মঙ্গলবার, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

রাশিয়ার সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, তিন শিশুসহ নিহত ৭

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণসাগর উপকূলের একটি জনাকীর্ণ সমুদ্রসৈকতে ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে তিন শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

সোমবার ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ এ তথ্য জানিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি ইউক্রেন। দুই দেশই বরাবরের মতো দাবি করে আসছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং বিবিসি যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন দ্রুতগতিতে পাহাড়ঘেঁষা উপকূলের দিকে ছুটে এসে নিচে সৈকতে বিস্ফোরিত হয়। সে সময় সৈকত ও সমুদ্রে অসংখ্য পর্যটক অবস্থান করছিলেন।

ড্রোনটির মূল লক্ষ্য কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইউক্রেনপন্থী কয়েকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের দাবি, রাশিয়ার ইলেকট্রনিক জ্যামিং ব্যবস্থার কারণে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৈকতে আছড়ে পড়ে। অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী রুশ গণমাধ্যমকে জানান, বিস্ফোরণের আগে তারা গুলির শব্দ শুনেছিলেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটি ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছিল।

হামলাটি ঘটে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রামের একটি সৈকতে। উষ্ণ আবহাওয়া, দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত এবং উন্নত পর্যটন অবকাঠামোর কারণে এলাকাটি রাশিয়ানদের কাছে জনপ্রিয় অবকাশযাপন কেন্দ্র। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশ ভ্রমণ সীমিত হয়ে যাওয়ার পর অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের কাছে এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, হামলার আগে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়নি।

একজন পর্যটক জানান, ‘আমরা সৈকতের চেয়ার দিয়ে নিজেদের ঢেকে ফেলেছিলাম। কোথায় বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটাই বুঝতে পারিনি।’

আরেকজন বলেন, ‘ড্রোনটি পড়তে দেখিনি, তবে মেশিনগানের মতো গুলির শব্দের পরই একটি বড় বিস্ফোরণ শুনেছি।’

অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘সবকিছু আমার সন্তানদের সামনেই ঘটেছে। ভয়ে আমার শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।’

গত এক বছরে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। কিয়েভের দাবি, এসব হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত গুদামঘর লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে এসব হামলায় বিভিন্ন সময়ে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ সপ্তাহান্তে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে অন্তত আটজন নিহত হন।

অন্যদিকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। এতে হাজারো বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন বিশেষভাবে রাশিয়ার বৃহৎ অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ হামলায় মস্কোর পূর্বে ভ্লাদিমির অঞ্চলের একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কিয়েভের দাবি, ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলো রুশ সেনাবাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে মস্কো।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com