শুক্রবার, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
২ বছরের সম্পর্কের পর অনন্যা-ওয়াকার বিচ্ছেদ! বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডসে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ইংল্যান্ড ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না : রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ খুলনায় ভাড়া বাসায় মিলল অস্ত্রসহ একাধিক চেকবই, হেফাজতে স্বামী-স্ত্রী-ছেলে ১০ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই ও ৪০০ সার্জেন্ট নিয়োগ করা হবে প্রস্তাব পেলে মক্কা প্যাক্টে যোগদানে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাহিত্যের আলোয় নতুন পথচলা, দক্ষিণবঙ্গ সাহিত্য পরিষদের গৌরনদী উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ গৌরনদীতে বেদে পল্লীতে দু’গ্রুপে হামলা-পাল্টা হামলা, ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ॥ ৫ নারীসহ আহত ১৫ 

নির্বাচনে অযোগ্য হচ্ছেন আ.লীগের শীর্ষ নেতারা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৬ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর সর্বশেষ সংশোধনের ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল হলেই অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। রায় না হলেও অভিযোগ গৃহীত হওয়ার মুহূর্ত থেকেই এই বিধান কার্যকর হবে।

আইনের ২০(সি) ধারা সংশোধন করে গত সোমবার অধ্যাদেশ আকারে গেজেট প্রকাশ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। সংশোধনী অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গৃহীত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জাতীয় সংসদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে বা সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না। তবে ট্রাইব্যুনালে অব্যাহতি বা খালাসপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংশোধিত আইনের ফলে এরই মধ্যে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গৃহীত হয়েছে, তাঁরা নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আগামী নভেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের কমপক্ষে ১২ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তালিকায় রয়েছেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মনির হোসেন।

এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, কামরুল ইসলাম, ফারুক খান, দীপু মনি, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, আব্দুর রাজ্জাক, সোলায়মান সেলিম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ একাধিক সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেও ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আগামী জানুয়ারিতে ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল হতে পারে বলে প্রসিকিউশন থেকে জানা যায়।

ট্রাইব্যুনালে হাসানুল হক ইনু ও ডা. দীপু মনির পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন আইনজীবী আবুল হাসান। তিনি বলেন, কোনো মামলায় অভিযোগ দাখিল মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। রায় না হওয়া পর্যন্ত একজন আসামিকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা আইন ও সংবিধানের মৌলিক নীতি। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সেই নীতি লঙ্ঘিত হচ্ছে।

এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দলীয় সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না- তা যাচাইয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দল হিসেবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হলো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার এই বিধান বাংলাদেশের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তের দোষ প্রমাণিত না হলেও তাঁদের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করে, এটি অভিযুক্ত ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ও আইনি প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, অন্যদিকে অন্য অংশের মতে, গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ রোধ করাই গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা রক্ষার অংশ।

ফলে এই সংশোধন শুধু বিচারিক ক্ষেত্রেই নয়, আসন্ন নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com