ১০ শতাংশ কম।

এদিকে ঈদ ঘিরে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নেই ভোগান্তি। নির্বিঘ্নেই পারাপার হচ্ছেন ঘরমুখো মানুষ। গতকাল ভোর থেকেই রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। ঈদের ছুটি শুরু হতেই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ফেরার জন্য যাত্রীরা আগেভাগে ঘাটে চলে আসছেন। প্রতিটি লঞ্চ যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে ছেড়ে যাচ্ছে, তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কঠোর নজরদারিতে রেখেছে যেন কোনো লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে না ছাড়ে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম আব্দুস সালাম বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষ ঘাট অভিমুখে ছুটে আসছে তবে আমরা প্রস্তুত আছি নির্বিঘ্নে নৌপথ পারাপারে। এই ঈদে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি চালু রয়েছে।

ট্রেন দুর্ঘটনা কমানো ও দুর্ভোগ এড়াতে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে বগুড়ার সান্তাহারে দুর্ঘটনার শিকার ট্রেনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও দুর্ভোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি দ্রুত উদ্ধার এবং যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সেখানকার পরিস্থিতি জানতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর, দুর্ঘটনায় আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন দ্রুত উদ্ধার, যোগাযোগ পুনরায় সচল এবং যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com