রাজধানীর উত্তরখানে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর পূর্বে সংঘটিত হামলার স্থান পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ রোববার ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত একটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দুপুরের দিকে স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যান ডিএনসিসি প্রশাসক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।
ডিএনসিসির দাবি, এর আগে এসটিএসে দায়িত্ব পালনরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর নেপচুন অ্যাকসেসরিজ গার্মেন্টসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হামলা চালিয়েছিল।
আজ রোববার সকালের ওই ঘটনার পর প্রশাসক, সংসদ সদস্য, স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পুলিশের অন্যান্য সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও গার্মেন্টস কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয় এবং সেখানে উপস্থিত অবস্থায় ‘ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা’ প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপর হামলা চালায়, এতে কয়েকজন আহত হন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।
ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ কারখানার মালিকপক্ষের একজনসহ তিনজনকে আটক করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুলিশ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পরে ডিএনসিসি প্রশাসক ও সংসদ সদস্য উত্তরার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে গিয়ে আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রশাসক বলেছেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে দিনের শুরুতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর প্রাথমিক হামলায় ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে চারজন গুরুতর আহত হওয়ায় চিকিৎসার জন্য তাদের কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।
এ বিষয়ে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুই-একটা ইট-পাটকেল মারার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কয়েকজন হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে, এবংসিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা হলে আটকদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।