মানবিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে কর্মগুনে বরিশালের গৌরনদী উপজেলাবাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আব্দুল্লাহ খান। গত ১৭ এপ্রিল ২০২৫ তাকে এ উপজেলা থেকে অন্যত্র বদলী করা হয়। তার বদলী ঠেকাতে উপজেলা চত্বরে সমাবেশ করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছিলেন। তাতে প্রত্যাহার হয়নি বদলীর আদেশ।
পরবর্তীতে উপজেলায় নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন বিসিএস ৩৬ ব্যাচের অফিসার রিফাত আরা মৌরি। যোগদানের পর পর থেকেই আইন শৃংখলার উন্নতির পাশাপাশি উপজেলা ও পৌর এলাকা এবং গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডের সার্বিক উন্নয়নে কাজ শুরু করে অল্প সময়ের মধ্যে শেষেও করেন। জনকল্যানমুখী কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে মানবতায় জনমানুষের মনে স্থান করে নেন তিনি। তবে যোগদানের ৫ মাস যেতে না যেতেই গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রিফাত আরা মৌরি ঝালকাঠীর রাজাপুরে বদলী করা হয়েছে। বুধবার তার শেষ কর্ম দিবসে উপজেলা অফিসার্স ক্লাব থেকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত আরা এর বদলীর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরার পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোস দেখা দিয়েছে। ৫ মাসের ব্যবধানে দুইজন সমান জনপ্রিয় ইউএনও বদলী’র ঘটনাকে অস্বাভাবিক হিসেবে বর্ননা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন অনেকেই। “ভাল মানুষ গৌরনদীতে এসে বেশিদিন থাকতে পারেনা” বলে অনেকই মন্তব্য করেছেন। তবে ওই দুই ইউএনও’র বদলী প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ভাবে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় প্রশাসন।
এবিষয়ে ঐতিহ্যবাহী গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহবায়ক সিনিয়র সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম বলেন গৌরনদীর মানুষকে যারা আপন করে নেন এবং গৌরনদীকে যারা নিজের গৌরনদী মনে করে কাজ করেন। একের এক তারাই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশে কিংবা নিজেরাই তদবির করে গৌরনদী ছেড়ে চলে যান। হয়তো আমরা গৌরনদীবাসি তাদের মর্যদা দিতে পারি না বিধায় এ যাওয়া। এত অল্প সময়ে অফিসারদের বদলী মেনে নিতে কষ্ট হয়। তাপরেও সরকারি আদেশ মেনে নিতে হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..