কলম্বোয় ঝুমবৃষ্টি। তাই আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে পাকিস্তানের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি গতকাল বাতিল হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৭ ফেব্রুয়ারি টি২০ বিশ্বকাপ শুরুর প্রথম দিন শ্রীলঙ্কার এই শহরেই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে সালমান আগার দল। তবে এখনও অনিশ্চিত তাদের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি। সেই যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স হ্যান্ডল থেকে ভারতের সঙ্গে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তার পর পিসিবির পক্ষে থেকে কোনো ধরনের মন্তব্য বা বিবৃতি আসেনি। আর সেটাই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ফেলে দিয়েছে আইসিসিকে। কেননা পাকিস্তান সরকার নয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি আইসিসির। এখন তারা যদি অফিসিয়ালি এটা না জানায় যে, ভারতের সঙ্গে ১৫ ফেব্রুয়ারির ওই ম্যাচটি খেলবে না পাকিস্তান, তাহলে আইসিসিও কোনো পদক্ষেপ বা বোর্ড মিটিং ডাকতে পারছে না। কেননা, তাদের ধরেই নিতে হবে ‘গেম অন’। তবে পাকিস্তান সরকারের ওই বার্তা আমলে নিয়ে আইসিসি থেকেও বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। যেখানে সংস্থাটি হুমকির সুরেই লিখেছে– ‘পিসিবি নিজ দেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করবে।’ তবে এখনও পর্যন্ত পিসিবি এই ব্যাপারে নীরব। তাই ‘পেছনের দরজা’ দিয়ে আইসিসি এখন পিসিবিকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবর, আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান সিঙ্গাপুর ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ইমরান খাজাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পিসিবির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার। ইমরান খাজা সিঙ্গাপুরের সাবেক ক্রিকেটার ছাড়াও পেশায় একজন আইনজীবী। ‘শান্তিদূত’ হয়ে তিনিই এখন পিসিবিকে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি ও নিষেধাজ্ঞার ব্যাপার নিয়ে সতর্ক করেছেন।
আইসিসির এই কর্মকর্তা নাকি পিসিবিকে জানিয়েছেন, যদি সত্যি সত্যিই তারা ভারতের ম্যাচটি বয়কট করে, তাহলে বিশ্বকাপের ব্রডকাস্ট সংস্থা ‘জিওস্টার’ তাদের বিপক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেবে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবর, ভারত ম্যাচটি বর্জন করলে আইসিসি তাদের বার্ষিক অনুদান থেকে পাকিস্তানের ৩৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার কেটে রাখতে পারে। তবে পাকিস্তানের জিও টিভির খবর, আইসিসি এই ধরনের জরিমানা বা রাজস্ব কেটে রাখতে পারে না। সেখানে আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানির বক্তব্য প্রকাশ করে বলা হয়েছে, গত বছর ভারতও তাদের সরকারের আপত্তি জানিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পাকিস্তানে খেলতে যায়নি। এ ক্ষেত্রে ফোর্স ম্যাজিউর বা অনিবার্য পরিস্থিতির হিসেব বিবেচনা করা যেতে পারে। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর একটি প্রতিবেদনে এই ব্যাপারটি নিয়েও দুই আইনজীবী নন্দন কামাথ ও রেজা আলির সঙ্গে কথা বলে কিছু বিশ্লেষণ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, ফোর্স ম্যাজিউর হলো অংশগ্রহণ চুক্তির একটি আইনি ধারা। এর ১২ নম্বর ধারায় উল্লেখ আছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে এর অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। অর্থাৎ, কেবল এসব ঘটনা ঘটলেই কেউ ‘অনিবার্য পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে ম্যাচ বর্জন বা বাতিল হতে পারে। তবে এই ধারায় সরকারি কোনো নির্দশনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে এই ব্যাপারটি পিসিবিকে অবশ্যই আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানাতে হবে। এবং সরকারের লিখিত আদেশের কপিও দিতে হবে।