বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বাগামারা গ্রামে ঋণের কিস্তি পরিশোধকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তাঁর স্বজনদের মারধর, চুরির অপবাদ দিয়ে হয়রানি এবং শিশুসন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোসা. চম্পা আক্তার (৩০) গত ১১ আগস্ট গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে বাগামারা গ্রামের মো. রুবেল ফরিয়ার সঙ্গে চম্পা আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী প্রবাসে থাকায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন চম্পা।
চম্পার অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে শ্বশুর মো. আলম ফরিয়া ও স্বামী রুবেল ফরিয়ার চাপের মুখে তিনি বার্থী শাখার ব্র্যাক ব্যাংক থেকে চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দেন। কিন্তু ঋণের কিস্তি পরিশোধে তাঁরা সহযোগিতা করেননি। এদিকে প্রবাসে থাকা স্বামীও তাঁর খরচ ও খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেন। পরে বাধ্য হয়ে চম্পা বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে ঋণের পাঁচটি কিস্তি পরিশোধ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১১ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চম্পার ননদ মোসা. রুমা আক্তার ও ফাহিমা আক্তার তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। পরে শিশুসন্তানসহ তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চম্পার দাবি, একই দিন রাত সোয়া ৭টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাঁর স্বজন ও কয়েকজন সাক্ষী শ্বশুরবাড়িতে গেলে সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর স্বজনদের ওপর হামলা চালান এবং তাঁদের বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করেন। এতে কয়েকজন শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে নীলফোলা জখম হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় ঘর কুপিয়ে ঘরের আসবাবপত্র, প্লাস্টিকের ঝুড়ি, বালতি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তছনছ করে ফেলা হয়। পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন চম্পা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে। তাঁরা অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..